যশোরের ঝিকরগাছায় একাধিক মামলার আসামি মো. কামরুল ইসলাম ওরফে ‘ব্যাকা কামরুল’কে আটক করেছে থানা পুলিশ। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে তাঁকে আটক করা হয়।
আটক কামরুল ইসলাম ঝিকরগাছা উপজেলার হাজিরবাগ ইউনিয়নের মুকুন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তাঁর বিরুদ্ধে এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, হামলা, অস্ত্র মজুত ও স্বর্ণ চোরাচালানের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, কামরুল এলাকায় পরিচিত আতিয়ার-বজলে গ্রুপের সক্রিয় সদস্য। এ ছাড়া নির্বাসখোলা ইউনিয়নের দিঘড়ী গ্রামের রেজাউল ইসলামের কথিত অবৈধ স্বর্ণ চোরাচালান কার্যক্রমের সহযোগী হিসেবেও তাঁর নাম উঠে এসেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ১৫ জুন রাত ৮টার দিকে মুকুন্দপুর গ্রামে কয়েকজন ব্যক্তির ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, কামরুলের কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করায় তাঁর সহযোগী হিসেবে পরিচিত রুস্তুম, রাশিদুল, কামাল ও তিশানসহ কয়েকজন ওই হামলায় অংশ নেন।
এ ঘটনায় মুকুন্দপুর গ্রামের ইসলামের ছেলে হাবিব, মৃত ফটিক সরদারের ছেলে ইমান আলী এবং মৃত জাহান আলীর ছেলে আজিজুল আহত হন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে আহত আজিজুলের বড় ভাই আবুল ইসলাম বাদী হয়ে ঝিকরগাছা থানায় মামলা করেন। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, মামলাটি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন।
এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, কামরুলের কাছে দেশি-বিদেশি অস্ত্র মজুত রয়েছে। তাঁর দাবি, এ কারণে এলাকার মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। নিরাপত্তার আশঙ্কায় অনেকে প্রকাশ্যে অভিযোগ করতেও সাহস পাচ্ছেন না। তবে অস্ত্র মজুতের অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় সূত্রের আরও দাবি, কামরুল ইসলাম হাজিরবাগ ইউনিয়ন তাঁতী লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার অভিযোগও উঠেছে। এ-সংক্রান্ত কিছু তথ্য হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রাম গ্রুপে রয়েছে বলে দাবি করা হলেও সেগুলোর সত্যতা ও আইনগত গুরুত্ব নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
কামরুলকে কোন মামলায় আটক করা হয়েছে, তাঁর বিরুদ্ধে মোট কতটি মামলা রয়েছে এবং অন্যান্য অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের তদন্তের অগ্রগতি কী—এসব বিষয়ে পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে ঘটনার বিস্তারিত জানা যাবে।



















