১০:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

তীব্র ক্ষোভ ও বিক্ষোভের মুখে বিএনপির ২৩টি আসনে প্রার্থী বদলের ভাবনা

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০২:৫৩:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ নভেম্বর ২০২৫
  • ৫৪৬

আসন্ন নির্বাচনে (সম্ভাব্য দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন) বিএনপি মনোনীত প্রার্থীদের বিরুদ্ধে তৃণমূলের তীব্র অসন্তোষ ও প্রকাশ্য বিক্ষোভের কারণে মোট ২৩টি আসনে প্রার্থী পরিবর্তনের জোর আলোচনা চলছে। দলের শীর্ষ নেতৃত্ব প্রাথমিক তালিকা ঘোষণার পর এই আসনগুলোতে অভ্যন্তরীণ বিরোধ এতটাই চরমে পৌঁছেছে যে, স্থানীয় নেতা-কর্মীরা সড়ক অবরোধ, মিছিল-সমাবেশ করে প্রার্থী বাতিলের দাবি তুলেছেন
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সারাদেশের ২৩টি আসনে প্রার্থী মনোনয়নের পর আপত্তি ও প্রতিরোধের মুখে পড়েছে বিএনপি। এই আসনগুলো মূলত খুলনা, ময়মনসিংহ, সিলেট, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, রংপুর ও ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন জেলায় ছড়িয়ে আছে।
যে ২৩টি আসনে প্রার্থী পরিবর্তনের দাবি উঠেছে, সেগুলি হলো:
* খুলনা বিভাগ (৩): সাতক্ষীরা-২, সাতক্ষীরা-৩ এবং মাগুরা-২। (যেমন, সাতক্ষীরা-২ আসনে বহিষ্কৃত নেতাকে মনোনয়ন দেওয়ায় তীব্র বিক্ষোভ হয়েছে)।
* ময়মনসিংহ বিভাগ (২): ময়মনসিংহ-৩ ও ময়মনসিংহ-৬।
* সিলেট বিভাগ (২): সিলেট-৪ ও হবিগঞ্জ-৪।
* চট্টগ্রাম বিভাগ (৭): ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫, কক্সবাজার-৪, চট্টগ্রাম-৪, চট্টগ্রাম-২, চট্টগ্রাম-১৬ এবং নোয়াখালী-৫।
* রাজশাহী বিভাগ (৫): চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২, নাটোর-১, রাজশাহী-৪ ও রাজশাহী-৫। (রাজশাহী-৪ আসনে ‘বহিরাগত’ প্রার্থী দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে)।
* রংপুর বিভাগ (২): রংপুর-৩ ও ঠাকুরগাঁও-৩।
* ঢাকা বিভাগ (৩): নারায়ণগঞ্জ-২, নরসিংদী-৪ ও মুন্সীগঞ্জ-২।
কেন এই অভ্যন্তরীণ কোন্দল?
তৃণমূল নেতা-কর্মীদের অভিযোগের প্রধান কারণগুলি হলো:
* বহিরাগত প্রার্থী: অনেক আসনে স্থানীয় রাজনীতিতে দীর্ঘদিন যুক্ত নন এমন ‘বহিরাগত’ বা পার্শ্ববর্তী আসনের নেতাদের মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।
* ত্যাগীদের অবমূল্যায়ন: দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন-সংগ্রামে যুক্ত থাকা এবং কারাবরণ করা ত্যাগী নেতাদের বাদ দিয়ে বিতর্কিতদের বা নিষ্ক্রিয়দের মনোনয়ন দেওয়া।
* আঞ্চলিক প্রভাব: কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রভাবশালী নেতার বলয় থেকে প্রার্থী দেওয়া হলেও, তৃণমূল তা মেনে নিতে পারছে না।
* বহিষ্কৃতদের অন্তর্ভুক্তি: দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে বহিষ্কৃত হওয়া কোনো নেতাকে পুনরায় মনোনয়ন দেওয়ায় স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ। (যেমন, সাতক্ষীরা-২ আসনে এমন অভিযোগ উঠেছে)।
হাইকমান্ডের ভাবনা:
বিএনপির হাইকমান্ড এই অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। দল মনে করছে, নির্বাচনের আগে এই অসন্তোষ দ্রুত প্রশমিত করা না গেলে তা ভোটের ফলাফলে মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে যেখানে জোটের শরিক দলগুলোর সঙ্গে আসন সমঝোতা নিয়েও জটিলতা চলছে, সেখানে নিজেদের ঘরের কোন্দল বড় সমস্যা সৃষ্টি করছে।
বিভিন্ন সূত্র অনুযায়ী, বিক্ষুব্ধ ২৩টি আসনের অন্তত অর্ধেক অর্থাৎ ১০ থেকে ১২টি আসনে শেষ মুহূর্তে প্রার্থীর পরিবর্তন আসতে পারে বলে জল্পনা চলছে। দল চাইছে, বিক্ষোভে ফেটে পড়া আসনগুলোতে পরিস্থিতি শান্ত করতে দ্রুত বিকল্প সিদ্ধান্ত নিতে।

