০৭:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

আট দিন বন্ধের পর বেনাপোল-পেট্রাপোল বন্দরে পুরোদমে আমদানি-রপ্তানি শুরু

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৪:৪৫:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬
  • ৫০৬

শারদীয় দুর্গাপূজা ও সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে টানা আট দিন নিয়মিত আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ থাকার পর যশোরের বেনাপোল-পেট্রাপোল স্থলবন্দর দিয়ে পুরোদমে বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। রোববার (২৫ অক্টোবর) সকাল থেকে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে পণ্যবাহী ট্রাক চলাচল স্বাভাবিক হওয়ায় বন্দরে ফিরেছে কর্মচাঞ্চল্য। একই সঙ্গে দীর্ঘ ছুটিতে সীমান্তের দুই পাশে জমে থাকা পণ্যবাহী ট্রাকের জট কমতে শুরু করেছে।

বেনাপোল কাস্টম হাউসের কার্গো শাখার রাজস্ব কর্মকর্তা রোমেন মিত্র জানান, শারদীয় দুর্গাপূজা ও সাপ্তাহিক ছুটির কারণে ১৭ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত এ পথে নিয়মিত আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ ছিল। তবে ১৮ ও ১৯ অক্টোবর বেনাপোল বন্দরে পণ্য ওঠানো-নামানো, খালাস ও শুল্কায়নের কাজ স্বাভাবিক ছিল। এসব কার্যক্রম শেষে ভারতীয় ট্রাকগুলো নিজ দেশে ফিরে যায়।

তিনি জানান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নির্দেশনায় সীমিত পরিসরে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম চালু রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর ধারাবাহিকতায় শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুই দেশের মধ্যে পণ্য আমদানি-রপ্তানি শুরু হলেও সার্ভার সমস্যার কারণে কার্যক্রম ব্যাহত হয়। ওই দিন ভারত থেকে ৬২ ট্রাক পণ্য আমদানি এবং বাংলাদেশ থেকে ৩৬ ট্রাক পণ্য রপ্তানি করা হয়।

বেনাপোল কাস্টমস ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরোয়ার্ডিং (সিঅ্যান্ডএফ) স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান বনি জানান, রোববার সকাল থেকে আমদানি-রপ্তানিসহ বন্দর ও কাস্টম হাউসের সব কার্যক্রম পুরোদমে শুরু হয়েছে। দীর্ঘ ছুটির কারণে সীমান্তের দুই পাশে পণ্যবাহী ট্রাকের জট সৃষ্টি হয়েছিল। বাণিজ্যিক কার্যক্রম স্বাভাবিক হওয়ায় সেই জট কমতে শুরু করেছে।

তিনি আরও জানান, বন্দরে পণ্য ওঠানো-নামানোর কাজে প্রায় দুই হাজার হ্যান্ডলিং শ্রমিক কাজে যোগ দিয়েছেন। পাশাপাশি ব্যবসায়ী, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট এবং বন্দর ও কাস্টমসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পণ্য খালাসের কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

বেনাপোল স্থলবন্দরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক (ট্রাফিক) রুহুল আমিন জানান, শনিবার আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম শুরু হলেও সার্ভার সমস্যার কারণে তা স্বাভাবিকভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হয়নি। তবে রোববার থেকে আমদানি-রপ্তানিসহ বন্দর ও কাস্টমসের সব কার্যক্রম পুরোদমে চালু হয়েছে।

তিনি বলেন, ছুটি শেষে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কর্মস্থলে যোগ দিয়েছেন। ব্যবসায়ীরা যাতে দ্রুত আমদানি করা পণ্য খালাস নিতে পারেন, সে জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বেনাপোল-পেট্রাপোল স্থলবন্দর বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে স্থলপথে বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার। দীর্ঘ ছুটির পর এ পথে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম স্বাভাবিক হওয়ায় ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট শ্রমিকদের মধ্যে কর্মচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। পণ্যবাহী ট্রাকের জট কমিয়ে দ্রুত পণ্য খালাস ও পরিবহন কার্যক্রম সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ করছে।

