০৪:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

যশোরে দিনরাত মশার উপদ্রব, কয়েল-স্প্রেতেও মিলছে না মুক্তি; আতঙ্কিত নগরবাসীর মশক নিধন অভিযানের দাবি

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১০:৫৮:০৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৫
  • ৫৮৮

সাড়ে চার লাখ মানুষের শহর যশোর বর্তমানে মশার উপদ্রবে নাকাল। দিন হোক বা রাত, মশার হুলে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন নগরবাসী। ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া ও মৌসুমী জ্বরের প্রকোপ বাড়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়লেও প্রশাসক পরিচালিত পৌরসভা কর্তৃপক্ষ মশক নিধনে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।
মশার উপদ্রব: জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি
যশোরের প্রায় প্রতিটি ওয়ার্ডেই এখন জ্বর-জ্বরায় আক্রান্ত রোগী দেখা যাচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষ ডেঙ্গু বা চিকুনগুনিয়ার আশঙ্কায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।
* ব্যবসায়ী মনিরুল ইসলামের অভিযোগ, “রাতে যেমন মশা কামড়ায়, দিনে তেমনি ঘুমানো বা বসা দায়। দোকানে কয়েল জ্বালিয়েও কোনো উপকার মেলে না।” তিনি ড্রেনেজ ব্যবস্থার দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, ময়লা জমে পানি চলাচল বন্ধ থাকায় ড্রেনগুলো মশা ও শুককীটের আঁতুড়ঘরে পরিণত হয়েছে।
* প্রকৌশলী নাজির আহমেদ জানান, নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার ও ময়লা অপসারণ না হওয়ায় মশা নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েছে। শিশুদের পড়াশোনা করতেও এখন দিনরাত মশারি ব্যবহার করতে হচ্ছে।
* কলেজ শিক্ষার্থী নিতাই রায় ও মহসীন আলী বলেন, দিনের বেলাতেও কয়েল জ্বালিয়ে কাজ না হওয়ায় সবসময় মশারি টানিয়ে রাখতে হয়।
🛒 কয়েলের বিক্রি বেড়েছে
যশোর বড় বাজারের বেশ কয়েকজন মুদি দোকানি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, সাধারণত শীতের আগে মশার কয়েলের বিক্রি কম থাকলেও এবার মশার উৎপাত বাড়ায় কয়েল ও এরোশলের বিক্রি অনেক বেড়েছে।
🔬 বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখনই কার্যকর পদক্ষেপের সময়
যশোর সরকারি এমএম কলেজের প্রাণিবিজ্ঞান বিভাগের একজন সহযোগী অধ্যাপক (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) মনে করেন, মশা নিধনে ব্যবহৃত ওষুধের ‘ল্যাথাল ডোজ’ (মারণমাত্রা) ঠিকমতো যাচাই না হলে মশা মরে না, বরং প্রতিরোধী হয়ে যায়। তিনি পৌর কর্তৃপক্ষের সমালোচনা করে বলেন, মশক নিধনের আগে ও পরে মশার ঘনত্ব যাচাই না করা এক ধরনের দুর্নীতি ও দায়িত্বে অবহেলার সামিল।
তিনি মনে করিয়ে দেন, গরমে মশার প্রজননের উপযুক্ত সময় পার হয়ে শীতের আগমনী বার্তা এলেও মশার উপদ্রব বেড়ে গেছে। এখনই যদি কার্যকর নিধন অভিযান চালানো যায়, তবে সারা বছর মশার উপদ্রব কম থাকবে।
নাগরিক ও প্রশাসনের বক্তব্য
* নাগরিকদের দাবি: ফেসবুকভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম ‘Jessore Town’ সহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন দ্রুত কার্যকর মশক নিধন কর্মসূচি, ওষুধ ছিটানো, নালা-নর্দমা পরিষ্কার এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছে।
* পৌর কর্তৃপক্ষ: মাস কয়েক আগে যশোর পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তা উত্তম কুমার কুণ্ডু জানিয়েছিলেন, শিগগিরই মশক নিধন কার্যক্রম শুরু হবে এবং এ নিয়ে পৌর পরিষদে আলোচনা চলছে।
* সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্র জানায়, মশার উপদ্রব জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি। তারা শিগগিরই পৌরসভাকে মশক নিধন অভিযানে নামার অনুরোধ জানাবেন।
যশোরবাসী দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন যাতে তারা মশার অত্যাচার থেকে মুক্তি পেয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারেন।

