সৌদি আরবের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর একটি তেল স্থাপনায় ড্রোন হামলার ঘটনায় দুইজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও দুজন। সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, স্থাপনাটি লক্ষ্য করে আসা একটি ড্রোন প্রতিহত করার পর সেটির ধ্বংসাবশেষের আঘাতে হতাহতের ঘটনা ঘটে। হামলার পেছনে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার তেল স্থাপনাটিকে লক্ষ্য করে একটি ড্রোন পাঠানো হয়। সৌদি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ড্রোনটি সফলভাবে প্রতিহত করলেও এর ধ্বংসাবশেষ পড়ে একজন ফিলিপাইনের নাগরিক ও একজন নেপালি নাগরিক নিহত হন। আহত দুজনের মধ্যে একজন পাকিস্তানি ও একজন ভারতীয় নাগরিক রয়েছেন।
এর আগে গত মাসে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের একটি ড্রোন প্রতিহত করার পর সেটির ধ্বংসাবশেষের আঘাতে সৌদি আরবে বসবাসরত এক ইয়েমেনি নাগরিক নিহত হন। এ ছাড়া চলতি মাসের শুরুর দিকে সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশে আরামকোর একটি প্রশাসনিক ভবনে হামলার ঘটনায় অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়েছিল বলে জানিয়েছে দেশটির জ্বালানি মন্ত্রণালয়।
এদিকে হুতি বিদ্রোহী ও সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনীর মধ্যে নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হওয়ায় ইয়েমেনে দীর্ঘ চার বছরের যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়েছে। এতে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান নিরাপত্তা সংকট আরও জটিল হয়ে উঠছে।
অন্যদিকে, সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুতিদের একাধিক হামলার পর গত ১০ অক্টোবর থেকে বিমানবন্দরটির কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছিল। তবে বুধবার থেকে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট চলাচলের জন্য এটি আবার খুলে দেওয়া হয়েছে।
ফ্লাইট ট্র্যাকিং সংস্থা ফ্লাইটঅ্যাওয়ারের তথ্য অনুযায়ী, সৌদিয়া ও ফ্লাইনাস বিমান সংস্থা বিমানবন্দরটিতে ফ্লাইট পরিচালনা করছে। তবে লুফথানসা ও এয়ার ফ্রান্সের মতো বড় আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাগুলো নভেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত তাদের ফ্লাইট পরিষেবা স্থগিত রেখেছে।
সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)




















