যশোর প্রতিনিধি: যশোরের মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. রাফসান জানিকে ধর্ষণ মামলায় খালাস দিয়েছেন আদালত। রোববার (১৮ অক্টোবর) যশোর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২-এর বিচারক ও জেলা জজ শিহাবুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন।
রায় ঘোষণার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডা. রাফসান জানির আইনজীবী আবু মোর্তজা ছোট। রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন চিকিৎসক রাফসান জানি ও মামলার বাদী তাঁর শ্যালিকা সামিয়া।
মামলা ও আদালতসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের শুরুতে ডা. রাফসান জানি ও তাঁর শ্যালিকা সামিয়াকে ঘিরে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের ঘটনায় যশোরে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়। এ সময় সামিয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাটি নিয়ে প্রেসক্লাব যশোরে একাধিক সংবাদ সম্মেলনও অনুষ্ঠিত হয়।
এর ধারাবাহিকতায় গত ১৭ মার্চ সামিয়াকে বাদী করে মণিরামপুর থানায় ডা. রাফসান জানির বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা করা হয়। তবে পরবর্তী সময়ে অভিযোগের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। রাফসান জানির পক্ষের দাবি, একটি চক্র ২০ লাখ টাকা আদায়ের উদ্দেশ্যে সামিয়াকে ব্যবহার করে তাঁকে ব্ল্যাকমেইলের চেষ্টা করেছিল। পুলিশের তদন্তেও ধর্ষণের অভিযোগের সমর্থনে প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে তাঁর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়।
রায় ঘোষণার পর বাদীর বক্তব্য
আদালতের রায়ের পর মামলার বাদী সামিয়া দাবি করেন, মণিরামপুরের একটি চক্র তাঁর শারীরিক ও মানসিক অসুস্থতার সুযোগ নিয়ে তাঁকে ব্যবহার করেছে। ওই চক্রের উদ্দেশ্য ছিল ডা. রাফসান জানির কাছ থেকে অর্থ আদায় করা।
সামিয়ার অভিযোগ, তাঁকে অপহরণ করে আটকে রাখা হয়েছিল এবং পূর্বপরিকল্পিত বক্তব্য ক্যামেরার সামনে দিতে বাধ্য করা হয়েছিল। বিভিন্ন প্রলোভন ও চাপের মুখে তিনি মিথ্যা অভিযোগ করতে বাধ্য হয়েছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি।
আইনজীবীর দাবি, আদালতে অভিযোগের সত্যতা মেলেনি
ডা. রাফসান জানির আইনজীবী আবু মোর্তজা ছোট বলেন, মামলার বাদী সামিয়া দীর্ঘদিন ধরে ‘বর্ডারলাইন পারসোনালিটি ডিসঅর্ডার’ নামের রোগে আক্রান্ত। তাঁর দাবি, একটি চক্র সামিয়াকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ও ব্ল্যাকমেইল করে মনগড়া অভিযোগ করতে বাধ্য করেছিল।
আইনজীবী আরও দাবি করেন, মামলায় এমন ব্যক্তিদের সাক্ষী করা হয়েছিল, যাঁরা ঘটনার সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্ট ছিলেন না। আদালতে সামিয়া নিজেই ধর্ষণের অভিযোগ সত্য নয় বলে স্বীকার করেছেন বলেও জানান তিনি।
তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, মামলার সাক্ষ্যপ্রমাণ ও যুক্তিতর্ক পর্যালোচনা শেষে আদালত ডা. রাফসান জানিকে খালাস দেন।
২০ লাখ টাকা দাবির অভিযোগ চিকিৎসকের
রায়ের পর ডা. রাফসান জানি দাবি করেন, তিনি পরিকল্পিত ব্ল্যাকমেইলের শিকার হয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ব্যক্তি এবং সাংবাদিক পরিচয়ধারী কিছু ব্যক্তি তাঁর কাছে ২০ লাখ টাকা দাবি করেছিলেন। ওই টাকা না দেওয়ায় তাঁকে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
ডা. রাফসান জানি বলেন, এ ঘটনার কারণে তাঁর ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক মর্যাদা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ বিষয়ে শিগগিরই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান তিনি।




















