০২:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

দক্ষিণ আফ্রিকা যাওয়ার পথে জিম্বাবুয়েতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যু

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৯:৫৩:১৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
  • ৫০৫

দক্ষিণ আফ্রিকায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে ঝুঁকিপূর্ণ পথে পাড়ি দিতে গিয়ে জিম্বাবুয়েতে দুই বাংলাদেশি যুবকের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তাঁদের একজন নরসিংদীর রবিউল এবং অন্যজন ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈল উপজেলার মো. নুর আলম। রবিউলের মৃত্যুর ঘটনায় নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছেন তাঁর স্বজনেরা। অন্যদিকে, জিম্বাবুয়ে সীমান্তসংলগ্ন একটি জঙ্গল পাড়ি দেওয়ার সময় অসুস্থ হয়ে নুর আলমের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

দুই যুবকের মৃত্যুর খবরে তাঁদের পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনেরা তাঁদের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান এবং মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

রবিউলের পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় দুই বছর আগে তাঁকে দক্ষিণ আফ্রিকায় পাঠানোর আশ্বাস দিয়ে এক দালাল সাত লাখ টাকা নেন। দীর্ঘ অপেক্ষার পর গত মাসে মেহেদি নামে আরেক ব্যক্তির মাধ্যমে বিভিন্ন দেশ ঘুরিয়ে প্রায় এক মাস ১০ দিনে তাঁকে জিম্বাবুয়েতে নেওয়া হয়।

স্বজনেরা জানান, রবিউলের সঙ্গে থাকা দুই বাংলাদেশির কাছ থেকে তাঁরা জানতে পারেন, মধ্যবর্তী দালালের সঙ্গে অর্থ লেনদেন নিয়ে বিরোধের জেরে রবিউল নির্যাতনের শিকার হন। পরে অসুস্থ হয়ে জিম্বাবুয়েতেই তাঁর মৃত্যু হয় বলে তাঁদের জানানো হয়েছে।

তবে রবিউলকে নির্যাতনের অভিযোগ এবং তাঁর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ ঘটনায় তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটনের দাবি জানিয়েছেন তাঁর স্বজনেরা।

রবিউলের বাবা নায়েব আলী ও মা সুফিয়া বেগম ছেলের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে দক্ষিণ আফ্রিকায় বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশি এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সহযোগিতা চেয়েছেন।

অন্যদিকে, নিহত মো. নুর আলম ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈল উপজেলার ৬ নম্বর কাশিপুর ইউনিয়নের আরাজি চন্দন চহট (মালসুডাঙ্গা) গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর বাবার নাম মো. আব্দুল হাশিম।

পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ১৮ অক্টোবর নুর আলমের মৃত্যু হয়। তবে স্বজনেরা দুই দিন পর, ২০ অক্টোবর তাঁর মৃত্যুর খবর পান।

দক্ষিণ আফ্রিকায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে জিম্বাবুয়ে সীমান্তসংলগ্ন একটি জঙ্গল পাড়ি দেওয়ার সময় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তবে তাঁর মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট স্থান, সময় ও পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

নুর আলমের মরদেহ বর্তমানে কোথায় রয়েছে এবং তা দেশে ফিরিয়ে আনতে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়েও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

বিদেশে কর্মসংস্থানের আশায় দালালের মাধ্যমে দীর্ঘ ও ঝুঁকিপূর্ণ পথে যাত্রা করতে গিয়ে বাংলাদেশি নাগরিকদের মৃত্যুর এসব খবর নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। অনিশ্চিত যাত্রাপথ, মধ্যস্বত্বভোগীদের ওপর নির্ভরতা এবং বিদেশে বিপদে পড়লে প্রয়োজনীয় সহায়তা পাওয়ার অনিশ্চয়তা অভিবাসনপ্রত্যাশীদের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

রবিউল ও নুর আলমের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান, রবিউলের মৃত্যুর ঘটনায় ওঠা নির্যাতনের অভিযোগ তদন্ত এবং দুই পরিবারের কাছে মরদেহ ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর সহযোগিতা প্রয়োজন।

স্বজনদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশি দূতাবাস, প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটি এবং দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে মৃত্যুর প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটনের পাশাপাশি মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সর্বাধিক পঠিত

