০৫:৪৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

বেনাপোল দিয়ে দেশে ফিরলেন ভারতে পাচার হওয়া শান্ত্বনা: ১১ বছর পর

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৮:৩৩:২৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ নভেম্বর ২০২৫
  • ৫৭১

দীর্ঘ ১১ বছর নিখোঁজ থাকার পর ভারতে পাচারের শিকার শান্ত্বনা বেগম (৪৫) অবশেষে বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে দেশে ফিরেছেন। গতকাল মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) সন্ধ্যায় ভারতের পেট্রাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশ তাকে বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে বাংলাদেশের ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।
শান্ত্বনা গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার উত্তর রাজিবপুর গ্রামের আবুল সালামের মেয়ে এবং তার স্বামী স্থানীয় একটি আদালতের মহুরীর কাজ করতেন।
নিখোঁজ এবং খোঁজ পাওয়ার ইতিবৃত্ত
* মানসিক প্রতিবন্ধী: শান্ত্বনা বেগম মানসিক প্রতিবন্ধী ছিলেন এবং দাম্পত্য জীবনে তিনি চারটি পুত্র সন্তানের জননী।
* নিখোঁজ: ১১ বছর আগে তিনি নিখোঁজ হন। অতীতেও তিনি বাড়ি থেকে প্রায়শই নিখোঁজ হতেন, তবে পরে খোঁজ মিলত। এইবারের নিখোঁজের পর আর খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না।
* উদ্ধার: দীর্ঘ ১১ বছর পর গত বছরের ১৭ জুলাই ভারতের কানপুরের একটি আশ্রয় কেন্দ্রে তার সন্ধান পান পশ্চিমবঙ্গের ঈশ্বর সংকল্প নামের একটি বেসরকারি সংস্থার সমন্বয়ক তপন প্রধান।
* দেশে ফেরা: তপন প্রধান এবং বাংলাদেশের ফটো সাংবাদিক শামসুল হুদার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে যাচাই-বাছাই শেষে শান্ত্বনাকে আজ দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হলো।
পরিবারকে খুঁজে বের করা
যার প্রচেষ্টায় শান্ত্বনাকে পাওয়া যায়, সেই সাংবাদিক শামসুল হুদা জানান, শান্ত্বনা শুধু তার স্বামীর নাম ও ঠিকানা বলতে পারতেন, কিন্তু কীভাবে ভারতে গেলেন তা বলতে পারেননি। শামসুল হুদা তার দেওয়া ঠিকানা অনুযায়ী দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর স্থানীয় চেয়ারম্যান মোখলেছুর রহমান মণ্ডলকে ফোন করেন এবং তার মাধ্যমে শান্ত্বনার বাবা আব্দুল সালাম আকন্দকে খুঁজে পান। এর পরই শুরু হয় শান্ত্বনার দেশে ফেরার প্রক্রিয়া।
শান্ত্বনার ভাই মজনু মিয়া বোনকে ফিরে পেয়ে অত্যন্ত খুশি এবং তপন প্রধানের প্রচেষ্টার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি নিশ্চিত করেন যে তার বোন ১১ বছর আগে পাচার হয়ে ভারতে গিয়েছিলেন।
আইনি প্রক্রিয়া ও হস্তান্তর
বেনাপোল চেকপোস্টের ইমিগ্রেশন পুলিশের পরিদর্শক তাজুল ইসলাম বলেন, ইমিগ্রেশনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে ফেরত আসা শান্ত্বনাকে বেনাপোল পোর্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। সেখান থেকে জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার নামের এনজিও সংস্থা তাকে তার পরিবারের কাছে পৌঁছে দেবে।

সর্বাধিক পঠিত

লালমনিরহাট সীমান্তের তিন পয়েন্টে ৩৩ জনকে পুশইনের চেষ্টা, বিজিবির তৎপরতায় ব্যর্থ বিএসএফ

বেনাপোল দিয়ে দেশে ফিরলেন ভারতে পাচার হওয়া শান্ত্বনা: ১১ বছর পর

আপডেট: ০৮:৩৩:২৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ নভেম্বর ২০২৫

দীর্ঘ ১১ বছর নিখোঁজ থাকার পর ভারতে পাচারের শিকার শান্ত্বনা বেগম (৪৫) অবশেষে বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে দেশে ফিরেছেন। গতকাল মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) সন্ধ্যায় ভারতের পেট্রাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশ তাকে বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে বাংলাদেশের ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।
শান্ত্বনা গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার উত্তর রাজিবপুর গ্রামের আবুল সালামের মেয়ে এবং তার স্বামী স্থানীয় একটি আদালতের মহুরীর কাজ করতেন।
নিখোঁজ এবং খোঁজ পাওয়ার ইতিবৃত্ত
* মানসিক প্রতিবন্ধী: শান্ত্বনা বেগম মানসিক প্রতিবন্ধী ছিলেন এবং দাম্পত্য জীবনে তিনি চারটি পুত্র সন্তানের জননী।
* নিখোঁজ: ১১ বছর আগে তিনি নিখোঁজ হন। অতীতেও তিনি বাড়ি থেকে প্রায়শই নিখোঁজ হতেন, তবে পরে খোঁজ মিলত। এইবারের নিখোঁজের পর আর খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না।
* উদ্ধার: দীর্ঘ ১১ বছর পর গত বছরের ১৭ জুলাই ভারতের কানপুরের একটি আশ্রয় কেন্দ্রে তার সন্ধান পান পশ্চিমবঙ্গের ঈশ্বর সংকল্প নামের একটি বেসরকারি সংস্থার সমন্বয়ক তপন প্রধান।
* দেশে ফেরা: তপন প্রধান এবং বাংলাদেশের ফটো সাংবাদিক শামসুল হুদার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে যাচাই-বাছাই শেষে শান্ত্বনাকে আজ দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হলো।
পরিবারকে খুঁজে বের করা
যার প্রচেষ্টায় শান্ত্বনাকে পাওয়া যায়, সেই সাংবাদিক শামসুল হুদা জানান, শান্ত্বনা শুধু তার স্বামীর নাম ও ঠিকানা বলতে পারতেন, কিন্তু কীভাবে ভারতে গেলেন তা বলতে পারেননি। শামসুল হুদা তার দেওয়া ঠিকানা অনুযায়ী দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর স্থানীয় চেয়ারম্যান মোখলেছুর রহমান মণ্ডলকে ফোন করেন এবং তার মাধ্যমে শান্ত্বনার বাবা আব্দুল সালাম আকন্দকে খুঁজে পান। এর পরই শুরু হয় শান্ত্বনার দেশে ফেরার প্রক্রিয়া।
শান্ত্বনার ভাই মজনু মিয়া বোনকে ফিরে পেয়ে অত্যন্ত খুশি এবং তপন প্রধানের প্রচেষ্টার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি নিশ্চিত করেন যে তার বোন ১১ বছর আগে পাচার হয়ে ভারতে গিয়েছিলেন।
আইনি প্রক্রিয়া ও হস্তান্তর
বেনাপোল চেকপোস্টের ইমিগ্রেশন পুলিশের পরিদর্শক তাজুল ইসলাম বলেন, ইমিগ্রেশনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে ফেরত আসা শান্ত্বনাকে বেনাপোল পোর্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। সেখান থেকে জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার নামের এনজিও সংস্থা তাকে তার পরিবারের কাছে পৌঁছে দেবে।