০২:৫১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬

যশোর পালবাড়ি নার্সিং ইনস্টিটিউটের বিরুদ্ধে প্রতারণার নতুন অভিযোগ

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১১:২৫:৫৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ৬৩৬

চূড়ান্ত পরীক্ষায় ১২ জন শিক্ষার্থীর অংশ নিতে না পারার খবরের জেরে সৃষ্ট বিতর্কের মধ্যেই এবার যশোর পালবাড়ি নার্সিং ইনস্টিটিউটের বিরুদ্ধে আরও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। প্রথম বর্ষের ৭ জন শিক্ষার্থী অভিযোগ করেছেন, তাদের সম্পূর্ণ অজান্তে এবং অনুমতি ছাড়াই অন্য একটি নার্সিং কলেজে ভর্তি দেখিয়ে রেজিস্ট্রেশন করানো হয়েছে
শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, তারা মোট ১৮ জন প্রথম বর্ষে ভর্তি হলেও তাদের মধ্যে ৭ জনকে চাঁচড়ার মিরপুর ইনস্টিটিউট অব নাসিং সাইন্স অ্যান্ড মিডওয়াইফারী কলেজে ভর্তি দেখানো হয়েছে। অথচ এই বিষয়ে শিক্ষার্থী বা তাদের অভিভাবকদের কোনোভাবেই অবগত করা হয়নি।
ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরা জানিয়েছিলেন, তারা যশোর ইনস্টিটিউট অব নার্সিং সায়েন্স অ্যান্ড মিডওয়াইফারি কলেজে (পালবাড়ি শাখা) ভর্তি হচ্ছেন। এত দিন তারা সেখানেই নিয়মিত ক্লাস করেছেন এবং ভর্তির ফিও এই প্রতিষ্ঠানের ক্যাশ ভাউচারে পরিশোধ করেছেন। কিন্তু সোমবার (২ ডিসেম্বর) যখন পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার দাবিতে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করছিলেন, তখনই তারা জানতে পারেন তাদের রেজিস্ট্রেশন অন্য কলেজে করানো হয়েছে।
অভিযোগকারী সাত শিক্ষার্থী হলেন: তামিম হোসেন, সোহাগ মল্লিক, নওসিন রাম্মি, সুবর্ণা বিশ্বাস, সংগীতা অধিকারী, সরাবি জান্নাত পুষ্প এবং জান্নাতুল ফেরদৌস ইরানী। তারা সবাই পালবাড়ি শাখায় ক্লাস করেছেন। তাদের দাবি, ভর্তি থেকে ক্লাস পর্যন্ত সব পালবাড়িতে সম্পন্ন হলেও হঠাৎ অন্য কলেজে রেজিস্ট্রেশন দেখানো তাদের সঙ্গে প্রতারণা ছাড়া কিছুই নয়।
একাধিক সূত্র বলছে, পালবাড়ি শাখা এবং চাঁচড়া শাখা দুটি প্রতিষ্ঠানেরই মালিকানা এক। পালবাড়ি ক্যাম্পাসের পরিচিতি বেশি থাকায় সেখানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি হয়। এই পরিচিতিকে কাজে লাগিয়ে প্রতি বছর নীরবে কিছু শিক্ষার্থীকে চাঁচড়া কলেজে রেজিস্ট্রেশন করে দেওয়া হয়।
এই কৌশলের কারণ হিসেবে সূত্রগুলো জানায়, এতে চাঁচড়া কলেজের শিক্ষার্থী সংখ্যা দেখানো সম্ভব হয় এবং শিক্ষক-কর্মচারীর ব্যয় কমিয়ে অতিরিক্ত আর্থিক সুবিধা পাওয়া যায়। চাঁচড়া কলেজের পরিচিতি কম থাকায় স্বাভাবিক ভর্তি কম হয়, তাই পালবাড়ির সাইনবোর্ড ব্যবহার করে ভর্তির ‘উৎস’ ভাগাভাগি করার এই পদ্ধতি দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে।
অভিভাবকরা এই তথ্য গোপন রাখার ঘটনাকে গুরুতর অনিয়ম আখ্যায়িত করেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান আকরাম হোসেন বলেন, ১২ জন শিক্ষার্থীর পরীক্ষা দিতে না পারার তথ্য সঠিক নয়; মাত্র চারজন পারছে না। তাদের মধ্যে তিনজন টাকা জমা দেননি এবং একজনের রেজিস্ট্রেশনে ভুল হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, “চাঁচড়া কলেজে ভর্তি করানো হয়েছে এটি সত্যি। তবে শিক্ষার্থীরা চাইলে আমাদের নিজস্ব খরচে তাদের পালবাড়ি শাখায় মাইগ্রেশন করে দেওয়া হবে।”

