০৭:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

যশোরে মাদকসহ স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা আটক করে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ, ডিবির তিন কর্মকর্তাকে ঘিরে আলোচনা

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৫:৩৭:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬
  • ৫০২

যশোরে নিষিদ্ধ সংগঠন স্বেচ্ছাসেবক লীগের এক নেতাকে মাদকসহ আটক করার পর অর্থের বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) তিন কর্মকর্তাকে ঘিরে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। অভিযুক্ত কর্মকর্তারা হলেন উপপরিদর্শক (এসআই) সালাউদ্দিন, এসআই কামাল হোসেন ও সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) নির্মল কুমার। ঘটনাটি নিয়ে দৈনিক গ্রামের কাগজে সংবাদ প্রকাশের পর রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে নানা বক্তব্য সামনে এসেছে।

অভিযোগ রয়েছে, গত ১৪ অক্টোবর যশোর সদর উপজেলার চূড়ামনকাটি ইউনিয়নের ছাতিয়ানতলা এলাকায় অভিযান চালিয়ে নিষিদ্ধ স্বেচ্ছাসেবক লীগের ওই ইউনিয়নের আহ্বায়ক জাকির হোসেন দরবারকে মাদক ও মাদক সেবনের সরঞ্জামসহ আটক করেন ডিবির ওই তিন কর্মকর্তা। পরে তাঁকে গ্রেপ্তার না করে অর্থের বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য ও স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ ছাড়া একে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই।

ঘটনাসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রের দাবি, অভিযানের পর জাকির হোসেন দরবারকে ছেড়ে দেওয়ার বিনিময়ে ৫০ হাজার টাকা নেওয়া হয়। অন্য একটি সূত্রের দাবি, টাকার অঙ্ক ছিল এক লাখ। তবে অর্থ লেনদেনের বিষয়ে এসব দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি চূড়ামনকাটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। পরে ১৫ অক্টোবর জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে এ-সংক্রান্ত তথ্য পৌঁছায় বলে জানা গেছে।

অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য, অর্থ লেনদেনের কোনো প্রমাণ কিংবা আনুষ্ঠানিক তদন্তের ফলাফল পাওয়া গেলে ঘটনার প্রকৃত চিত্র আরও স্পষ্ট হবে।

ঘটনার পরদিন ১৫ অক্টোবর এসআই সালাউদ্দিনকে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। পরবর্তী সময়ে তাঁকে বাগেরহাট জেলা পুলিশে বদলি করা হয়। একই দলের এসআই কামাল হোসেনকেও মাগুরা জেলায় বদলি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

তবে বদলি ও পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করার প্রশাসনিক কারণ নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য পাওয়া গেছে। একটি সূত্রের দাবি, ঘটনার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বদলির প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

এএসআই নির্মল কুমারের বিরুদ্ধে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়েও বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত না করে চূড়ামনকাটির ছাতিয়ানতলা এলাকায় অভিযান চালানো হয়েছিল। তবে অভিযানের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছিল কি না, তা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এদিকে, মাদক উদ্ধার ও আটকের পর কাউকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগের মতো ঘটনায় পুলিশের জবাবদিহি, তদন্তের স্বচ্ছতা এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অর্থ লেনদেন, অভিযানের প্রকৃত ঘটনা এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভূমিকা যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহলের অনেকে।

এ বিষয়ে দৈনিক গ্রামের কাগজকে যশোর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুর রশীদ বলেন, এসআই সালাউদ্দিনকে পুলিশ সুপারের নির্দেশে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছিল। পরে তাঁকে বাগেরহাট জেলা পুলিশে বদলি করা হয়েছে। এসআই কামাল হোসেনকে মাগুরায় বদলি করা হয়েছে। তবে তাঁদের বদলির সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে তাঁর কাছে স্পষ্ট তথ্য নেই।

তিনি আরও জানান, চূড়ামনকাটির ছাতিয়ানতলায় ওই দলের অভিযান সম্পর্কে তিনি আগে অবগত ছিলেন না। পরে তিনি অভিযানের বিষয়টি জানতে পারেন।

মাদকসহ আটকের পর অর্থের বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য, অভিযানের নথি, জব্দতালিকা, থানার রেকর্ড এবং অর্থ লেনদেনের প্রমাণ যাচাই করা জরুরি। একই সঙ্গে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বক্তব্য নেওয়া এবং প্রশাসনিক পদক্ষেপের কারণ স্পষ্ট করা প্রয়োজন।

অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া এবং অভিযোগের সত্যতা না মিললে সংশ্লিষ্টদের বিষয়ে বিভ্রান্তি দূর করা—দুই ক্ষেত্রেই স্বচ্ছ তদন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সর্বাধিক পঠিত

