১০:১৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

ঋণ দেওয়ার নামে প্রতারণা: যশোরে ভুয়া এনজিওর ফাঁদে পড়ে ত্রিশ লাখ টাকা খোয়ালেন দশ গ্রামের মানুষ

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৩:০০:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ নভেম্বর ২০২৫
  • ৫৫১

যশোরের হামিদপুর এলাকায় ‘রুরাল ডেভেলপমেন্ট ফোরাম (RDF)’ নামে একটি ভুঁইফোড় এনজিওর প্রতারণার শিকার হয়ে পথে বসেছেন প্রায় শতাধিক মানুষ। ঋণ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে সংস্থাটি দশ গ্রামের সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ত্রিশ লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নিয়ে লাপাত্তা হয়েছে। এই প্রতারক চক্রের দ্রুত গ্রেফতার ও টাকা ফেরতের দাবিতে আজ (বুধবার, ১৯ নভেম্বর) সকালে ভুক্তভোগীরা এনজিওটির সাবেক কার্যালয় ঘেরাও করে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন।
প্রতারণার চিত্র: এনজিও সেজে হাতিয়ে নিল লাখ লাখ টাকা
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, হামিদপুর গ্রামের ব্যাংকার শফিকুজ্জামানের বাড়ি ভাড়া নিয়ে কয়েক মাস আগে আরডিএফ (RDF) নিজেদের আস্তানা তৈরি করে। ইয়াসমিন, সালাউদ্দিন, আলী আকবরসহ একটি সংঘবদ্ধ চক্র নিজেদের এনজিও কর্মী পরিচয় দিয়ে এলাকায় প্রচারণা শুরু করে। তারা জনপ্রতি ৩ লাখ থেকে ৭ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেওয়ার আশ্বাস দেয়।
লোনের আশায়, হামিদপুর, সুলতানপুর, বাউলিয়া, নীলগঞ্জ, নালিয়া, রাজারহাট, কচুয়া ফতেপুর, ধানঘাটা সহ প্রায় দশ গ্রামের মানুষ তাদের ফাঁদে পা দেয়। চক্রটি সদস্য সংগ্রহ এবং ‘লোন প্রোসেসিং’ খরচ বাবদ জনপ্রতি কমপক্ষে ৬ হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নেয়। গত মাসখানেক ধরে অর্থ সংগ্রহের পর হঠাৎ করেই আরডিএফের কর্মীরা অফিস গুটিয়ে আত্মগোপনে চলে যায়।
বিক্ষোভে ফেটে পড়েছেন ভুক্তভোগীরা
দীর্ঘ অপেক্ষার পরও ঋণ না পেয়ে ভুক্তভোগীরা গত ৫ নভেম্বর আরডিএফ অফিসে গেলে বুঝতে পারেন তারা প্রতারিত হয়েছেন। আজ সকালে তারা ব্যাংকার শফিকুজ্জামানের বাড়ির সামনে জড়ো হয়ে হাতে ভুয়া এনজিওর দেওয়া পাশ বই (Passbook) নিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ:
প্রতারণার শিকার হয়েছেন বাউলিয়ার বাসিরা বেগম, সুলতানপুরের আদুরী বেগম, ধানঘাটার রিজিয়া, ফতেপুরের লিটন ঘোষসহ অর্ধশতাধিক নারী-পুরুষ।
তারা ইয়াসমিন, সালাউদ্দিন, আলী আকবার, সানিক, নাঈমা, রোকেয়া সহ বেশ কয়েকজন কর্মীর নাম উল্লেখ করেছেন, যারা টাকা সংগ্রহে যুক্ত ছিলেন।
প্রতারক চক্রটি সদস্যপ্রতি ২০০ টাকা ফি ছাড়াও ২০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ‘লোন প্রোসেসিং’ ফি নিয়েছে।
টাকা ফেরত চাইলে উল্টো হুমকি দেওয়া হয়েছে।
বাড়িওয়ালার বিরুদ্ধেও অভিযোগ
ভুক্তভোগীরা দাবি করেছেন, এই ভুয়া চক্রে অফিসের বাড়িওয়ালা ব্যাংকার শফিকুজ্জামানও সরাসরি জড়িত। তারা অভিযোগ করেন, শফিকুজ্জামান জেনে বুঝেও ভুয়া এনজিওকে ঘর ভাড়া দিয়েছেন এবং এখন তার সঙ্গে কথা বলতে গেলে উল্টো তিনি হুমকি দিচ্ছেন। দ্রুত এনজিও কর্মীর সঙ্গে ব্যাংকার শফিকুজ্জামানকেও আটক করার দাবি জানিয়েছেন বিক্ষুব্ধরা।
পুলিশের বক্তব্য
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী লিটন হোসেন নামে এক ব্যক্তি যশোর কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল হাসনাত খান জানিয়েছেন, “লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”
এদিকে, অভিযুক্ত এনজিও কর্মী ইয়াসমিন, আলী আকবার ও সালাউদ্দীনের ফোন নম্বর বন্ধ পাওয়া গেছে। অন্যদিকে, অভিযুক্ত বাড়িওয়ালা ব্যাংকার শফিকুজ্জামান মোবাইল ফোনে একাধিকবার চেষ্টা করেও ফোন রিসিভ করেননি।