সর্বাধিক পঠিত

বেনাপোলে সোনা, ডলার ও ওষুধ চোরাচালানের ‘ডন’ ইকরামুলের বিরুদ্ধে বিজিবির মামলা

যশোর পালবাড়ি নার্সিং ইনস্টিটিউটের বিরুদ্ধে প্রতারণার নতুন অভিযোগ

আপডেট: ১১:২৫:৫৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ ডিসেম্বর ২০২৫

চূড়ান্ত পরীক্ষায় ১২ জন শিক্ষার্থীর অংশ নিতে না পারার খবরের জেরে সৃষ্ট বিতর্কের মধ্যেই এবার যশোর পালবাড়ি নার্সিং ইনস্টিটিউটের বিরুদ্ধে আরও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। প্রথম বর্ষের ৭ জন শিক্ষার্থী অভিযোগ করেছেন, তাদের সম্পূর্ণ অজান্তে এবং অনুমতি ছাড়াই অন্য একটি নার্সিং কলেজে ভর্তি দেখিয়ে রেজিস্ট্রেশন করানো হয়েছে
শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, তারা মোট ১৮ জন প্রথম বর্ষে ভর্তি হলেও তাদের মধ্যে ৭ জনকে চাঁচড়ার মিরপুর ইনস্টিটিউট অব নাসিং সাইন্স অ্যান্ড মিডওয়াইফারী কলেজে ভর্তি দেখানো হয়েছে। অথচ এই বিষয়ে শিক্ষার্থী বা তাদের অভিভাবকদের কোনোভাবেই অবগত করা হয়নি।
ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরা জানিয়েছিলেন, তারা যশোর ইনস্টিটিউট অব নার্সিং সায়েন্স অ্যান্ড মিডওয়াইফারি কলেজে (পালবাড়ি শাখা) ভর্তি হচ্ছেন। এত দিন তারা সেখানেই নিয়মিত ক্লাস করেছেন এবং ভর্তির ফিও এই প্রতিষ্ঠানের ক্যাশ ভাউচারে পরিশোধ করেছেন। কিন্তু সোমবার (২ ডিসেম্বর) যখন পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার দাবিতে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করছিলেন, তখনই তারা জানতে পারেন তাদের রেজিস্ট্রেশন অন্য কলেজে করানো হয়েছে।
অভিযোগকারী সাত শিক্ষার্থী হলেন: তামিম হোসেন, সোহাগ মল্লিক, নওসিন রাম্মি, সুবর্ণা বিশ্বাস, সংগীতা অধিকারী, সরাবি জান্নাত পুষ্প এবং জান্নাতুল ফেরদৌস ইরানী। তারা সবাই পালবাড়ি শাখায় ক্লাস করেছেন। তাদের দাবি, ভর্তি থেকে ক্লাস পর্যন্ত সব পালবাড়িতে সম্পন্ন হলেও হঠাৎ অন্য কলেজে রেজিস্ট্রেশন দেখানো তাদের সঙ্গে প্রতারণা ছাড়া কিছুই নয়।
একাধিক সূত্র বলছে, পালবাড়ি শাখা এবং চাঁচড়া শাখা দুটি প্রতিষ্ঠানেরই মালিকানা এক। পালবাড়ি ক্যাম্পাসের পরিচিতি বেশি থাকায় সেখানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি হয়। এই পরিচিতিকে কাজে লাগিয়ে প্রতি বছর নীরবে কিছু শিক্ষার্থীকে চাঁচড়া কলেজে রেজিস্ট্রেশন করে দেওয়া হয়।
এই কৌশলের কারণ হিসেবে সূত্রগুলো জানায়, এতে চাঁচড়া কলেজের শিক্ষার্থী সংখ্যা দেখানো সম্ভব হয় এবং শিক্ষক-কর্মচারীর ব্যয় কমিয়ে অতিরিক্ত আর্থিক সুবিধা পাওয়া যায়। চাঁচড়া কলেজের পরিচিতি কম থাকায় স্বাভাবিক ভর্তি কম হয়, তাই পালবাড়ির সাইনবোর্ড ব্যবহার করে ভর্তির ‘উৎস’ ভাগাভাগি করার এই পদ্ধতি দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে।
অভিভাবকরা এই তথ্য গোপন রাখার ঘটনাকে গুরুতর অনিয়ম আখ্যায়িত করেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান আকরাম হোসেন বলেন, ১২ জন শিক্ষার্থীর পরীক্ষা দিতে না পারার তথ্য সঠিক নয়; মাত্র চারজন পারছে না। তাদের মধ্যে তিনজন টাকা জমা দেননি এবং একজনের রেজিস্ট্রেশনে ভুল হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, “চাঁচড়া কলেজে ভর্তি করানো হয়েছে এটি সত্যি। তবে শিক্ষার্থীরা চাইলে আমাদের নিজস্ব খরচে তাদের পালবাড়ি শাখায় মাইগ্রেশন করে দেওয়া হবে।”