০৬:৪৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

শারমিন গ্রুপের এমডি ইসমাইল ও ছেলে শারাফের বিরুদ্ধে আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলা

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১২:৫৯:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
  • ৫০৪

ঢাকার আশুলিয়ায় শারমিন গ্রুপের আটতলা ভবন থেকে পড়ে সিনিয়র মার্চেন্ডাইজার মো. জামাল উদ্দিনের (৩৯) মৃত্যুর ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. ইসমাইল হোসেন ও তাঁর ছেলে পরিচালক শারাফ হোসেনের বিরুদ্ধে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে মামলা হয়েছে। এ মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।

রোববার (১৮ অক্টোবর) আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। নিহতের বড় ভাই ইস্কান্দার আলী বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

নিহত জামাল উদ্দিন গাজীপুর সদর থানার বুরুলিয়া ডুয়েট এলাকার মৃত সেকেন্দার আলীর ছেলে। তিনি শারমিন গ্রুপের ডিভিশন-৩-এ সিনিয়র মার্চেন্ডাইজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। গত বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকালে আশুলিয়ার নরসিংহপুর এলাকায় অবস্থিত প্রতিষ্ঠানের আটতলা ভবন থেকে পড়ে তাঁর মৃত্যু হয়।

ঘটনার পর কারখানা কর্তৃপক্ষ এটিকে আত্মহত্যা বলে দাবি করলেও নিহতের পরিবারের অভিযোগ, জামালের মৃত্যুর পেছনে অন্য কোনো ঘটনা থাকতে পারে। তাঁদের দাবি, এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডও হতে পারে। তবে এ অভিযোগের সত্যতা এখনো তদন্তসাপেক্ষ।

নিহতের বড় ভাই ও মামলার বাদী ইস্কান্দার আলীর অভিযোগ, ঘটনার দিন সকালে কর্মস্থলে জামালকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয় এবং সবার সামনে কান ধরে ওঠবস করানো হয়। এতে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন বলে পরিবারের দাবি।

ইস্কান্দার আলীর ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁরা প্রথমে হত্যা মামলা করতে চেয়েছিলেন। তবে পুলিশ প্রথমে অপমৃত্যুর মামলা ছাড়া অন্য অভিযোগ নিতে অনীহা প্রকাশ করে বলে তিনি অভিযোগ করেন। পরে থানার সামনে অবস্থান এবং গণমাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশের পর আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে মামলা নথিভুক্ত হয়।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মৃত্যুর আগের দিন থেকেই কর্মস্থলের কোনো বিষয় নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন জামাল উদ্দিন। মঙ্গলবার রাতে স্ত্রী সাবিকুন নাহারের সঙ্গে ফোনে কথা বলার সময় তিনি অফিসে ঝামেলা চলছে এবং তাঁকে কোনো বিষয়ে ফাঁসিয়ে দেওয়া হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

পরদিন বুধবার সকালে কর্মস্থলে পৌঁছেও স্ত্রীর সঙ্গে কথা হয় তাঁর। এরপর প্রায় আধা ঘণ্টা পর থেকে পরিবারের সদস্যরা একাধিকবার ফোন করেও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি।

প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর কারখানার এক অজ্ঞাত ব্যক্তি ফোন ধরে জামাল অসুস্থ বলে জানান এবং পরিবারের সদস্যদের আশুলিয়ার নারী ও শিশু হাসপাতালে যেতে বলেন। সেখানে পৌঁছে তাঁরা জামালের মরদেহ দেখতে পান।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, বুধবার সকাল ৮টার দিকে কর্মস্থলে প্রবেশ করেন জামাল। এর প্রায় দেড় ঘণ্টা পর সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তাঁর ছাদ থেকে পড়ে মৃত্যুর খবর পরিবারকে জানানো হয়।

এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, আসামিদের দুর্ব্যবহার, অপমান ও মানসিক নির্যাতনের কারণে জামাল আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়েছেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আসামিদের বক্তব্য এবং তদন্তের চূড়ান্ত ফলাফল এখনো জানা যায়নি।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মামলার তদন্তে জামালের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং এর সঙ্গে কারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা নির্ধারিত হবে।

