যশোরের মণিরামপুরে বাদুড়ের মাংস খেয়ে একই পরিবারের ৬ সদস্য অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। শনিবার (২১ ডিসেম্বর) বিকেলে মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে তাদের যশোর জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক কৌতূহল ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
অসুস্থদের পরিচয়
হাসপাতালে চিকিৎসাধীনরা হলেন— বাহাদুরপুর গ্রামের শুভাস দাসের তিন ছেলে সখি দাস, ইন্দ্রজিৎ দাস ও প্রসেনজিৎ দাস, প্রসেনজিতের ছেলে হৃদয় দাস, ভাগ্নে অজয় দাস এবং শ্বশুর রবিন দাস।
অসুস্থদের পরিবার জানায়, শনিবার রাতে তারা সবাই মিলে বাদুড়ের মাংস খান। এর আগেও তারা বেশ কয়েকবার বাদুড়ের মাংস খেলেও কখনো সমস্যা হয়নি। তবে এবার খাওয়ার পর থেকেই একে একে সবাই অসুস্থ হয়ে পড়েন।
তবে এই অসুস্থতার পেছনে তারা ভিন্নধর্মী এক অভিযোগ তুলেছেন। পরিবারের দাবি:
* ঘটনার দিন দুপুরে বাড়িতে এক ‘ফকির’ এসেছিলেন, যার পর থেকেই বাড়িতে অস্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরি হয়।
* তাদের সন্দেহ, ব্যবসার টাকা রাখা একটি ‘সাব-বাক্স’ হাতিয়ে নিতে তাদের ওপর ‘কালো জাদু’ করা হয়ে থাকতে পারে।
* পরিবারের সদস্যদের দাবি, ওই সাব-বাক্সের কাছে গেলেই অনেকে জ্ঞান হারাচ্ছিলেন বা অসুস্থ বোধ করছিলেন।
যশোর জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসকরা জানান, রোগীরা হাসপাতালে আসার সময় পুরোপুরি অচেতন ছিলেন না, তবে তারা তীব্র শারীরিক অস্বস্তি বোধ করছিলেন। প্রাথমিকভাবে বিষয়টিকে ‘ফুড পয়জনিং’ (খাদ্যে বিষক্রিয়া) বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বাদুড় নিপাহ ভাইরাসসহ নানা রোগের বাহক হওয়ায় বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। উন্নত পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরই প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
একই সঙ্গে পরিবারের সবার অসুস্থ হওয়া এবং পরিবারের পক্ষ থেকে ‘কালো জাদু’র দাবি তোলায় গ্রামজুড়ে রহস্য তৈরি হয়েছে। অনেকেই ধারণা করছেন, খাবারের সাথে পরিকল্পিতভাবে কোনো চেতনানাশক বা বিষাক্ত কিছু মেশানো হতে পারে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন





















