চব্বিশের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত নাম নিঃসন্দেহে তারেক রহমান। তিনি সশরীরে দেশে অনুপস্থিত থেকেও দলীয় নেতাকর্মীসহ আপামর জনসাধারণের হৃদয়ে দৃঢ়ভাবে অবস্থান করছেন। সম্প্রতি যশোরের ‘শুভ্র বালিকা’ আফিয়ার ঘটনা তাঁর মানবিক রাজনৈতিক অভিভাবকত্বের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
অস্বাভাবিক গায়ের রঙের কারণে যখন তিন বছরের শিশু আফিয়ার বাবা তাদের ছেড়ে চলে যান, তখন মা মনিরা চরম সংকটে পড়েন। এই কঠিন মুহূর্তে মানবিক রাজনীতিক, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান মা ও শিশুর পাশে দাঁড়ান। তিনি কেবল তাদের দায়িত্বই নেননি, বরং শিশুটির বাবা যাতে ভ্রান্ত ধারণা থেকে মুক্ত হতে পারেন, সেই বিষয়টিও দেখভালের জন্য দলীয় নেতাদের নির্দেশ দেন। তারেক রহমানের এই অভিভাবকত্ব কেবল আফিয়া ও তার মাকে নয়, লাখো কোটি সাধারণ মানুষকেও গভীরভাবে স্পর্শ করেছে।
ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্ন করে দেশপ্রেমিক নেতার উত্থান
২০০৭ সালের ‘ওয়ান-ইলেভেন’ ও পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পক্ষ থেকে তারেক রহমানকে ঘিরে একটি সুসংগঠিত অপপ্রচার চালানো হয়। দুর্নীতি ও লুটপাটের কথিত গল্প ছড়িয়ে তাকে কোণঠাসা করার চেষ্টা চলে। এর কারণ ছিল সুস্পষ্ট—ক্ষমতাসীনরা জানত যে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক উত্তরাধিকার তারেক রহমানের মানবীয় ও তৃণমূলমুখী রাজনীতির চর্চা যত বাড়বে, সাধারণ মানুষ তত বেশি বিএনপির প্রতি আকৃষ্ট হবে। তাই তাকে জনগণ থেকে দূরে সরিয়ে রাখার চক্রান্ত করা হয়।
তবে চব্বিশের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান সেই সব ষড়যন্ত্রকে ধূলিসাৎ করে দিয়েছে। জনগণ এই বিপ্লবের মধ্য দিয়ে একজন সত্যিকারের দেশপ্রেমিক রাজনীতিককে নতুন করে আবিষ্কার করেছে। সংকট ও সম্ভাবনায় দূরদৃষ্টিসম্পন্ন একজন দায়িত্বশীল অভিভাবক হিসেবে তারেক রহমানকে তারা চিনতে পেরেছে, যিনি জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে দেশ ও দেশের মানুষকে নিয়ে ভাবেন এবং দেশের ভবিষ্যৎ বিনির্মাণের জন্য কাজ করেন।
তৃণমূলের রাজনীতি থেকে জাতীয় নেতৃত্ব
আজ ২০ নভেম্বর, তারেক রহমানের জন্মদিন। ১৯৬৫ সালের এই দিনে তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জ্যেষ্ঠ সন্তান হিসেবে জন্মগ্রহণ করেন। পারিবারিক পরিচয়ে ক্ষমতার বলয়ে বড় হলেও ক্ষমতা তাকে কখনও স্পর্শ করেনি। বরং মা-বাবার আদর্শে তিনি হয়ে উঠেছেন একজন দেশপ্রেমিক ও মানবতাবাদী। এ কারণেই তিনি দেশের কোটি কোটি মানুষের কাঙ্ক্ষিত আগামী দিনের রাষ্ট্রনায়ক।
১৯৮৯ সালে বগুড়া জেলা বিএনপির প্রাথমিক সদস্যপদ গ্রহণের মাধ্যমে তারেক রহমানের আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক জীবন শুরু হয়। ক্ষমতাকে ব্যবহার না করে, তিনি তৃণমূলের মানুষের কাছে গিয়ে সরাসরি তাদের কাছ থেকে রাজনীতি শিখেছেন। প্রান্তিক মানুষের সমস্যা, সংকট ও সম্ভাবনার চুলচেরা বিশ্লেষণ করে তিনি রাজনীতিকে সহজপাঠ্য করেছেন। তিনি ধারণ করেছেন কৃষক, শ্রমিক, মজুরের সংগ্রাম ও তারুণ্যের সম্ভাবনা। ফলে তার রাষ্ট্রদর্শন এবং রাজনৈতিক বক্তব্য এতটাই বাস্তবসম্মত হয় যে তা মানুষের হৃদয়ের কথা বলে।
আধুনিক রাজনৈতিক গবেষণা ও তৃণমূল প্রতিনিধি সম্মেলন
২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনে ভোট বিপ্লবের নেপথ্য কারিগর হিসেবে তারেক রহমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে সরকার গঠিত হলেও তিনি সরকারে যোগ না দিয়ে সাংগঠনিক কাজে নিজেকে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত রাখেন। দ্রুত সময়ের মধ্যেই তিনি জাতীয়তাবাদী রাজনীতির পাদপ্রদীপে চলে আসেন। কাউন্সিলের মাধ্যমে তাকে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয় এবং দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার সিদ্ধান্ত মোতাবেক তিনি চেয়ারপারসন কার্যালয়ের সার্বিক দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।
