১০:১৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬

দুর্গাপূজায় সীমান্তের ১,৮০০ মণ্ডপের নিরাপত্তায় বিজিবি, থাকবে ১৮টি বিশেষ বেস ক্যাম্প

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৮:৫৫:২৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬
  • ৫০৯

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে দেশের সীমান্তবর্তী এলাকার আট কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত প্রায় ১ হাজার ৮০০টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এসব মণ্ডপের নিরাপত্তা জোরদার করতে ১৮টি বিশেষ বেস ক্যাম্প স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও জরুরি যোগাযোগ নিশ্চিত করতে বিজিবি সদর দপ্তরে চালু করা হয়েছে সার্বক্ষণিক কন্ট্রোল রুম।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর রমনা কালীমন্দির পরিদর্শনকালে এসব তথ্য জানান বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী।

শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তাব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে নিরাপত্তা সমন্বয় নিশ্চিত করতে তিনি মন্দিরটি পরিদর্শন করেন। এ সময় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি রমনা কালীমন্দির সর্বজনীন পূজা উদ্‌যাপন কমিটির সভাপতি ও অন্য সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

বিজিবি মহাপরিচালক বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা ও দিকনির্দেশনা অনুযায়ী অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে দুর্গাপূজার সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করছে বিজিবি।

তিনি জানান, সীমান্তের আট কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত পূজামণ্ডপগুলো নিরাপদ রাখতে বিজিবির সংশ্লিষ্ট ইউনিটের সদস্যরা ইতোমধ্যে সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন। এ ছাড়া পূজা উদ্‌যাপন কমিটির নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ ও সমন্বয় করা হয়েছে।

বিজিবির বর্ডার আউটপোস্ট (বিওপি) থেকে দূরবর্তী সীমান্তবর্তী পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১৮টি বিশেষ বেস ক্যাম্প স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে বিজিবির সদর দপ্তর, রিজিয়ন, সেক্টর ও ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরের আশপাশের পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও জরুরি প্রয়োজনে দ্রুত যোগাযোগের জন্য বিজিবি সদর দপ্তরে সার্বক্ষণিক কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়েছে বলে জানান মহাপরিচালক।

তিনি আরও বলেন, ‘শারদীয় সুরক্ষা অ্যাপ’-এর মাধ্যমেও যেকোনো সমস্যা বা জরুরি পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন।

যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবি প্রস্তুত রয়েছে উল্লেখ করে তিনি জানান, গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ, ঝুঁকি মূল্যায়ন এবং সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হচ্ছে।

বিজিবি সদস্যরা পেশাদারত্ব ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন উল্লেখ করে মহাপরিচালক আশা প্রকাশ করেন, প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা ও সংশ্লিষ্ট বাহিনীগুলোর সমন্বিত প্রচেষ্টায় সারা দেশে দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ, নির্বিঘ্ন ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদ্‌যাপন করা সম্ভব হবে।

পরিদর্শনকালে বিজিবি সদর দপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশনস অ্যান্ড ট্রেনিং), ঢাকা সেক্টর কমান্ডারসহ বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সর্বাধিক পঠিত

বিক্ষোভে অংশ নেওয়ায় ইমরান খানকে ভারত ছাড়ার নির্দেশ

দুর্গাপূজায় সীমান্তের ১,৮০০ মণ্ডপের নিরাপত্তায় বিজিবি, থাকবে ১৮টি বিশেষ বেস ক্যাম্প

আপডেট: ০৮:৫৫:২৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে দেশের সীমান্তবর্তী এলাকার আট কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত প্রায় ১ হাজার ৮০০টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এসব মণ্ডপের নিরাপত্তা জোরদার করতে ১৮টি বিশেষ বেস ক্যাম্প স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও জরুরি যোগাযোগ নিশ্চিত করতে বিজিবি সদর দপ্তরে চালু করা হয়েছে সার্বক্ষণিক কন্ট্রোল রুম।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর রমনা কালীমন্দির পরিদর্শনকালে এসব তথ্য জানান বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী।

শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তাব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে নিরাপত্তা সমন্বয় নিশ্চিত করতে তিনি মন্দিরটি পরিদর্শন করেন। এ সময় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি রমনা কালীমন্দির সর্বজনীন পূজা উদ্‌যাপন কমিটির সভাপতি ও অন্য সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

বিজিবি মহাপরিচালক বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা ও দিকনির্দেশনা অনুযায়ী অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে দুর্গাপূজার সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করছে বিজিবি।

তিনি জানান, সীমান্তের আট কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত পূজামণ্ডপগুলো নিরাপদ রাখতে বিজিবির সংশ্লিষ্ট ইউনিটের সদস্যরা ইতোমধ্যে সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন। এ ছাড়া পূজা উদ্‌যাপন কমিটির নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ ও সমন্বয় করা হয়েছে।

বিজিবির বর্ডার আউটপোস্ট (বিওপি) থেকে দূরবর্তী সীমান্তবর্তী পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১৮টি বিশেষ বেস ক্যাম্প স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে বিজিবির সদর দপ্তর, রিজিয়ন, সেক্টর ও ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরের আশপাশের পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও জরুরি প্রয়োজনে দ্রুত যোগাযোগের জন্য বিজিবি সদর দপ্তরে সার্বক্ষণিক কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়েছে বলে জানান মহাপরিচালক।

তিনি আরও বলেন, ‘শারদীয় সুরক্ষা অ্যাপ’-এর মাধ্যমেও যেকোনো সমস্যা বা জরুরি পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন।

যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবি প্রস্তুত রয়েছে উল্লেখ করে তিনি জানান, গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ, ঝুঁকি মূল্যায়ন এবং সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হচ্ছে।

বিজিবি সদস্যরা পেশাদারত্ব ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন উল্লেখ করে মহাপরিচালক আশা প্রকাশ করেন, প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা ও সংশ্লিষ্ট বাহিনীগুলোর সমন্বিত প্রচেষ্টায় সারা দেশে দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ, নির্বিঘ্ন ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদ্‌যাপন করা সম্ভব হবে।

পরিদর্শনকালে বিজিবি সদর দপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশনস অ্যান্ড ট্রেনিং), ঢাকা সেক্টর কমান্ডারসহ বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।