যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) শিক্ষার্থী ও স্থানীয় গ্রামবাসীর মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনার মূল অভিযুক্ত মোবাইল দোকানি মোনায়েম হোসেনকে আটক করেছে যৌথ বাহিনী। মঙ্গলবার দিবাগত রাতে নিজ এলাকা ছাতিয়ানতলা গ্রাম থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। যৌন হয়রানির অভিযোগ এনে এ ঘটনায় যবিপ্রবির এক শিক্ষক বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
শ্লীলতাহানির অভিযোগ
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. ওমর ফারুক বাদী হয়ে মোনায়েমকে একমাত্র আসামি করে মামলাটি করেছেন। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত ২৪ নভেম্বর রাত আটটার দিকে যবিপ্রবির ছয়জন ছাত্রী আমবটতলার ‘মোনায়েম টেলিকম’ দোকানে একটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস মেরামতের জন্য যান।
এজাহারে আরও বলা হয়েছে, দোকানে ভিড় থাকায় ছাত্রীরা নিজেরাই ডিভাইসটি খুলতে গেলে এক ছাত্রীর হাত কেটে যায়। সেই মুহূর্তে মোনায়েম অসৎ উদ্দেশ্যে তার হাতে স্পর্শ করেন এবং ওষুধ লাগানোর অজুহাত দেন। এতে বিব্রত হয়ে ছাত্রীরা দ্রুত দোকান থেকে বেরিয়ে আসার সময় মোনায়েম তাদের লক্ষ্য করে অশ্লীল মন্তব্য করেন। পরে শিক্ষার্থীরা বিষয়টি তাদের বন্ধুদের জানালে পরের দিন বন্ধুরা দোকানে গেলে মোনায়েম তাদের হুমকি দিয়ে পালিয়ে যান।
সংঘর্ষ ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। মঙ্গলবার রাতে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাস থেকে বের হয়ে যশোর-বেনাপোল মহাসড়কে অবস্থান নেন। অন্যদিকে, গ্রামবাসীরা মাইকিং করে একত্রিত হয়ে শিক্ষার্থীদের ধাওয়া করলে উত্তেজনা তুঙ্গে ওঠে। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত পাঁচজন আহত হন।
পরিস্থিতি সামাল দিতে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় সেনাবাহিনী, র্যাব ও পুলিশের সমন্বয়ে গঠিত যৌথ বাহিনী। তারা দ্রুত হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং এলাকায় শান্তিশৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনে।
যৌথ বাহিনীর অভিযানের পর মঙ্গলবার গভীর রাতে অভিযুক্ত মোনায়েম হোসেনকে আটক করা হয়। আটককৃত মোনায়েমকে বুধবার আদালতে সোপর্দ করা হতে পারে বলে জানা গেছে
১১:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬
শিরোনাম:
যবিপ্রবি সংঘর্ষের জের: মোবাইল দোকানি মোনায়েম আটক, ছাত্রীর শ্লীলতাহানির অভিযোগে মামলা
-
নিউজ ডেস্ক - আপডেট: ০৬:৫৭:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ নভেম্বর ২০২৫
- ৫৫০
সর্বাধিক পঠিত




