সর্বাধিক পঠিত

কুমিল্লায় ভুয়া সিআইডি পরিচয়ে প্রতারণা, আটক ১

আট দিন বন্ধের পর বেনাপোল-পেট্রাপোল বন্দরে পুরোদমে আমদানি-রপ্তানি শুরু

আপডেট: ০৪:৪৫:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

শারদীয় দুর্গাপূজা ও সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে টানা আট দিন নিয়মিত আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ থাকার পর যশোরের বেনাপোল-পেট্রাপোল স্থলবন্দর দিয়ে পুরোদমে বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। রোববার (২৫ অক্টোবর) সকাল থেকে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে পণ্যবাহী ট্রাক চলাচল স্বাভাবিক হওয়ায় বন্দরে ফিরেছে কর্মচাঞ্চল্য। একই সঙ্গে দীর্ঘ ছুটিতে সীমান্তের দুই পাশে জমে থাকা পণ্যবাহী ট্রাকের জট কমতে শুরু করেছে।

বেনাপোল কাস্টম হাউসের কার্গো শাখার রাজস্ব কর্মকর্তা রোমেন মিত্র জানান, শারদীয় দুর্গাপূজা ও সাপ্তাহিক ছুটির কারণে ১৭ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত এ পথে নিয়মিত আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ ছিল। তবে ১৮ ও ১৯ অক্টোবর বেনাপোল বন্দরে পণ্য ওঠানো-নামানো, খালাস ও শুল্কায়নের কাজ স্বাভাবিক ছিল। এসব কার্যক্রম শেষে ভারতীয় ট্রাকগুলো নিজ দেশে ফিরে যায়।

তিনি জানান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নির্দেশনায় সীমিত পরিসরে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম চালু রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর ধারাবাহিকতায় শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুই দেশের মধ্যে পণ্য আমদানি-রপ্তানি শুরু হলেও সার্ভার সমস্যার কারণে কার্যক্রম ব্যাহত হয়। ওই দিন ভারত থেকে ৬২ ট্রাক পণ্য আমদানি এবং বাংলাদেশ থেকে ৩৬ ট্রাক পণ্য রপ্তানি করা হয়।

বেনাপোল কাস্টমস ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরোয়ার্ডিং (সিঅ্যান্ডএফ) স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান বনি জানান, রোববার সকাল থেকে আমদানি-রপ্তানিসহ বন্দর ও কাস্টম হাউসের সব কার্যক্রম পুরোদমে শুরু হয়েছে। দীর্ঘ ছুটির কারণে সীমান্তের দুই পাশে পণ্যবাহী ট্রাকের জট সৃষ্টি হয়েছিল। বাণিজ্যিক কার্যক্রম স্বাভাবিক হওয়ায় সেই জট কমতে শুরু করেছে।

তিনি আরও জানান, বন্দরে পণ্য ওঠানো-নামানোর কাজে প্রায় দুই হাজার হ্যান্ডলিং শ্রমিক কাজে যোগ দিয়েছেন। পাশাপাশি ব্যবসায়ী, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট এবং বন্দর ও কাস্টমসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পণ্য খালাসের কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

বেনাপোল স্থলবন্দরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক (ট্রাফিক) রুহুল আমিন জানান, শনিবার আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম শুরু হলেও সার্ভার সমস্যার কারণে তা স্বাভাবিকভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হয়নি। তবে রোববার থেকে আমদানি-রপ্তানিসহ বন্দর ও কাস্টমসের সব কার্যক্রম পুরোদমে চালু হয়েছে।

তিনি বলেন, ছুটি শেষে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কর্মস্থলে যোগ দিয়েছেন। ব্যবসায়ীরা যাতে দ্রুত আমদানি করা পণ্য খালাস নিতে পারেন, সে জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বেনাপোল-পেট্রাপোল স্থলবন্দর বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে স্থলপথে বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার। দীর্ঘ ছুটির পর এ পথে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম স্বাভাবিক হওয়ায় ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট শ্রমিকদের মধ্যে কর্মচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। পণ্যবাহী ট্রাকের জট কমিয়ে দ্রুত পণ্য খালাস ও পরিবহন কার্যক্রম সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ করছে।