সর্বাধিক পঠিত

লালমনিরহাট সীমান্তের তিন পয়েন্টে ৩৩ জনকে পুশইনের চেষ্টা, বিজিবির তৎপরতায় ব্যর্থ বিএসএফ

যশোরে দিনরাত মশার উপদ্রব, কয়েল-স্প্রেতেও মিলছে না মুক্তি; আতঙ্কিত নগরবাসীর মশক নিধন অভিযানের দাবি

আপডেট: ১০:৫৮:০৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৫

সাড়ে চার লাখ মানুষের শহর যশোর বর্তমানে মশার উপদ্রবে নাকাল। দিন হোক বা রাত, মশার হুলে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন নগরবাসী। ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া ও মৌসুমী জ্বরের প্রকোপ বাড়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়লেও প্রশাসক পরিচালিত পৌরসভা কর্তৃপক্ষ মশক নিধনে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।
মশার উপদ্রব: জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি
যশোরের প্রায় প্রতিটি ওয়ার্ডেই এখন জ্বর-জ্বরায় আক্রান্ত রোগী দেখা যাচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষ ডেঙ্গু বা চিকুনগুনিয়ার আশঙ্কায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।
* ব্যবসায়ী মনিরুল ইসলামের অভিযোগ, “রাতে যেমন মশা কামড়ায়, দিনে তেমনি ঘুমানো বা বসা দায়। দোকানে কয়েল জ্বালিয়েও কোনো উপকার মেলে না।” তিনি ড্রেনেজ ব্যবস্থার দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, ময়লা জমে পানি চলাচল বন্ধ থাকায় ড্রেনগুলো মশা ও শুককীটের আঁতুড়ঘরে পরিণত হয়েছে।
* প্রকৌশলী নাজির আহমেদ জানান, নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার ও ময়লা অপসারণ না হওয়ায় মশা নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েছে। শিশুদের পড়াশোনা করতেও এখন দিনরাত মশারি ব্যবহার করতে হচ্ছে।
* কলেজ শিক্ষার্থী নিতাই রায় ও মহসীন আলী বলেন, দিনের বেলাতেও কয়েল জ্বালিয়ে কাজ না হওয়ায় সবসময় মশারি টানিয়ে রাখতে হয়।
🛒 কয়েলের বিক্রি বেড়েছে
যশোর বড় বাজারের বেশ কয়েকজন মুদি দোকানি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, সাধারণত শীতের আগে মশার কয়েলের বিক্রি কম থাকলেও এবার মশার উৎপাত বাড়ায় কয়েল ও এরোশলের বিক্রি অনেক বেড়েছে।
🔬 বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখনই কার্যকর পদক্ষেপের সময়
যশোর সরকারি এমএম কলেজের প্রাণিবিজ্ঞান বিভাগের একজন সহযোগী অধ্যাপক (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) মনে করেন, মশা নিধনে ব্যবহৃত ওষুধের ‘ল্যাথাল ডোজ’ (মারণমাত্রা) ঠিকমতো যাচাই না হলে মশা মরে না, বরং প্রতিরোধী হয়ে যায়। তিনি পৌর কর্তৃপক্ষের সমালোচনা করে বলেন, মশক নিধনের আগে ও পরে মশার ঘনত্ব যাচাই না করা এক ধরনের দুর্নীতি ও দায়িত্বে অবহেলার সামিল।
তিনি মনে করিয়ে দেন, গরমে মশার প্রজননের উপযুক্ত সময় পার হয়ে শীতের আগমনী বার্তা এলেও মশার উপদ্রব বেড়ে গেছে। এখনই যদি কার্যকর নিধন অভিযান চালানো যায়, তবে সারা বছর মশার উপদ্রব কম থাকবে।
নাগরিক ও প্রশাসনের বক্তব্য
* নাগরিকদের দাবি: ফেসবুকভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম ‘Jessore Town’ সহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন দ্রুত কার্যকর মশক নিধন কর্মসূচি, ওষুধ ছিটানো, নালা-নর্দমা পরিষ্কার এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছে।
* পৌর কর্তৃপক্ষ: মাস কয়েক আগে যশোর পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তা উত্তম কুমার কুণ্ডু জানিয়েছিলেন, শিগগিরই মশক নিধন কার্যক্রম শুরু হবে এবং এ নিয়ে পৌর পরিষদে আলোচনা চলছে।
* সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্র জানায়, মশার উপদ্রব জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি। তারা শিগগিরই পৌরসভাকে মশক নিধন অভিযানে নামার অনুরোধ জানাবেন।
যশোরবাসী দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন যাতে তারা মশার অত্যাচার থেকে মুক্তি পেয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারেন।