বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের হিসাব বিভাগের (এফএএন্ডসিও) বিরুদ্ধে অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের পারিবারিক পেনশন এবং অন্যান্য প্রাপ্য অর্থ পরিশোধে অনিয়ম, হয়রানি ও ঘুষ দাবির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন পূর্বাঞ্চলের ফাইন্যান্স অ্যাডভাইজার অ্যান্ড চিফ অ্যাকাউন্টস অফিসার (এফএএন্ডসিও) সাইদুর রহমান এবং তাঁর দপ্তরের হিসাবরক্ষক শেখ জামালসহ কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, পে-ফিক্সেশন, পেনশনের বকেয়া বিল প্রস্তুত, পারিবারিক পেনশন অনুমোদন এবং অর্থ ছাড়ের বিভিন্ন পর্যায়ে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি করা হচ্ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ফাইল আটকে রেখে অর্থ দাবি করার অভিযোগও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীন তদন্ত বা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রমাণিত কোনো সিদ্ধান্তের তথ্য পাওয়া যায়নি।
অভিযোগকারীদের দাবি, বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত অনিয়ম চিহ্নিত করা এবং পেনশনপ্রত্যাশীদের হয়রানি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
রেলওয়ে সূত্রে পাওয়া অভিযোগ অনুযায়ী, কোনো কর্মচারী অবসরে যাওয়ার পর কিংবা তাঁর মৃত্যুর পর বৈধ উত্তরাধিকারীরা কল্যাণ তহবিল, বকেয়া পেনশন ও পারিবারিক পেনশনের অর্থ পেতে হিসাব বিভাগের বিভিন্ন প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হন। এসব প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার পরও কিছু ফাইল দীর্ঘদিন আটকে থাকার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
তাঁদের অভিযোগ, ফাইল দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য কোনো কোনো ক্ষেত্রে অনৈতিকভাবে অর্থ দাবি করা হয়। অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানালে কাজ বিলম্বিত করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগে সাইদুর রহমান ও শেখ জামালসহ সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের নাম উঠে এসেছে। তবে কে, কখন, কার কাছে এবং কী পরিমাণ অর্থ দাবি করেছেন—এসব বিষয়ে সুনির্দিষ্ট নথি, প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য কিংবা আর্থিক লেনদেনের প্রমাণ প্রকাশ্যে না আসায় অভিযোগগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অভিযোগকারীদের দাবি, পারিবারিক পেনশন নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাইয়ে অসংগতি রয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, প্রকৃত সুবিধাভোগীদের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হলেও কিছু ক্ষেত্রে পরিচয়, উত্তরাধিকার ও প্রাপ্যতার নথি যথাযথভাবে যাচাই না করেই অর্থ পরিশোধের সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।
এ ধরনের অভিযোগ সত্য হলে তা সরকারি অর্থের নিরাপত্তা ও আর্থিক ব্যবস্থাপনার জন্য গুরুতর উদ্বেগের বিষয় হবে। তবে ভুয়া পরিচয়ে অর্থ উত্তোলন, অযোগ্য ব্যক্তিকে পেনশন প্রদান কিংবা সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট বিল, অনুমোদনপত্র, সুবিধাভোগীর পরিচয়, ব্যাংক লেনদেন ও অডিট নথি পরীক্ষা করা প্রয়োজন।
ভুক্তভোগীদের দাবি, পারিবারিক পেনশন সংক্রান্ত ফাইলগুলো নিরপেক্ষভাবে পর্যালোচনা করা হলে অনিয়ম হয়ে থাকলে তা শনাক্ত করা সম্ভব হবে।
রেলওয়ে সূত্রের বরাতে অভিযোগ করা হয়েছে, পূর্বাঞ্চলের পেনশন দপ্তর সেন্ট্রাল রেলওয়ে বিল্ডিং (সিআরবি) থেকে টিএ পলোগ্রাউন্ডে স্থানান্তরের পর অবসরপ্রাপ্ত ও বয়স্ক পেনশনারদের ভোগান্তি বেড়েছিল। বিশেষ করে শারীরিক প্রতিবন্ধী এবং চলাচলে অক্ষম ব্যক্তিদের তথ্য হালনাগাদ, ডাটা এন্ট্রি ও আইবাস++-সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে সমস্যার মুখে পড়তে হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
পরে প্রতিবাদ ও সমালোচনার পর দপ্তরটি পুনরায় সিআরবিতে স্থানান্তর করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। তবে দপ্তর স্থানান্তরের প্রশাসনিক কারণ, সংশ্লিষ্ট আদেশ এবং স্থানান্তর-পরবর্তী সেবার মান সম্পর্কে কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।
ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার পদ্ধতি চালুর পর কিছু পেনশনারের মোবাইল নম্বর ও ব্যাংক হিসাবসংক্রান্ত জটিলতার কারণে অর্থ পরিশোধে সমস্যা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
তাঁদের দাবি, এসব সমস্যা সমাধানের জন্য বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ করতে গিয়ে দীর্ঘসূত্রতার মুখে পড়তে হচ্ছে। এক দপ্তর থেকে অন্য দপ্তরে ফাইল পাঠানোর কারণে সমস্যার দ্রুত সমাধান হচ্ছে না বলেও অভিযোগ রয়েছে।
বিশেষ করে বয়স্ক পেনশনার, মৃত কর্মচারীদের বিধবা স্ত্রী, প্রতিবন্ধী সন্তান এবং রেলওয়ের নিম্নপদে কর্মরত অবস্থায় অবসর নেওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের জন্য এ ধরনের বিলম্ব আর্থিক সংকট তৈরি করতে পারে।
একজন রেলওয়ে কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, পেনশন ও পারিবারিক পেনশনের অর্থ পেতে দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তির অভিযোগ রয়েছে। তাঁর দাবি, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার পরও অনেককে বারবার দপ্তরে যেতে হয়।
ওই কর্মচারীর অভিযোগ, হিসাব বিভাগের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর কারণে সাধারণ পেনশনপ্রত্যাশীরা অসহায় হয়ে পড়েছেন। তিনি সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয়




















