০৮:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

মনিরামপুরে: বিএনপি কর্মী আনিচুর হত্যা মামলা, ৮ বছর পর আসামি গ্রেপ্তার,

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৭:১২:২৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর ২০২৫
  • ৫৫১

যশোরের মনিরামপুর উপজেলার লাউড়ী গ্রামের বিএনপি কর্মী আনিচুর রহমান হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি আরাধন ঘোষ ওরফে বাসুদেব ঘোষকে (৫০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার (১৬ নভেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার কাশিপুর কাঁঠালতলা বাজার এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত আরাধন উত্তর লাউড়ী গ্রামের নীরাপদ ঘোষের ছেলে।
আদালতে সোপর্দ ও কারাগারে প্রেরণ
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মনিরামপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ওবায়দুর রহমান সোমবার আটককৃত আরাধন ঘোষকে যশোর আদালতে হাজির করেন। শুনানি শেষে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষাপট ও এজাহার
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ২ নভেম্বর বিএনপি কর্মী আনিচুর রহমান খুন হন। হত্যাকাণ্ডের আট বছর পর চলতি বছর (২০২৪ সালের ২২ আগস্ট) নিহত আনিচুর রহমানের ভাই মফিজুর রহমান আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, মামলায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সাবেক প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য, মনিরামপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র কাজী মাহমুদুল হাসান এবং থানার তৎকালীন ওসি বিপ্লব কুমার নাথসহ মোট ৬০ জনকে অভিযুক্ত করা হয়। আদালতের নির্দেশে পরবর্তীতে মামলাটি মনিরামপুর থানায় নিয়মিত মামলা হিসেবে নথিভুক্ত হয়। গ্রেপ্তারকৃত আরাধন ঘোষ এই মামলার এজাহারভুক্ত অন্যতম আসামি।
এজাহারে রাজনৈতিক হত্যার অভিযোগ
মামলার এজাহারে মফিজুর রহমান উল্লেখ করেন, আনিচুর রহমান বিএনপির সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তার এই রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে স্থানীয় এমপি ও আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে তার দ্বন্দ্ব তৈরি হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, এই বিরোধকে কেন্দ্র করেই ২০১৬ সালের ২ নভেম্বর ভোরে ৬০–৭০ জনের একটি দল তার বাড়িতে হামলা চালায়। তৎকালীন এমপি স্বপন ভট্টাচার্য ও উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি কাজী মাহমুদুল হাসানের নির্দেশে আনিচুর রহমানকে কুপিয়ে আহত করা হয় এবং পায়ে গুলি করা হয়। এরপর তৎকালীন ওসিকে ডেকে এনে গুরুতর আহত আনিচুরকে গাড়িতে তুলে নেওয়া হয়। পরদিন যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে তার লাশ পাওয়া যায়।

সর্বাধিক পঠিত

বেনাপোলে সোনা, ডলার ও ওষুধ চোরাচালানের ‘ডন’ ইকরামুলের বিরুদ্ধে বিজিবির মামলা

মনিরামপুরে: বিএনপি কর্মী আনিচুর হত্যা মামলা, ৮ বছর পর আসামি গ্রেপ্তার,

আপডেট: ০৭:১২:২৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর ২০২৫

যশোরের মনিরামপুর উপজেলার লাউড়ী গ্রামের বিএনপি কর্মী আনিচুর রহমান হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি আরাধন ঘোষ ওরফে বাসুদেব ঘোষকে (৫০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার (১৬ নভেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার কাশিপুর কাঁঠালতলা বাজার এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত আরাধন উত্তর লাউড়ী গ্রামের নীরাপদ ঘোষের ছেলে।
আদালতে সোপর্দ ও কারাগারে প্রেরণ
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মনিরামপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ওবায়দুর রহমান সোমবার আটককৃত আরাধন ঘোষকে যশোর আদালতে হাজির করেন। শুনানি শেষে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষাপট ও এজাহার
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ২ নভেম্বর বিএনপি কর্মী আনিচুর রহমান খুন হন। হত্যাকাণ্ডের আট বছর পর চলতি বছর (২০২৪ সালের ২২ আগস্ট) নিহত আনিচুর রহমানের ভাই মফিজুর রহমান আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, মামলায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সাবেক প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য, মনিরামপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র কাজী মাহমুদুল হাসান এবং থানার তৎকালীন ওসি বিপ্লব কুমার নাথসহ মোট ৬০ জনকে অভিযুক্ত করা হয়। আদালতের নির্দেশে পরবর্তীতে মামলাটি মনিরামপুর থানায় নিয়মিত মামলা হিসেবে নথিভুক্ত হয়। গ্রেপ্তারকৃত আরাধন ঘোষ এই মামলার এজাহারভুক্ত অন্যতম আসামি।
এজাহারে রাজনৈতিক হত্যার অভিযোগ
মামলার এজাহারে মফিজুর রহমান উল্লেখ করেন, আনিচুর রহমান বিএনপির সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তার এই রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে স্থানীয় এমপি ও আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে তার দ্বন্দ্ব তৈরি হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, এই বিরোধকে কেন্দ্র করেই ২০১৬ সালের ২ নভেম্বর ভোরে ৬০–৭০ জনের একটি দল তার বাড়িতে হামলা চালায়। তৎকালীন এমপি স্বপন ভট্টাচার্য ও উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি কাজী মাহমুদুল হাসানের নির্দেশে আনিচুর রহমানকে কুপিয়ে আহত করা হয় এবং পায়ে গুলি করা হয়। এরপর তৎকালীন ওসিকে ডেকে এনে গুরুতর আহত আনিচুরকে গাড়িতে তুলে নেওয়া হয়। পরদিন যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে তার লাশ পাওয়া যায়।