১১:০৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

লিবিয়া উপকূলে দালালচক্রের গুলিতে ৩ বাংলাদেশি যুবক নিহত

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৭:৫৫:২৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ নভেম্বর ২০২৫
  • ৫৪৯

অবৈধ পথে ইতালি যাওয়ার সময় লিবিয়া উপকূলে দালালচক্রের গুলিতে মাদারীপুরের তিন যুবক নিহত হয়েছেন। এই মর্মান্তিক ঘটনায় তাদের পরিবারে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া, এবং স্থানীয়রা দায়ী দালালদের দ্রুত গ্রেফতার ও কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
নিহত তিন যুবক হলেন— মাদারীপুর সদর উপজেলার আদিত্যপুর গ্রামের ইমরান খান, রাজৈর উপজেলার দুর্গাবর্দ্দী গ্রামের মুন্না তালুকদার এবং ঘোষলাকান্দির বায়েজিত শেখ।
চুক্তি ও নির্মম হত্যাকাণ্ড
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, নিহত ইমরান খান গত ৮ অক্টোবর প্রতিবেশী দালাল শিপন খানের মাধ্যমে ২২ লাখ টাকায় ইতালি যাওয়ার চুক্তি করে বাড়ি থেকে বের হন। কিন্তু লিবিয়ায় পৌঁছানোর পর দালালচক্র তাদের আটকে রাখে এবং মুক্তিপণ হিসেবে আরও ১৮ লাখ টাকা আদায় করে।
ইমরানের পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ১ নভেম্বর লিবিয়া উপকূল থেকে একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকায় করে ভূমধ্যসাগরের পথে ইতালি যাচ্ছিলেন তারা। এ সময় দুর্বৃত্তদের অতর্কিত হামলায় ইমরানসহ তিনজন নিহত হন। সহযাত্রীরা জানিয়েছেন, নিহতদের মরদেহ সাগরে ফেলে দেওয়া হয়।
একই ঘটনার শিকার মুন্না তালুকদার ও বায়েজিত শেখের পরিবারও দালাল শিপনের কঠোর শাস্তি দাবি করেছেন। মুন্নার খালা খাদিজা আক্তার জানান, ধারদেনা করে দালাল শিপনকে ৪০ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছিল। বায়েজিতের বাবা কুদ্দুস শেখের আকুতি, “এত টাকা খরচ করেও ছেলের লাশটাও দেশে আনতে পারছি না।”
দালাল লাপাত্তা, পুলিশের আশ্বাস
ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর মূল অভিযুক্ত দালাল শিপনের বাড়িতে তালা ঝুলছে। যদিও শিপনের স্বজনরা দাবি করছেন, তিনি গুলির ঘটনায় জড়িত নন এবং বর্তমানে লিবিয়াতেই অবস্থান করছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, শিপন দীর্ঘদিন ধরে লিবিয়ায় বসে এলাকার যুবকদের প্রলোভন দেখিয়ে মানবপাচারে জড়িত। অতীতেও তার মাধ্যমে অনেকে প্রাণ হারালেও তিনি আইনগত ঝামেলা এড়িয়ে গেছেন।
মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম জানিয়েছেন, তিন বাংলাদেশির মৃত্যুর বিষয়টি তারা জানতে পেরেছেন। তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, পরিবার লিখিত অভিযোগ দিলে দালালচক্রের বিরুদ্ধে অবিলম্বে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

সর্বাধিক পঠিত

বেনাপোলে সোনা, ডলার ও ওষুধ চোরাচালানের ‘ডন’ ইকরামুলের বিরুদ্ধে বিজিবির মামলা

লিবিয়া উপকূলে দালালচক্রের গুলিতে ৩ বাংলাদেশি যুবক নিহত

আপডেট: ০৭:৫৫:২৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ নভেম্বর ২০২৫

অবৈধ পথে ইতালি যাওয়ার সময় লিবিয়া উপকূলে দালালচক্রের গুলিতে মাদারীপুরের তিন যুবক নিহত হয়েছেন। এই মর্মান্তিক ঘটনায় তাদের পরিবারে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া, এবং স্থানীয়রা দায়ী দালালদের দ্রুত গ্রেফতার ও কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
নিহত তিন যুবক হলেন— মাদারীপুর সদর উপজেলার আদিত্যপুর গ্রামের ইমরান খান, রাজৈর উপজেলার দুর্গাবর্দ্দী গ্রামের মুন্না তালুকদার এবং ঘোষলাকান্দির বায়েজিত শেখ।
চুক্তি ও নির্মম হত্যাকাণ্ড
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, নিহত ইমরান খান গত ৮ অক্টোবর প্রতিবেশী দালাল শিপন খানের মাধ্যমে ২২ লাখ টাকায় ইতালি যাওয়ার চুক্তি করে বাড়ি থেকে বের হন। কিন্তু লিবিয়ায় পৌঁছানোর পর দালালচক্র তাদের আটকে রাখে এবং মুক্তিপণ হিসেবে আরও ১৮ লাখ টাকা আদায় করে।
ইমরানের পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ১ নভেম্বর লিবিয়া উপকূল থেকে একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকায় করে ভূমধ্যসাগরের পথে ইতালি যাচ্ছিলেন তারা। এ সময় দুর্বৃত্তদের অতর্কিত হামলায় ইমরানসহ তিনজন নিহত হন। সহযাত্রীরা জানিয়েছেন, নিহতদের মরদেহ সাগরে ফেলে দেওয়া হয়।
একই ঘটনার শিকার মুন্না তালুকদার ও বায়েজিত শেখের পরিবারও দালাল শিপনের কঠোর শাস্তি দাবি করেছেন। মুন্নার খালা খাদিজা আক্তার জানান, ধারদেনা করে দালাল শিপনকে ৪০ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছিল। বায়েজিতের বাবা কুদ্দুস শেখের আকুতি, “এত টাকা খরচ করেও ছেলের লাশটাও দেশে আনতে পারছি না।”
দালাল লাপাত্তা, পুলিশের আশ্বাস
ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর মূল অভিযুক্ত দালাল শিপনের বাড়িতে তালা ঝুলছে। যদিও শিপনের স্বজনরা দাবি করছেন, তিনি গুলির ঘটনায় জড়িত নন এবং বর্তমানে লিবিয়াতেই অবস্থান করছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, শিপন দীর্ঘদিন ধরে লিবিয়ায় বসে এলাকার যুবকদের প্রলোভন দেখিয়ে মানবপাচারে জড়িত। অতীতেও তার মাধ্যমে অনেকে প্রাণ হারালেও তিনি আইনগত ঝামেলা এড়িয়ে গেছেন।
মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম জানিয়েছেন, তিন বাংলাদেশির মৃত্যুর বিষয়টি তারা জানতে পেরেছেন। তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, পরিবার লিখিত অভিযোগ দিলে দালালচক্রের বিরুদ্ধে অবিলম্বে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।