সর্বাধিক পঠিত

বেনাপোলে সোনা, ডলার ও ওষুধ চোরাচালানের ‘ডন’ ইকরামুলের বিরুদ্ধে বিজিবির মামলা

তীব্র ক্ষোভ ও বিক্ষোভের মুখে বিএনপির ২৩টি আসনে প্রার্থী বদলের ভাবনা

আপডেট: ০২:৫৩:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ নভেম্বর ২০২৫

আসন্ন নির্বাচনে (সম্ভাব্য দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন) বিএনপি মনোনীত প্রার্থীদের বিরুদ্ধে তৃণমূলের তীব্র অসন্তোষ ও প্রকাশ্য বিক্ষোভের কারণে মোট ২৩টি আসনে প্রার্থী পরিবর্তনের জোর আলোচনা চলছে। দলের শীর্ষ নেতৃত্ব প্রাথমিক তালিকা ঘোষণার পর এই আসনগুলোতে অভ্যন্তরীণ বিরোধ এতটাই চরমে পৌঁছেছে যে, স্থানীয় নেতা-কর্মীরা সড়ক অবরোধ, মিছিল-সমাবেশ করে প্রার্থী বাতিলের দাবি তুলেছেন
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সারাদেশের ২৩টি আসনে প্রার্থী মনোনয়নের পর আপত্তি ও প্রতিরোধের মুখে পড়েছে বিএনপি। এই আসনগুলো মূলত খুলনা, ময়মনসিংহ, সিলেট, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, রংপুর ও ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন জেলায় ছড়িয়ে আছে।
যে ২৩টি আসনে প্রার্থী পরিবর্তনের দাবি উঠেছে, সেগুলি হলো:
* খুলনা বিভাগ (৩): সাতক্ষীরা-২, সাতক্ষীরা-৩ এবং মাগুরা-২। (যেমন, সাতক্ষীরা-২ আসনে বহিষ্কৃত নেতাকে মনোনয়ন দেওয়ায় তীব্র বিক্ষোভ হয়েছে)।
* ময়মনসিংহ বিভাগ (২): ময়মনসিংহ-৩ ও ময়মনসিংহ-৬।
* সিলেট বিভাগ (২): সিলেট-৪ ও হবিগঞ্জ-৪।
* চট্টগ্রাম বিভাগ (৭): ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫, কক্সবাজার-৪, চট্টগ্রাম-৪, চট্টগ্রাম-২, চট্টগ্রাম-১৬ এবং নোয়াখালী-৫।
* রাজশাহী বিভাগ (৫): চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২, নাটোর-১, রাজশাহী-৪ ও রাজশাহী-৫। (রাজশাহী-৪ আসনে ‘বহিরাগত’ প্রার্থী দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে)।
* রংপুর বিভাগ (২): রংপুর-৩ ও ঠাকুরগাঁও-৩।
* ঢাকা বিভাগ (৩): নারায়ণগঞ্জ-২, নরসিংদী-৪ ও মুন্সীগঞ্জ-২।
কেন এই অভ্যন্তরীণ কোন্দল?
তৃণমূল নেতা-কর্মীদের অভিযোগের প্রধান কারণগুলি হলো:
* বহিরাগত প্রার্থী: অনেক আসনে স্থানীয় রাজনীতিতে দীর্ঘদিন যুক্ত নন এমন ‘বহিরাগত’ বা পার্শ্ববর্তী আসনের নেতাদের মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।
* ত্যাগীদের অবমূল্যায়ন: দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন-সংগ্রামে যুক্ত থাকা এবং কারাবরণ করা ত্যাগী নেতাদের বাদ দিয়ে বিতর্কিতদের বা নিষ্ক্রিয়দের মনোনয়ন দেওয়া।
* আঞ্চলিক প্রভাব: কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রভাবশালী নেতার বলয় থেকে প্রার্থী দেওয়া হলেও, তৃণমূল তা মেনে নিতে পারছে না।
* বহিষ্কৃতদের অন্তর্ভুক্তি: দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে বহিষ্কৃত হওয়া কোনো নেতাকে পুনরায় মনোনয়ন দেওয়ায় স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ। (যেমন, সাতক্ষীরা-২ আসনে এমন অভিযোগ উঠেছে)।
হাইকমান্ডের ভাবনা:
বিএনপির হাইকমান্ড এই অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। দল মনে করছে, নির্বাচনের আগে এই অসন্তোষ দ্রুত প্রশমিত করা না গেলে তা ভোটের ফলাফলে মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে যেখানে জোটের শরিক দলগুলোর সঙ্গে আসন সমঝোতা নিয়েও জটিলতা চলছে, সেখানে নিজেদের ঘরের কোন্দল বড় সমস্যা সৃষ্টি করছে।
বিভিন্ন সূত্র অনুযায়ী, বিক্ষুব্ধ ২৩টি আসনের অন্তত অর্ধেক অর্থাৎ ১০ থেকে ১২টি আসনে শেষ মুহূর্তে প্রার্থীর পরিবর্তন আসতে পারে বলে জল্পনা চলছে। দল চাইছে, বিক্ষোভে ফেটে পড়া আসনগুলোতে পরিস্থিতি শান্ত করতে দ্রুত বিকল্প সিদ্ধান্ত নিতে।