ব্রেইন স্ট্রোকে আক্রান্ত সাংবাদিক আহমদ আলী শাহীন, ঢাকায় হাসপাতালে ভর্তি

যশোরে মাদকসহ স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা আটক করে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ, ডিবির তিন কর্মকর্তাকে ঘিরে আলোচনা

আপডেট: ০৫:৩৭:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

যশোরে নিষিদ্ধ সংগঠন স্বেচ্ছাসেবক লীগের এক নেতাকে মাদকসহ আটক করার পর অর্থের বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) তিন কর্মকর্তাকে ঘিরে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। অভিযুক্ত কর্মকর্তারা হলেন উপপরিদর্শক (এসআই) সালাউদ্দিন, এসআই কামাল হোসেন ও সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) নির্মল কুমার। ঘটনাটি নিয়ে দৈনিক গ্রামের কাগজে সংবাদ প্রকাশের পর রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে নানা বক্তব্য সামনে এসেছে।

অভিযোগ রয়েছে, গত ১৪ অক্টোবর যশোর সদর উপজেলার চূড়ামনকাটি ইউনিয়নের ছাতিয়ানতলা এলাকায় অভিযান চালিয়ে নিষিদ্ধ স্বেচ্ছাসেবক লীগের ওই ইউনিয়নের আহ্বায়ক জাকির হোসেন দরবারকে মাদক ও মাদক সেবনের সরঞ্জামসহ আটক করেন ডিবির ওই তিন কর্মকর্তা। পরে তাঁকে গ্রেপ্তার না করে অর্থের বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য ও স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ ছাড়া একে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই।

ঘটনাসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রের দাবি, অভিযানের পর জাকির হোসেন দরবারকে ছেড়ে দেওয়ার বিনিময়ে ৫০ হাজার টাকা নেওয়া হয়। অন্য একটি সূত্রের দাবি, টাকার অঙ্ক ছিল এক লাখ। তবে অর্থ লেনদেনের বিষয়ে এসব দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি চূড়ামনকাটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। পরে ১৫ অক্টোবর জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে এ-সংক্রান্ত তথ্য পৌঁছায় বলে জানা গেছে।

অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য, অর্থ লেনদেনের কোনো প্রমাণ কিংবা আনুষ্ঠানিক তদন্তের ফলাফল পাওয়া গেলে ঘটনার প্রকৃত চিত্র আরও স্পষ্ট হবে।

ঘটনার পরদিন ১৫ অক্টোবর এসআই সালাউদ্দিনকে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। পরবর্তী সময়ে তাঁকে বাগেরহাট জেলা পুলিশে বদলি করা হয়। একই দলের এসআই কামাল হোসেনকেও মাগুরা জেলায় বদলি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

তবে বদলি ও পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করার প্রশাসনিক কারণ নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য পাওয়া গেছে। একটি সূত্রের দাবি, ঘটনার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বদলির প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

এএসআই নির্মল কুমারের বিরুদ্ধে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়েও বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত না করে চূড়ামনকাটির ছাতিয়ানতলা এলাকায় অভিযান চালানো হয়েছিল। তবে অভিযানের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছিল কি না, তা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এদিকে, মাদক উদ্ধার ও আটকের পর কাউকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগের মতো ঘটনায় পুলিশের জবাবদিহি, তদন্তের স্বচ্ছতা এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অর্থ লেনদেন, অভিযানের প্রকৃত ঘটনা এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভূমিকা যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহলের অনেকে।

এ বিষয়ে দৈনিক গ্রামের কাগজকে যশোর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুর রশীদ বলেন, এসআই সালাউদ্দিনকে পুলিশ সুপারের নির্দেশে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছিল। পরে তাঁকে বাগেরহাট জেলা পুলিশে বদলি করা হয়েছে। এসআই কামাল হোসেনকে মাগুরায় বদলি করা হয়েছে। তবে তাঁদের বদলির সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে তাঁর কাছে স্পষ্ট তথ্য নেই।

তিনি আরও জানান, চূড়ামনকাটির ছাতিয়ানতলায় ওই দলের অভিযান সম্পর্কে তিনি আগে অবগত ছিলেন না। পরে তিনি অভিযানের বিষয়টি জানতে পারেন।

মাদকসহ আটকের পর অর্থের বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য, অভিযানের নথি, জব্দতালিকা, থানার রেকর্ড এবং অর্থ লেনদেনের প্রমাণ যাচাই করা জরুরি। একই সঙ্গে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বক্তব্য নেওয়া এবং প্রশাসনিক পদক্ষেপের কারণ স্পষ্ট করা প্রয়োজন।

অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া এবং অভিযোগের সত্যতা না মিললে সংশ্লিষ্টদের বিষয়ে বিভ্রান্তি দূর করা—দুই ক্ষেত্রেই স্বচ্ছ তদন্ত গুরুত্বপূর্ণ।