০৫:০৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬

বালাম টেম্পারিংয়ের পাঁচ দিন পার: যশোর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে অভিযুক্তরা বহাল তবিয়তে, ব্যবস্থা নেয়নি কর্তৃপক্ষ

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৩:৩৮:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ৫৯১

যশোর সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের রেকর্ড রুমে গুরুত্বপূর্ণ দলিলের বালাম টেম্পারিংয়ের ঘটনা পাঁচ দিন আগে জানাজানি হলেও এখনও পর্যন্ত জড়িতদের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে অভিযুক্ত নকলনবিশরা বহাল তবিয়তে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন, যা রেজিস্ট্রি অফিসের অন্যান্য কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র জল্পনা ও অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে।
গত ২৬ নভেম্বর যশোরের ঝিকরগাছা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের ১৯৯৩ সালের ৮৬৮ নম্বর দলিলের নকল তুলতে এসে টেম্পারিংয়ের ঘটনাটি ধরা পড়ে। দেখা যায়, দলিলের বালাম বইতে দাগ নম্বর ৫৮০-এর স্থানে টেম্পারিং করে ৫৮৪ নম্বর করা হয়েছে।
দলিলের এই বালাম বইটি রেকর্ড রুম থেকে বের করে এনেছিলেন নকলনবিশ সাজ্জাদুল ইসলাম। ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর অফিসজুড়ে হইচই শুরু হয়। নকলনবিশ সাজ্জাদুল এই টেম্পারিংয়ের বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে দাবি করলেও, অফিসের একাধিক সূত্র জানায়, ২৫ নভেম্বর অপর নকলনবিশ তরিকুল ইসলাম ওই বালাম বইটি বের করেছিলেন। সূত্রগুলোর অভিযোগ, সাজ্জাদ ও তরিকুল মিলেই টেম্পারিংয়ের ঘটনাটি ঘটিয়েছেন।
গত ২ ডিসেম্বর দৈনিক ‘গ্রামের কাগজ’-এ এ সংক্রান্ত তথ্যবহুল সংবাদ প্রকাশিত হলে বিষয়টি জেলা রেজিস্টার ও সাব-রেজিস্ট্রারের নজরে আসে। রেজিস্ট্রি অফিস সূত্রে জানা যায়, সাব-রেজিস্ট্রার আমেনা বেগম বিষয়টি লিখিতভাবে জেলা রেজিস্টারকে অবহিতও করেছেন। তবে জড়িত দুই নকলনবিশ এখনো কোনো শাস্তি বা বরখাস্ত ছাড়াই তাদের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
কর্মচারীরা আশঙ্কা করছেন, এ ধরনের গুরুতর অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া হলে রেকর্ড রুমের বালাম বইসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নথি চরম ঝুঁকিতে পড়বে।
দীর্ঘদিনের অভিযোগ: বালাম ছেঁড়া থেকে ওভার রাইটিং
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, বালাম টেম্পারিংয়ের ঘটনা যশোরে নতুন নয়।
* বালাম টেম্পারিং
* বালামের পাতা ছেঁড়া
* প্রকৃত মালিকের নাম পরিবর্তন করে ভূমি দস্যুদের নাম বসানো
* দলিলের পাতায় ওভার রাইটিং করে হয়রানি করা—সহ নানা রকম অনিয়ম চলে আসছে।
অভিযোগ রয়েছে, এসব অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িতরা চিহ্নিত হলেও আজ পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে কোনো কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। প্রথমে সাময়িক বরখাস্ত বা নোটিশ জারি করা হলেও পরে সেসব তদন্ত ধামাচাপা পড়ে যায়।
ভুক্তভোগীরা প্রায়ই রেজিস্ট্রি অফিসে এসে অভিযোগ করেন, কীভাবে তাদের দলিল টেম্পারিং হলো বা কেনই বা তাদের নকল দেওয়া যাবে না। এসব দুর্নীতিবাজ কর্মচারীরা এসব অনিয়ম করে ‘জিরো থেকে হিরো’ বনে যান।
জেলা রেজিস্টারের আশ্বাস
এ বিষয়ে গতকাল জেলা রেজিস্টারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ছুটিতে থাকায় তিনি বিষয়টি নিয়ে এগুতে পারেননি। তবে তিনি আশ্বাস দেন, দ্রুতই জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সর্বাধিক পঠিত