চেয়ারপারসন কার্যালয়কে রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক—এক কথায় দেশ ও দল পরিচালনার এক আধুনিক গবেষণাগার হিসেবে গড়ে তোলা হয়। তার নেতৃত্বে মেধাবী কর্মীবাহিনী ও সিনিয়র নেতাদের সমন্বয়ে বিশ্বায়নের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নতি সাধনের লক্ষ্যে বাস্তবধর্মী কর্মযজ্ঞ শুরু হয়। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, শিল্প, সাহিত্য, মানবাধিকার, আইন, সামাজিক উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এবং প্রযুক্তির মতো সামগ্রিক বিষয়ে গবেষণা চালিয়ে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে কার্যকর পরিকল্পনা প্রণয়ন করে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীকে সরবরাহ করা হতো। এই কর্মপদ্ধতি তার রাষ্ট্রনায়কোচিত প্রজ্ঞা ও বিচক্ষণতার প্রমাণ বহন করে।
তারেক রহমানের ভিশনারি রাজনীতির অন্যতম এক মাইলফলক ছিল ‘তৃণমূল প্রতিনিধি সম্মেলন’। ২০০২ সাল থেকে তিনি বাংলাদেশের প্রান্তিক এলাকাগুলো চষে বেড়ান, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শকে তৃণমূলে ছড়িয়ে দিয়ে তরুণ প্রজন্মকে আগামী বাংলাদেশ বিনির্মাণের প্রাণশক্তিতে রূপান্তরের মহাযজ্ঞ শুরু করেন। এই অফুরান প্রাণশক্তির কারণে তিনি তরুণ প্রজন্মের কাছে ‘তারুণ্যের অহংকার’ হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠেন।
২০০৫ সালের জানুয়ারি থেকে টানা তিন মাস দেশের প্রতিটি ইউনিয়নের প্রতিনিধিদের নিয়ে ‘ইউনিয়ন প্রতিনিধি সভা’ করে তিনি দলে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেন। তাঁর মতে, সঠিক নির্দেশনা ও দক্ষ নেতৃত্ব পেলে বিএনপির প্রতিটি নেতাকর্মীই দল ও দেশ পরিচালনায় ভূমিকা রাখতে পারে। তাঁর এই অভিনব রাজনৈতিক ভাবনা ছিল দূরদর্শী এবং সময়ের চেয়ে অগ্রসরমাণ।
সামাজিক সেবায় ‘জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন’
রাজনীতির বাইরেও তারেক রহমানের সমাজ ও দেশ নিয়ে ভাবনার আগ্রহ ছিল প্রবল। তিনি চেয়েছিলেন ক্ষমতা থেকে বিচ্ছিন্ন না হয়েও যেন সামাজিক উন্নয়ন ও সেবামূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাওয়া যায়। এই লক্ষ্যেই তিনি প্রতিষ্ঠা করেন অরাজনৈতিক সংগঠন ‘জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন’ (জেডআরএফ)। এই সংগঠনটি কৃষি-শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, পরিবেশ-প্রযুক্তি সহ বিভিন্ন খাতে বহু বছর ধরে মানবসেবার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে চলেছে।
ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান হয়েছে। তারুণ্যের প্রবল ঝড়ে অহংকার আর দম্ভের রাজপ্রাসাদ উড়ে গেছে। দেশে এখন গণতন্ত্রের হাওয়া বইছে। রক্তস্নাত বিপ্লবের মাধ্যমে অর্জিত গণতান্ত্রিক অভিযাত্রাকে এগিয়ে নিতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ ও খালেদা জিয়ার বাংলাদেশপন্থী রাজনীতিকে ছড়িয়ে দিতে তারেক রহমানের নেতৃত্বের কোনো বিকল্প নেই। তাঁর নেতৃত্বেই সৃষ্টি হবে এক নতুন ইতিহাস। বিপ্লব-পরবর্তী বাংলাদেশ এখন তাঁরই অপেক্ষায়।
শুভ জন্মদিন ভিশনারি লিডার তারেক রহমান। জন্মদিনে আপনার প্রতি অফুরন্ত শুভ কামনা।
১১:৫৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬
শিরোনাম:
চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী প্রেক্ষাপটে তারেক রহমান: এক দূরদর্শী নেতার প্রত্যাবর্তনের আহ্বান
-
নিউজ ডেস্ক - আপডেট: ০২:০৮:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ নভেম্বর ২০২৫
- ৫৫১
সর্বাধিক পঠিত




















