যশোর শহরের ব্যস্ততম আরএন রোড এলাকায় আবারও পরিত্যক্ত অবস্থা থেকে দুটি শক্তিশালী বোমা উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) বিকেলে বিসমিল্লাহ অটোর সামনে রাস্তার পাশে দীর্ঘদিন ধরে দাঁড়িয়ে থাকা একটি পিকআপ ভ্যান (ঢাকা-ন-১৯-২৫৯৪)-এর ভেতর থেকে এই বোমাগুলো উদ্ধার করা হয়।
পরপর বোমা উদ্ধারের ঘটনায় আরএন রোড এলাকায় চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করছেন—পরিকল্পিতভাবে দোকানপাটের আশপাশে বিস্ফোরক রেখে নিরীহ ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কাজী বাবুল হোসেন এবং পরিদর্শক (অপারেশনস) মোমিনুল হক দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তাঁদের নির্দেশে উপপরিদর্শক সামছুল হক পিকআপ ভ্যানটি তল্লাশি করেন। এ সময় চালকের আসনের নিচে বিশেষভাবে লুকিয়ে রাখা অবস্থায় দুটি বোমা উদ্ধার করা হয়। নিরাপত্তার স্বার্থে বোমা দুটি পরে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
এর মাত্র কয়েকদিন আগেই আরএন রোডের হা-মীম মোটর পার্টস নামের একটি দোকানের ভেতর থেকেও একটি বোমা উদ্ধার হয়েছিল। পরপর এমন ঘটনায় পুরো ব্যবসায়ী মহলে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
মোটর পার্টস ও টায়ার-টিউব ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সহ-সভাপতি আব্বাস আলী বলেন, “এর আগেও একটি দোকানের ভিতর বোমা রেখে আমাদের ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়েছে। এইভাবে চলতে থাকলে নিরীহ ব্যবসায়ীরা কীভাবে শান্তিতে ব্যবসা করবে? এলাকায় ভয়ভীতি সৃষ্টি করা হচ্ছে। আমরা এর সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানাচ্ছি।”
আরেক ব্যবসায়ী নাবিল হোসেন বলেন, “এলাকায় প্রায় সব দোকানেই সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন আছে। পুলিশ চাইলে সহজেই ফুটেজ দেখে আসামি শনাক্ত করতে পারবে। আমরা চাই অপরাধীরা দ্রুত ধরা পড়ুক।”
উদ্ধার হওয়া পিকআপ ভ্যানটি প্রায় তিন থেকে চার মাস আগে জাহিদ নামের এক ব্যবসায়ী পুরনো গাড়ি হিসেবে কিনে রাস্তায় রেখে দেন এবং সেটির যন্ত্রাংশ বিক্রি করতেন বলে জানা গেছে। ব্যবসায়ীদের সন্দেহ, সোমবার অথবা মঙ্গলবার রাতের অন্ধকারে কেউ সুযোগ বুঝে গাড়ির ভিতর বোমা রেখে যায়।
কোতোয়ালি থানা পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। আশেপাশের দোকানপাট ও সড়কের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে দুষ্কৃতিকারীদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে।




















