০৯:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পাকিস্তানে ভারতের হামলা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০২:০১:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ৬৭৬

জম্মু-কাশ্মীরের পেহেলগাঁওয়ে হামলার জেরে পাকিস্তান ভূখণ্ডে ভারতের সামরিক অভিযানকে আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন বলে সতর্ক করেছেন জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা। গত ১৬ অক্টোবর প্রস্তুতকৃত এবং সম্প্রতি (১৫ ডিসেম্বর) জনসমক্ষে আসা এক প্রতিবেদনে এই পর্যবেক্ষণ তুলে ধরা হয়েছে।
জাতিসংঘের পাঁচজন বিশেষ র‌্যাপোর্টিউর এবং একজন নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞের সমন্বয়ে গঠিত এই প্যানেল দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের এই পদক্ষেপকে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও কোটি কোটি মানুষের মানবাধিকারের জন্য বড় হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

১৭ পৃষ্ঠার ওই প্রতিবেদনে বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন, ভারতের সামরিক প্রতিক্রিয়া জাতিসংঘ সনদ, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন এবং বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক চুক্তিগুলোর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ভারত ‘অপারেশন সিঁদুর’ নামে পাকিস্তানের অভ্যন্তরে ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান হামলা চালিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, যাতে অন্তত এক ডজন মানুষ নিহতের দাবি করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা স্পষ্টভাবে বলেন, পেহেলগাঁও হামলায় পাকিস্তানের সরাসরি জড়িত থাকার বিষয়ে ভারত এখন পর্যন্ত কোনো নির্ভরযোগ্য বা প্রকাশযোগ্য প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেনি।
জাতিসংঘের ৫১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কোনো রাষ্ট্র আত্মরক্ষার্থে বলপ্রয়োগ করলে নিরাপত্তা পরিষদকে অবহিত করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। প্রতিবেদন অনুসারে:
* ভারত সীমান্ত পেরিয়ে অভিযান চালালেও জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি।
* আসন্ন সশস্ত্র হামলার বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ ছাড়া অন্য রাষ্ট্রের সীমানায় অভিযান চালানো আন্তর্জাতিক নীতির পরিপন্থী।
* প্রমাণহীন এই হামলা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনে স্বীকৃত ‘জীবনাধিকারের’ ওপর সরাসরি আঘাত।
সিন্ধু পানি চুক্তি নিয়ে উদ্বেগ
প্রতিবেদনের একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ১৯৬০ সালের ‘সিন্ধু পানি চুক্তি’ স্থগিত রাখার বিষয়ে ভারতের ঘোষণা। ১৯ সেপ্টেম্বর স্বাক্ষরিত এই ঐতিহাসিক চুক্তির ওপর পাকিস্তানের কোটি কোটি মানুষের কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা ও জীবিকা নির্ভরশীল। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন:
* একতরফাভাবে চুক্তি স্থগিত করা আন্তর্জাতিক সহযোগিতার নীতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
* নিরাপদ পানীয় জল ও স্যানিটেশন একটি মৌলিক অধিকার, যা বিঘ্নিত হলে পাকিস্তানে মানবিক বিপর্যয় দেখা দিতে পারে।
জাতিসংঘের সন্ত্রাসবাদ দমন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এবং নিরাপদ পানি অধিকার বিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধিরা যৌথভাবে এই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা ভারতকে আন্তর্জাতিক আইনের শাসন মেনে চলার এবং যেকোনো সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে মানবিক ও পরিবেশগত প্রভাব বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন।

সর্বাধিক পঠিত

মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত ইমদাদুল হক ইমদাদ, বড় আঁচড়ায় আবারও গণসংযোগ

পাকিস্তানে ভারতের হামলা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন

আপডেট: ০২:০১:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ ডিসেম্বর ২০২৫

জম্মু-কাশ্মীরের পেহেলগাঁওয়ে হামলার জেরে পাকিস্তান ভূখণ্ডে ভারতের সামরিক অভিযানকে আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন বলে সতর্ক করেছেন জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা। গত ১৬ অক্টোবর প্রস্তুতকৃত এবং সম্প্রতি (১৫ ডিসেম্বর) জনসমক্ষে আসা এক প্রতিবেদনে এই পর্যবেক্ষণ তুলে ধরা হয়েছে।
জাতিসংঘের পাঁচজন বিশেষ র‌্যাপোর্টিউর এবং একজন নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞের সমন্বয়ে গঠিত এই প্যানেল দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের এই পদক্ষেপকে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও কোটি কোটি মানুষের মানবাধিকারের জন্য বড় হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

১৭ পৃষ্ঠার ওই প্রতিবেদনে বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন, ভারতের সামরিক প্রতিক্রিয়া জাতিসংঘ সনদ, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন এবং বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক চুক্তিগুলোর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ভারত ‘অপারেশন সিঁদুর’ নামে পাকিস্তানের অভ্যন্তরে ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান হামলা চালিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, যাতে অন্তত এক ডজন মানুষ নিহতের দাবি করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা স্পষ্টভাবে বলেন, পেহেলগাঁও হামলায় পাকিস্তানের সরাসরি জড়িত থাকার বিষয়ে ভারত এখন পর্যন্ত কোনো নির্ভরযোগ্য বা প্রকাশযোগ্য প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেনি।
জাতিসংঘের ৫১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কোনো রাষ্ট্র আত্মরক্ষার্থে বলপ্রয়োগ করলে নিরাপত্তা পরিষদকে অবহিত করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। প্রতিবেদন অনুসারে:
* ভারত সীমান্ত পেরিয়ে অভিযান চালালেও জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি।
* আসন্ন সশস্ত্র হামলার বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ ছাড়া অন্য রাষ্ট্রের সীমানায় অভিযান চালানো আন্তর্জাতিক নীতির পরিপন্থী।
* প্রমাণহীন এই হামলা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনে স্বীকৃত ‘জীবনাধিকারের’ ওপর সরাসরি আঘাত।
সিন্ধু পানি চুক্তি নিয়ে উদ্বেগ
প্রতিবেদনের একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ১৯৬০ সালের ‘সিন্ধু পানি চুক্তি’ স্থগিত রাখার বিষয়ে ভারতের ঘোষণা। ১৯ সেপ্টেম্বর স্বাক্ষরিত এই ঐতিহাসিক চুক্তির ওপর পাকিস্তানের কোটি কোটি মানুষের কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা ও জীবিকা নির্ভরশীল। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন:
* একতরফাভাবে চুক্তি স্থগিত করা আন্তর্জাতিক সহযোগিতার নীতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
* নিরাপদ পানীয় জল ও স্যানিটেশন একটি মৌলিক অধিকার, যা বিঘ্নিত হলে পাকিস্তানে মানবিক বিপর্যয় দেখা দিতে পারে।
জাতিসংঘের সন্ত্রাসবাদ দমন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এবং নিরাপদ পানি অধিকার বিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধিরা যৌথভাবে এই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা ভারতকে আন্তর্জাতিক আইনের শাসন মেনে চলার এবং যেকোনো সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে মানবিক ও পরিবেশগত প্রভাব বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন।