০৪:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

৬,০০০ কোটি টাকার সম্পদ ‘মুহূর্তেই উধাও’: ৫ দুর্বল ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার ‘শূন্য’ ঘোষণা

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১০:৫৮:৪৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ নভেম্বর ২০২৫
  • ৫৯৬

বাংলাদেশ ব্যাংকের এক বড় সিদ্ধান্তের ফলে দেশের পাঁচটি দুর্বল ইসলামী ধারার ব্যাংকের শেয়ারের মূল্য সম্প্রতি ‘শূন্য’ ঘোষণা করা হয়েছে। এই ঘোষণার জেরে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংকগুলোর ৬,০০০ কোটি টাকারও বেশি সম্পদ এক মুহূর্তে উধাও হয়ে গেছে।
জানা গেছে, ১০ টাকা ফেসভ্যালুর ভিত্তিতে এই পাঁচ ব্যাংকের মোট ৫৮১ কোটি ৯৫ লাখ ৭১ হাজার ৯৫৯টি শেয়ারের বাজারমূল্য ছিল প্রায় ৫,৮১৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হয়েছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা।ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীরা
বাংলাদেশ ব্যাংকের এই সিদ্ধান্তে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে থাকা ২১৯ কোটি ৮৪ লাখ ৭৫ হাজার ৩৬৪টি শেয়ারের বিনিয়োগমূল্য ২,২০০ কোটি টাকা মুহূর্তে তাদের পোর্টফোলিও থেকে মুছে গেছে। অর্থাৎ, মোট ক্ষতির প্রায় ৩৭ শতাংশই সাধারণ জনগণের।
এছাড়াও, অন্যান্য অংশীদারদের বিপুল পরিমাণ অর্থ নিঃশেষ হয়ে গেছে:
* প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী: ২,২০৩ কোটি ৭ লাখ টাকা
* উদ্যোক্তা-পরিচালক: ১,৩৯০ কোটি ৫৩ লাখ টাকা
* বিদেশি বিনিয়োগকারী: ২৪ কোটি ৪৫ লাখ টাকা
গভর্নরের বক্তব্য: ‘ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে না’
বাংলাদেশ ব্যাংক স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, শেয়ারহোল্ডারদের কোনো প্রকার ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে না।
গভর্নর বলেছেন, “পাঁচ ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডারদের ইকুইটির মূল্য ঋণাত্মক ৩০০ থেকে ৪০০ শতাংশ। আইন অনুযায়ী এটি আদায় করা উচিত ছিল। তবে তা না করে, শূন্যের নিচে থাকা এই শেয়ারগুলোর মূল্য জিরো (০) হিসেবে ধরা হবে।” যে ৫ ব্যাংকের পর্ষদ বিলুপ্ত
ঋণ কেলেঙ্কারি ও অনিয়মের দায়ে অভিযুক্ত এই ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদ ইতোমধ্যে বিলুপ্ত করে প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ব্যাংকগুলো হলো:
১. ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক
২. সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক (এসআইবিএল)
৩. এক্সিম ব্যাংক
৪. গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক
৫. ইউনিয়ন ব্যাংক
⚖️ আর্থিক অন্যায়ের উদাহরণ ও বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ
বিশেষজ্ঞরা এই পরিস্থিতিকে “আর্থিক অন্যায়ের প্রকৃষ্ট উদাহরণ” হিসেবে দেখছেন। অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আবু আহমেদ মনে করেন, “যারা ব্যাংক লুট করেছে, তাদের দায়ভার এখন সাধারণ বিনিয়োগকারীর ওপর চাপানো হচ্ছে।”
বিনিয়োগকারীরা বলছেন, এটি কেবল ব্যক্তিগত ক্ষতি নয়, বরং এর ফলে শেয়ারবাজারে আস্থা দুলবে, বিনিয়োগের প্রবাহ স্থবির হবে, এবং সামগ্রিক আর্থিক স্থিতিশীলতার ভিত্তিতে কাঁপন ছড়াবে, যার প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।
> বিনিয়োগকারী মো. মহসিন প্রশ্ন তুলেছেন, “একীভূত হওয়া ব্যাংকে বিনিয়োগকারীর শেয়ার ফিরিয়ে দিতে হবে। লুটের দায় কেন সাধারণ মানুষকে নিতে হবে?”
>
📊 ভয়াবহ অর্থনৈতিক চিত্র
ব্যাংকগুলোর আর্থিক চিত্র ভয়াবহ। সম্মিলিতভাবে এই পাঁচ ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি ও খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৮৬ হাজার কোটি টাকা।
অ্যাসেট কোয়ালিটি রিভিউ (একিউআর) প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ব্যাংকগুলোর গড় খেলাপি ঋণ ৭৭ শতাংশ। এককভাবে ইউনিয়ন ব্যাংকের খেলাপি ঋণ সর্বোচ্চ ৯৮ শতাংশ, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ৯৬ শতাংশ এবং গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের ৯৫ শতাংশ