সর্বাধিক পঠিত

যশোরে অস্ত্র-গুলিসহ আটক কাদেরের ১৭ বছরের কারাদণ্ড

শারমিন গ্রুপের এমডি ইসমাইল ও ছেলে শারাফের বিরুদ্ধে আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলা

আপডেট: ১২:৫৯:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

ঢাকার আশুলিয়ায় শারমিন গ্রুপের আটতলা ভবন থেকে পড়ে সিনিয়র মার্চেন্ডাইজার মো. জামাল উদ্দিনের (৩৯) মৃত্যুর ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. ইসমাইল হোসেন ও তাঁর ছেলে পরিচালক শারাফ হোসেনের বিরুদ্ধে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে মামলা হয়েছে। এ মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।

রোববার (১৮ অক্টোবর) আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। নিহতের বড় ভাই ইস্কান্দার আলী বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

নিহত জামাল উদ্দিন গাজীপুর সদর থানার বুরুলিয়া ডুয়েট এলাকার মৃত সেকেন্দার আলীর ছেলে। তিনি শারমিন গ্রুপের ডিভিশন-৩-এ সিনিয়র মার্চেন্ডাইজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। গত বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকালে আশুলিয়ার নরসিংহপুর এলাকায় অবস্থিত প্রতিষ্ঠানের আটতলা ভবন থেকে পড়ে তাঁর মৃত্যু হয়।

ঘটনার পর কারখানা কর্তৃপক্ষ এটিকে আত্মহত্যা বলে দাবি করলেও নিহতের পরিবারের অভিযোগ, জামালের মৃত্যুর পেছনে অন্য কোনো ঘটনা থাকতে পারে। তাঁদের দাবি, এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডও হতে পারে। তবে এ অভিযোগের সত্যতা এখনো তদন্তসাপেক্ষ।

নিহতের বড় ভাই ও মামলার বাদী ইস্কান্দার আলীর অভিযোগ, ঘটনার দিন সকালে কর্মস্থলে জামালকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয় এবং সবার সামনে কান ধরে ওঠবস করানো হয়। এতে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন বলে পরিবারের দাবি।

ইস্কান্দার আলীর ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁরা প্রথমে হত্যা মামলা করতে চেয়েছিলেন। তবে পুলিশ প্রথমে অপমৃত্যুর মামলা ছাড়া অন্য অভিযোগ নিতে অনীহা প্রকাশ করে বলে তিনি অভিযোগ করেন। পরে থানার সামনে অবস্থান এবং গণমাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশের পর আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে মামলা নথিভুক্ত হয়।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মৃত্যুর আগের দিন থেকেই কর্মস্থলের কোনো বিষয় নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন জামাল উদ্দিন। মঙ্গলবার রাতে স্ত্রী সাবিকুন নাহারের সঙ্গে ফোনে কথা বলার সময় তিনি অফিসে ঝামেলা চলছে এবং তাঁকে কোনো বিষয়ে ফাঁসিয়ে দেওয়া হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

পরদিন বুধবার সকালে কর্মস্থলে পৌঁছেও স্ত্রীর সঙ্গে কথা হয় তাঁর। এরপর প্রায় আধা ঘণ্টা পর থেকে পরিবারের সদস্যরা একাধিকবার ফোন করেও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি।

প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর কারখানার এক অজ্ঞাত ব্যক্তি ফোন ধরে জামাল অসুস্থ বলে জানান এবং পরিবারের সদস্যদের আশুলিয়ার নারী ও শিশু হাসপাতালে যেতে বলেন। সেখানে পৌঁছে তাঁরা জামালের মরদেহ দেখতে পান।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, বুধবার সকাল ৮টার দিকে কর্মস্থলে প্রবেশ করেন জামাল। এর প্রায় দেড় ঘণ্টা পর সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তাঁর ছাদ থেকে পড়ে মৃত্যুর খবর পরিবারকে জানানো হয়।

এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, আসামিদের দুর্ব্যবহার, অপমান ও মানসিক নির্যাতনের কারণে জামাল আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়েছেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আসামিদের বক্তব্য এবং তদন্তের চূড়ান্ত ফলাফল এখনো জানা যায়নি।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মামলার তদন্তে জামালের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং এর সঙ্গে কারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা নির্ধারিত হবে।