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের পেনশন বিভাগে ঘুষ-দুর্নীতির অভিযোগ

দক্ষিণ আফ্রিকা যাওয়ার পথে জিম্বাবুয়েতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যু

আপডেট: ০৯:৫৩:১৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

দক্ষিণ আফ্রিকায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে ঝুঁকিপূর্ণ পথে পাড়ি দিতে গিয়ে জিম্বাবুয়েতে দুই বাংলাদেশি যুবকের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তাঁদের একজন নরসিংদীর রবিউল এবং অন্যজন ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈল উপজেলার মো. নুর আলম। রবিউলের মৃত্যুর ঘটনায় নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছেন তাঁর স্বজনেরা। অন্যদিকে, জিম্বাবুয়ে সীমান্তসংলগ্ন একটি জঙ্গল পাড়ি দেওয়ার সময় অসুস্থ হয়ে নুর আলমের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

দুই যুবকের মৃত্যুর খবরে তাঁদের পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনেরা তাঁদের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান এবং মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

রবিউলের পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় দুই বছর আগে তাঁকে দক্ষিণ আফ্রিকায় পাঠানোর আশ্বাস দিয়ে এক দালাল সাত লাখ টাকা নেন। দীর্ঘ অপেক্ষার পর গত মাসে মেহেদি নামে আরেক ব্যক্তির মাধ্যমে বিভিন্ন দেশ ঘুরিয়ে প্রায় এক মাস ১০ দিনে তাঁকে জিম্বাবুয়েতে নেওয়া হয়।

স্বজনেরা জানান, রবিউলের সঙ্গে থাকা দুই বাংলাদেশির কাছ থেকে তাঁরা জানতে পারেন, মধ্যবর্তী দালালের সঙ্গে অর্থ লেনদেন নিয়ে বিরোধের জেরে রবিউল নির্যাতনের শিকার হন। পরে অসুস্থ হয়ে জিম্বাবুয়েতেই তাঁর মৃত্যু হয় বলে তাঁদের জানানো হয়েছে।

তবে রবিউলকে নির্যাতনের অভিযোগ এবং তাঁর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ ঘটনায় তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটনের দাবি জানিয়েছেন তাঁর স্বজনেরা।

রবিউলের বাবা নায়েব আলী ও মা সুফিয়া বেগম ছেলের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে দক্ষিণ আফ্রিকায় বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশি এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সহযোগিতা চেয়েছেন।

অন্যদিকে, নিহত মো. নুর আলম ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈল উপজেলার ৬ নম্বর কাশিপুর ইউনিয়নের আরাজি চন্দন চহট (মালসুডাঙ্গা) গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর বাবার নাম মো. আব্দুল হাশিম।

পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ১৮ অক্টোবর নুর আলমের মৃত্যু হয়। তবে স্বজনেরা দুই দিন পর, ২০ অক্টোবর তাঁর মৃত্যুর খবর পান।

দক্ষিণ আফ্রিকায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে জিম্বাবুয়ে সীমান্তসংলগ্ন একটি জঙ্গল পাড়ি দেওয়ার সময় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তবে তাঁর মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট স্থান, সময় ও পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

নুর আলমের মরদেহ বর্তমানে কোথায় রয়েছে এবং তা দেশে ফিরিয়ে আনতে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়েও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

বিদেশে কর্মসংস্থানের আশায় দালালের মাধ্যমে দীর্ঘ ও ঝুঁকিপূর্ণ পথে যাত্রা করতে গিয়ে বাংলাদেশি নাগরিকদের মৃত্যুর এসব খবর নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। অনিশ্চিত যাত্রাপথ, মধ্যস্বত্বভোগীদের ওপর নির্ভরতা এবং বিদেশে বিপদে পড়লে প্রয়োজনীয় সহায়তা পাওয়ার অনিশ্চয়তা অভিবাসনপ্রত্যাশীদের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

রবিউল ও নুর আলমের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান, রবিউলের মৃত্যুর ঘটনায় ওঠা নির্যাতনের অভিযোগ তদন্ত এবং দুই পরিবারের কাছে মরদেহ ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর সহযোগিতা প্রয়োজন।

স্বজনদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশি দূতাবাস, প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটি এবং দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে মৃত্যুর প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটনের পাশাপাশি মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।