যশোরে ডাব চুরির অপবাদে মারধরের পর কিশোর স্বাধীন (১৬) হত্যার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন নিহতের মা সুমাইয়া আক্তার। একই সঙ্গে মামলার এজাহারভুক্ত আসামিদের পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) যশোর প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানান সুমাইয়া আক্তার। এ সময় ছেলের ওপর নির্যাতন ও তার মৃত্যুর ঘটনা বর্ণনা করতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সুমাইয়া আক্তার বলেন, গত ১৮ অক্টোবর তাঁর ছেলে স্বাধীন ফুপার সঙ্গে পূজামণ্ডপ দেখতে বাড়ি থেকে বের হয়। পথে ডাব চুরির অপবাদ দিয়ে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি তাকে বেধড়ক মারধর করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি জানান, ছেলেকে মারধরের খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করেন। কিন্তু সেখানে উপস্থিত কয়েকজন নারী ও পুরুষ স্বাধীনকে পরিবারের কাছে দিতে বাধা দেন বলে অভিযোগ তাঁর। পরে তাকে উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকেরা উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠান। পরে ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় স্বাধীন মারা যায়।
নিহতের মা অভিযোগ করেন, স্বাধীনকে মারধরের ঘটনায় একাধিক ব্যক্তি জড়িত থাকলেও এখনো সবাইকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হয়নি। এ ঘটনায় যশোর কোতোয়ালি থানায় মামলা করা হয়েছে। তবে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার ও মামলার অগ্রগতি নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন তাঁরা।
সুমাইয়া আক্তার বলেন, “আমি আমার সন্তানের হত্যার বিচার চাই। যারা আমার ছেলেকে নির্মমভাবে মারধর করেছে, তাদের সবাইকে খুঁজে বের করে গ্রেপ্তার করতে হবে। মামলায় যাদের নাম রয়েছে, তাদের পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা যারা এ ঘটনায় জড়িত, তাদেরও শনাক্ত করতে হবে। আমি চাই, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের বিচার হোক।”
তিনি আরও বলেন, “আমি কোনো নিরপরাধ মানুষকে হয়রানি করতে চাই না। যারা প্রকৃত অপরাধী, তাদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হোক। আমার ছেলের সঙ্গে যারা এমন নির্মম ঘটনা ঘটিয়েছে, তাদের বিচার চাই।”
সংবাদ সম্মেলনে সুমাইয়া আক্তার আরও অভিযোগ করেন, ছেলের মৃত্যুর পর থেকে পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। আসামিপক্ষের সম্ভাব্য হুমকি ও প্রভাব বিস্তারের আশঙ্কায় তাঁরা উদ্বিগ্ন রয়েছেন বলে জানান তিনি।
এ পরিস্থিতিতে পরিবারের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ ও প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেন নিহতের মা। পাশাপাশি মামলাটির তদন্তে যেন কোনো ধরনের অবহেলা না হয়, সে বিষয়েও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।
সুমাইয়া আক্তার বলেন, সন্তান হারানোর শোক নিয়ে প্রতিটি দিন কাটছে তাঁর। ছেলের মৃত্যুর ঘটনায় সুষ্ঠু বিচার না পাওয়া পর্যন্ত তাঁদের কষ্টের অবসান হবে না। তাই ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন, জড়িত প্রত্যেককে শনাক্ত এবং তাঁদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
সাংবাদিকদের উদ্দেশে নিহতের মা বলেন, সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আনা প্রয়োজন, যাতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয় এবং প্রকৃত অপরাধীরা শাস্তির আওতায় আসে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সঙ্গে জড়িত সবাইকে শনাক্ত করবে এবং তাঁর পরিবার ন্যায়বিচার পাবে।
সংবাদ সম্মেলনে কিশোর স্বাধীন হত্যার ঘটনায় দ্রুত তদন্তের অগ্রগতি নিশ্চিত করা, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং নিহতের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়।




















