২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও রাষ্ট্র সংস্কার ইস্যু নিয়ে গণভোট সামনে রেখে দেশের রাজনীতিতে চলছে নানামুখী অপতৎপরতা। সরকারের তরফ থেকে বারবার নির্বাচনের নিশ্চয়তা দেওয়া হলেও, পর্দার আড়ালে একটি প্রভাবশালী মহল নির্বাচন পেছানো বা বানচালের চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
আজ ইসির বৈঠক, ১০ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ
নির্বাচনের তফসিল নির্ধারণে আজ (রবিবার, ৭ ডিসেম্বর) নির্বাচন কমিশনের (ইসি) গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, আজকেই তফসিল চূড়ান্ত হতে পারে। নির্বাচনের তারিখ চূড়ান্ত করাসহ সার্বিক বিষয় অবহিত করা এবং রাষ্ট্রপতির সম্মতি নিতে ইসি আগামী ১০ ডিসেম্বর তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবে। রাজনৈতিক দলগুলোও পুরোদমে নির্বাচনী প্রস্তুতি নিচ্ছে।
ক্ষমতায় থাকতে সক্রিয় একটি মহল
সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে দ্রুত নির্বাচনের বিষয়ে আগ্রহ থাকলেও, অন্তর্বর্তী সরকারের পরামর্শক ও প্রভাবশালী অনেকের মধ্যে রয়েছে অনাগ্রহ। সূত্রগুলো মনে করছে, বাইরে সবাই নির্বাচনের পক্ষে ‘পজিটিভ’ ভাব দেখালেও, ভিতরে ভিতরে ‘নেগেটিভ’ করার জন্য একটি মহল অত্যন্ত সক্রিয়। প্রথমবারের মতো ক্ষমতার স্বাদ পাওয়া এই সরকারে থাকা কেউ কেউ রাষ্ট্র সংস্কার ইস্যুকে সামনে রেখে ক্ষমতার মেয়াদ দীর্ঘায়িত করার জন্য ‘ঘুঁটি উল্টাতে’ চাইছেন। তারা নিজেদের মুখোশের আড়ালে রেখে নির্বাচনের পক্ষে উচ্চকণ্ঠে কথা বললেও, তাদের মূল লক্ষ্য নির্বাচন বানচাল বা পিছিয়ে দেওয়া।
গণভোট ইস্যুতে সংশয়
ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনই সংবিধান সংস্কার নিয়ে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে বলে গত ১৩ নভেম্বর জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে ঘোষণা করেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের মাধ্যমে ৩০টি রাজনৈতিক দলের মতামত নিয়ে তৈরি হয়েছে ‘জুলাই জাতীয় সনদ’। যদিও গণভোটের কাঠামো নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা সংশয় প্রকাশ করেছেন। তাদের বক্তব্য, ‘উত্তর সহজ প্রশ্ন কঠিন’ এমন আদলে তৈরি কাঠামোয় মাত্র দুই মাসের মধ্যে তৃণমূল পর্যায়ের জনসাধারণকে চার প্রশ্ন সম্পর্কে সচেতন করা এবং তাদের কাছ থেকে বাস্তবসম্মত উত্তর আশা করা সম্ভব নয়।
রাজনৈতিক মহল মনে করছে, সরকারের ভিতরের একটি অংশ মুখে নির্বাচনের ফেনা তুললেও, গণভোটের এই জটিল ইস্যুটিকে ব্যবহার করে নির্বাচন পেছানোর পাঁয়তারা করতে পারে। এখন পর্যন্ত সরকার, রাজনৈতিক দল ও নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে গণভোট নিয়ে কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
রাজনীতিতে অন্যান্য ঘটনা
* খালেদা জিয়ার অসুস্থতা: বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার গুরুতর অসুস্থতা এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে সবচেয়ে বেশি আলোচিত। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে দ্রুত লন্ডন নেওয়া হতে পারে।
* নির্বাচন পেছানোর দাবি: এই পরিস্থিতিকে মূল্যায়ন করে একটি নতুন রাজনৈতিক দল নির্বাচন পেছানোর দাবি জানিয়েছে। একই দিনে নির্বাচন পেছানোর জন্য আদালতের আশ্রয়ও নেওয়া হয়েছে।
* বিএনপির মনোনয়ন: এসব ঘটনার মধ্যেই বিএনপি ৩৬টি আসনে তাদের মনোনয়ন ঘোষণা করেছে, যা তাদের সমমনা দলগুলো ভালোভাবে গ্রহণ করেনি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আগামী কয়েক দিন দেশের রাজনীতি ও নির্বাচনের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়। বিদেশি শক্তির সংশ্লিষ্টতা এবং বর্তমান সরকারের মধ্যে থাকা ‘একাধিক পাসপোর্টধারী’ নাগরিকদের নিয়েও অভিযোগ উঠেছে, যারা নির্বাচন হতে দিতে চান না এবং এজন্য সব ধরনের অপতৎপরতার সঙ্গে জড়িত।
বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস যদি তাঁর প্রতিশ্রুতি (ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন) রক্ষা করতে না পারেন, তবে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি আরও অবনতি হতে পারে।
০৫:০৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬
শিরোনাম:
বাইরে ‘পজিটিভ’ ভিতরে ‘নেগেটিভ’: নির্বাচন অনুষ্ঠান নিয়ে নানামুখী অপতৎপরতা
-
নিউজ ডেস্ক - আপডেট: ০৯:৫৮:২৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৭ ডিসেম্বর ২০২৫
- ৫৬৪
সর্বাধিক পঠিত




