বেনাপোলে সোনা, ডলার ও ওষুধ চোরাচালানের ‘ডন’ ইকরামুলের বিরুদ্ধে বিজিবির মামলা

বালাম টেম্পারিংয়ের পাঁচ দিন পার: যশোর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে অভিযুক্তরা বহাল তবিয়তে, ব্যবস্থা নেয়নি কর্তৃপক্ষ

আপডেট: ০৩:৩৮:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ ডিসেম্বর ২০২৫

যশোর সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের রেকর্ড রুমে গুরুত্বপূর্ণ দলিলের বালাম টেম্পারিংয়ের ঘটনা পাঁচ দিন আগে জানাজানি হলেও এখনও পর্যন্ত জড়িতদের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে অভিযুক্ত নকলনবিশরা বহাল তবিয়তে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন, যা রেজিস্ট্রি অফিসের অন্যান্য কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র জল্পনা ও অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে।
গত ২৬ নভেম্বর যশোরের ঝিকরগাছা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের ১৯৯৩ সালের ৮৬৮ নম্বর দলিলের নকল তুলতে এসে টেম্পারিংয়ের ঘটনাটি ধরা পড়ে। দেখা যায়, দলিলের বালাম বইতে দাগ নম্বর ৫৮০-এর স্থানে টেম্পারিং করে ৫৮৪ নম্বর করা হয়েছে।
দলিলের এই বালাম বইটি রেকর্ড রুম থেকে বের করে এনেছিলেন নকলনবিশ সাজ্জাদুল ইসলাম। ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর অফিসজুড়ে হইচই শুরু হয়। নকলনবিশ সাজ্জাদুল এই টেম্পারিংয়ের বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে দাবি করলেও, অফিসের একাধিক সূত্র জানায়, ২৫ নভেম্বর অপর নকলনবিশ তরিকুল ইসলাম ওই বালাম বইটি বের করেছিলেন। সূত্রগুলোর অভিযোগ, সাজ্জাদ ও তরিকুল মিলেই টেম্পারিংয়ের ঘটনাটি ঘটিয়েছেন।
গত ২ ডিসেম্বর দৈনিক ‘গ্রামের কাগজ’-এ এ সংক্রান্ত তথ্যবহুল সংবাদ প্রকাশিত হলে বিষয়টি জেলা রেজিস্টার ও সাব-রেজিস্ট্রারের নজরে আসে। রেজিস্ট্রি অফিস সূত্রে জানা যায়, সাব-রেজিস্ট্রার আমেনা বেগম বিষয়টি লিখিতভাবে জেলা রেজিস্টারকে অবহিতও করেছেন। তবে জড়িত দুই নকলনবিশ এখনো কোনো শাস্তি বা বরখাস্ত ছাড়াই তাদের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
কর্মচারীরা আশঙ্কা করছেন, এ ধরনের গুরুতর অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া হলে রেকর্ড রুমের বালাম বইসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নথি চরম ঝুঁকিতে পড়বে।
দীর্ঘদিনের অভিযোগ: বালাম ছেঁড়া থেকে ওভার রাইটিং
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, বালাম টেম্পারিংয়ের ঘটনা যশোরে নতুন নয়।
* বালাম টেম্পারিং
* বালামের পাতা ছেঁড়া
* প্রকৃত মালিকের নাম পরিবর্তন করে ভূমি দস্যুদের নাম বসানো
* দলিলের পাতায় ওভার রাইটিং করে হয়রানি করা—সহ নানা রকম অনিয়ম চলে আসছে।
অভিযোগ রয়েছে, এসব অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িতরা চিহ্নিত হলেও আজ পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে কোনো কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। প্রথমে সাময়িক বরখাস্ত বা নোটিশ জারি করা হলেও পরে সেসব তদন্ত ধামাচাপা পড়ে যায়।
ভুক্তভোগীরা প্রায়ই রেজিস্ট্রি অফিসে এসে অভিযোগ করেন, কীভাবে তাদের দলিল টেম্পারিং হলো বা কেনই বা তাদের নকল দেওয়া যাবে না। এসব দুর্নীতিবাজ কর্মচারীরা এসব অনিয়ম করে ‘জিরো থেকে হিরো’ বনে যান।
জেলা রেজিস্টারের আশ্বাস
এ বিষয়ে গতকাল জেলা রেজিস্টারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ছুটিতে থাকায় তিনি বিষয়টি নিয়ে এগুতে পারেননি। তবে তিনি আশ্বাস দেন, দ্রুতই জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।