সর্বাধিক পঠিত

বেনাপোলে সোনা, ডলার ও ওষুধ চোরাচালানের ‘ডন’ ইকরামুলের বিরুদ্ধে বিজিবির মামলা

ঋণ দেওয়ার নামে প্রতারণা: যশোরে ভুয়া এনজিওর ফাঁদে পড়ে ত্রিশ লাখ টাকা খোয়ালেন দশ গ্রামের মানুষ

আপডেট: ০৩:০০:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ নভেম্বর ২০২৫

যশোরের হামিদপুর এলাকায় ‘রুরাল ডেভেলপমেন্ট ফোরাম (RDF)’ নামে একটি ভুঁইফোড় এনজিওর প্রতারণার শিকার হয়ে পথে বসেছেন প্রায় শতাধিক মানুষ। ঋণ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে সংস্থাটি দশ গ্রামের সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ত্রিশ লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নিয়ে লাপাত্তা হয়েছে। এই প্রতারক চক্রের দ্রুত গ্রেফতার ও টাকা ফেরতের দাবিতে আজ (বুধবার, ১৯ নভেম্বর) সকালে ভুক্তভোগীরা এনজিওটির সাবেক কার্যালয় ঘেরাও করে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন।
প্রতারণার চিত্র: এনজিও সেজে হাতিয়ে নিল লাখ লাখ টাকা
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, হামিদপুর গ্রামের ব্যাংকার শফিকুজ্জামানের বাড়ি ভাড়া নিয়ে কয়েক মাস আগে আরডিএফ (RDF) নিজেদের আস্তানা তৈরি করে। ইয়াসমিন, সালাউদ্দিন, আলী আকবরসহ একটি সংঘবদ্ধ চক্র নিজেদের এনজিও কর্মী পরিচয় দিয়ে এলাকায় প্রচারণা শুরু করে। তারা জনপ্রতি ৩ লাখ থেকে ৭ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেওয়ার আশ্বাস দেয়।
লোনের আশায়, হামিদপুর, সুলতানপুর, বাউলিয়া, নীলগঞ্জ, নালিয়া, রাজারহাট, কচুয়া ফতেপুর, ধানঘাটা সহ প্রায় দশ গ্রামের মানুষ তাদের ফাঁদে পা দেয়। চক্রটি সদস্য সংগ্রহ এবং ‘লোন প্রোসেসিং’ খরচ বাবদ জনপ্রতি কমপক্ষে ৬ হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নেয়। গত মাসখানেক ধরে অর্থ সংগ্রহের পর হঠাৎ করেই আরডিএফের কর্মীরা অফিস গুটিয়ে আত্মগোপনে চলে যায়।
বিক্ষোভে ফেটে পড়েছেন ভুক্তভোগীরা
দীর্ঘ অপেক্ষার পরও ঋণ না পেয়ে ভুক্তভোগীরা গত ৫ নভেম্বর আরডিএফ অফিসে গেলে বুঝতে পারেন তারা প্রতারিত হয়েছেন। আজ সকালে তারা ব্যাংকার শফিকুজ্জামানের বাড়ির সামনে জড়ো হয়ে হাতে ভুয়া এনজিওর দেওয়া পাশ বই (Passbook) নিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ:
প্রতারণার শিকার হয়েছেন বাউলিয়ার বাসিরা বেগম, সুলতানপুরের আদুরী বেগম, ধানঘাটার রিজিয়া, ফতেপুরের লিটন ঘোষসহ অর্ধশতাধিক নারী-পুরুষ।
তারা ইয়াসমিন, সালাউদ্দিন, আলী আকবার, সানিক, নাঈমা, রোকেয়া সহ বেশ কয়েকজন কর্মীর নাম উল্লেখ করেছেন, যারা টাকা সংগ্রহে যুক্ত ছিলেন।
প্রতারক চক্রটি সদস্যপ্রতি ২০০ টাকা ফি ছাড়াও ২০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ‘লোন প্রোসেসিং’ ফি নিয়েছে।
টাকা ফেরত চাইলে উল্টো হুমকি দেওয়া হয়েছে।
বাড়িওয়ালার বিরুদ্ধেও অভিযোগ
ভুক্তভোগীরা দাবি করেছেন, এই ভুয়া চক্রে অফিসের বাড়িওয়ালা ব্যাংকার শফিকুজ্জামানও সরাসরি জড়িত। তারা অভিযোগ করেন, শফিকুজ্জামান জেনে বুঝেও ভুয়া এনজিওকে ঘর ভাড়া দিয়েছেন এবং এখন তার সঙ্গে কথা বলতে গেলে উল্টো তিনি হুমকি দিচ্ছেন। দ্রুত এনজিও কর্মীর সঙ্গে ব্যাংকার শফিকুজ্জামানকেও আটক করার দাবি জানিয়েছেন বিক্ষুব্ধরা।
পুলিশের বক্তব্য
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী লিটন হোসেন নামে এক ব্যক্তি যশোর কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল হাসনাত খান জানিয়েছেন, “লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”
এদিকে, অভিযুক্ত এনজিও কর্মী ইয়াসমিন, আলী আকবার ও সালাউদ্দীনের ফোন নম্বর বন্ধ পাওয়া গেছে। অন্যদিকে, অভিযুক্ত বাড়িওয়ালা ব্যাংকার শফিকুজ্জামান মোবাইল ফোনে একাধিকবার চেষ্টা করেও ফোন রিসিভ করেননি।