সর্বাধিক পঠিত

লালমনিরহাট সীমান্তের তিন পয়েন্টে ৩৩ জনকে পুশইনের চেষ্টা, বিজিবির তৎপরতায় ব্যর্থ বিএসএফ

৬,০০০ কোটি টাকার সম্পদ ‘মুহূর্তেই উধাও’: ৫ দুর্বল ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার ‘শূন্য’ ঘোষণা

আপডেট: ১০:৫৮:৪৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ নভেম্বর ২০২৫

বাংলাদেশ ব্যাংকের এক বড় সিদ্ধান্তের ফলে দেশের পাঁচটি দুর্বল ইসলামী ধারার ব্যাংকের শেয়ারের মূল্য সম্প্রতি ‘শূন্য’ ঘোষণা করা হয়েছে। এই ঘোষণার জেরে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংকগুলোর ৬,০০০ কোটি টাকারও বেশি সম্পদ এক মুহূর্তে উধাও হয়ে গেছে।
জানা গেছে, ১০ টাকা ফেসভ্যালুর ভিত্তিতে এই পাঁচ ব্যাংকের মোট ৫৮১ কোটি ৯৫ লাখ ৭১ হাজার ৯৫৯টি শেয়ারের বাজারমূল্য ছিল প্রায় ৫,৮১৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হয়েছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা।ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীরা
বাংলাদেশ ব্যাংকের এই সিদ্ধান্তে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে থাকা ২১৯ কোটি ৮৪ লাখ ৭৫ হাজার ৩৬৪টি শেয়ারের বিনিয়োগমূল্য ২,২০০ কোটি টাকা মুহূর্তে তাদের পোর্টফোলিও থেকে মুছে গেছে। অর্থাৎ, মোট ক্ষতির প্রায় ৩৭ শতাংশই সাধারণ জনগণের।
এছাড়াও, অন্যান্য অংশীদারদের বিপুল পরিমাণ অর্থ নিঃশেষ হয়ে গেছে:
* প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী: ২,২০৩ কোটি ৭ লাখ টাকা
* উদ্যোক্তা-পরিচালক: ১,৩৯০ কোটি ৫৩ লাখ টাকা
* বিদেশি বিনিয়োগকারী: ২৪ কোটি ৪৫ লাখ টাকা
গভর্নরের বক্তব্য: ‘ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে না’
বাংলাদেশ ব্যাংক স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, শেয়ারহোল্ডারদের কোনো প্রকার ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে না।
গভর্নর বলেছেন, “পাঁচ ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডারদের ইকুইটির মূল্য ঋণাত্মক ৩০০ থেকে ৪০০ শতাংশ। আইন অনুযায়ী এটি আদায় করা উচিত ছিল। তবে তা না করে, শূন্যের নিচে থাকা এই শেয়ারগুলোর মূল্য জিরো (০) হিসেবে ধরা হবে।” যে ৫ ব্যাংকের পর্ষদ বিলুপ্ত
ঋণ কেলেঙ্কারি ও অনিয়মের দায়ে অভিযুক্ত এই ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদ ইতোমধ্যে বিলুপ্ত করে প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ব্যাংকগুলো হলো:
১. ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক
২. সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক (এসআইবিএল)
৩. এক্সিম ব্যাংক
৪. গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক
৫. ইউনিয়ন ব্যাংক
⚖️ আর্থিক অন্যায়ের উদাহরণ ও বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ
বিশেষজ্ঞরা এই পরিস্থিতিকে “আর্থিক অন্যায়ের প্রকৃষ্ট উদাহরণ” হিসেবে দেখছেন। অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আবু আহমেদ মনে করেন, “যারা ব্যাংক লুট করেছে, তাদের দায়ভার এখন সাধারণ বিনিয়োগকারীর ওপর চাপানো হচ্ছে।”
বিনিয়োগকারীরা বলছেন, এটি কেবল ব্যক্তিগত ক্ষতি নয়, বরং এর ফলে শেয়ারবাজারে আস্থা দুলবে, বিনিয়োগের প্রবাহ স্থবির হবে, এবং সামগ্রিক আর্থিক স্থিতিশীলতার ভিত্তিতে কাঁপন ছড়াবে, যার প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।
> বিনিয়োগকারী মো. মহসিন প্রশ্ন তুলেছেন, “একীভূত হওয়া ব্যাংকে বিনিয়োগকারীর শেয়ার ফিরিয়ে দিতে হবে। লুটের দায় কেন সাধারণ মানুষকে নিতে হবে?”
>
📊 ভয়াবহ অর্থনৈতিক চিত্র
ব্যাংকগুলোর আর্থিক চিত্র ভয়াবহ। সম্মিলিতভাবে এই পাঁচ ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি ও খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৮৬ হাজার কোটি টাকা।
অ্যাসেট কোয়ালিটি রিভিউ (একিউআর) প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ব্যাংকগুলোর গড় খেলাপি ঋণ ৭৭ শতাংশ। এককভাবে ইউনিয়ন ব্যাংকের খেলাপি ঋণ সর্বোচ্চ ৯৮ শতাংশ, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ৯৬ শতাংশ এবং গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের ৯৫ শতাংশ