১১:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

নোয়াখালী পাসপোর্ট অফিসে দালাল সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ, তদন্তের আশ্বাস ডিডি মেহেদীর

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৮:৫২:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
  • ৫১৪

নোয়াখালী আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসকে ঘিরে দালালদের দৌরাত্ম্য, সেবাপ্রার্থীদের হয়রানি এবং সরকারি ফির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। পাসপোর্টের আবেদন জমা দেওয়া, তথ্য সংশোধন থেকে শুরু করে দ্রুত পাসপোর্ট পাওয়ার আশ্বাস—বিভিন্ন পর্যায়ে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ করেছেন একাধিক সেবাপ্রার্থী। এসব অভিযোগের মধ্যে উপপরিচালক মেহেদী হাসান ও উপসহকারী পরিচালক মো. নাজমুল আহসান হাবিবের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

তবে উপসহকারী পরিচালক নাজমুল আহসান হাবিব তাঁর ও অফিসের বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। অন্যদিকে, উপপরিচালক মেহেদী হাসান জানিয়েছেন, অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখে অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

### অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, নির্ধারিত সরকারি ফি পরিশোধের পরও দালালের মাধ্যমে পাসপোর্টের আবেদন জমা দিতে অতিরিক্ত অর্থ দিতে হচ্ছে। সাধারণ পাসপোর্টের ক্ষেত্রে আড়াই হাজার থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা পর্যন্ত বাড়তি নেওয়ার অভিযোগ করেছেন কেউ কেউ। জরুরি পাসপোর্টের ক্ষেত্রেও কয়েক হাজার থেকে উল্লেখযোগ্য অঙ্কের অতিরিক্ত অর্থ লেনদেনের দাবি উঠেছে।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য, আবেদনপত্রে নাম, বয়স, পিতা-মাতার নাম কিংবা অন্যান্য তথ্যে ভুল থাকলে সংশোধনের কথা বলে বড় অঙ্কের টাকা দাবি করা হয়। দালালের মাধ্যমে আবেদন করলে কাজ সহজ হয়, অথচ সরাসরি সেবা নিতে গেলে বিভিন্ন ত্রুটির কথা বলে আবেদন ফেরত দেওয়া বা বারবার অফিসে আসতে বাধ্য করার অভিযোগও রয়েছে।

### দালালের মাধ্যমে আবেদন জমা দেওয়ার অভিযোগ

নোয়াখালী আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের আশপাশে থাকা কম্পিউটার ও ফটোকপির দোকানগুলোতে আবেদন পূরণ এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুতের আড়ালে দালালির কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ার অভিযোগ করেছেন কয়েকজন সেবাপ্রার্থী।

সোনাইমুড়ী থেকে আসা কবির হোসেনের দাবি, পাসপোর্টের আবেদন করতে গিয়ে তাঁকে অফিসের সামনের একটি কম্পিউটারের দোকানের মাধ্যমে কাজ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। তাঁর অভিযোগ, আবেদনে কোনো তথ্যগত ভুল থাকলে তা সংশোধনের জন্য বড় অঙ্কের টাকা দাবি করা হয়।

রহমত আলী নামে আরেক সেবাপ্রার্থী জানান, এর আগে নিজে দুইবার আবেদন জমা দিতে গিয়ে ব্যর্থ হলেও পরে দালালের মাধ্যমে ২ হাজার ৮০০ টাকায় চুক্তি করে আবেদন জমা দিতে পেরেছেন বলে তাঁর দাবি।

সেনবাগ থেকে আসা সবুজ নামের এক কলেজশিক্ষার্থীও জরুরি পাসপোর্টের জন্য অতিরিক্ত ১৬ হাজার টাকা দেওয়ার চুক্তিতে আবেদন জমা দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য, পাসপোর্টটি জরুরি হওয়ায় ঝামেলা এড়াতে তিনি মধ্যস্থতাকারীর সহায়তা নিয়েছেন।

এ ছাড়া কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ ও লাকসাম থেকে আসা কয়েকজন আবেদনকারীও নোয়াখালী অফিসে আবেদন জমা দিতে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ের অভিযোগ করেছেন। তাঁদের দাবি, নিজ এলাকার পাসপোর্ট অফিসে বিভিন্ন সমস্যার মুখে পড়ে শেষ পর্যন্ত মধ্যস্থতাকারীর সহায়তা নিতে হয়েছে।

### একাধিক মামলার আসামিদের আবেদন নিয়েও প্রশ্ন

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা অভিযোগ অনুযায়ী, কুমিল্লা, লক্ষ্মীপুর ও ফেনীসহ পার্শ্ববর্তী জেলার কয়েকজন আবেদনকারী নোয়াখালী আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে এসে আবেদন জমা দিচ্ছেন। তাঁদের মধ্যে একাধিক মামলার আসামি এবং অন্য অফিসে সমস্যার মুখে পড়া ব্যক্তিদেরও থাকার দাবি করা হয়েছে।

কুমিল্লার সদর দক্ষিণ থেকে আসা এক ব্যক্তি নিজের বিরুদ্ধে দুটি মাদক মামলা থাকার কথা জানিয়ে দাবি করেন, জামিনে থাকা অবস্থায় বিদেশে যাওয়ার উদ্দেশ্যে তিনি নোয়াখালী অফিসে অতিরিক্ত ৯ হাজার টাকা দিয়ে আবেদন জমা দিয়েছেন।

তবে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা থাকা মানেই তিনি স্বয়ংক্রিয়ভাবে পাসপোর্ট পাওয়ার অযোগ্য—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির আইনি অবস্থা, আদালতের আদেশ এবং প্রযোজ্য বিধিবিধান যাচাই করেই বিষয়টি নির্ধারণ করতে হবে।

স্থানীয় কয়েকজন আবেদনকারী ও ব্যবসায়ীর অভিযোগ, পাসপোর্ট অফিসের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বাইরের মধ্যস্থতাকারীদের মধ্যে যোগসাজশ থাকতে পারে। তাঁদের দাবি, দালালদের মাধ্যমে আবেদন জমা দিলে তুলনামূলক সহজে কাজ হয়, কিন্তু সরাসরি আবেদনকারীদের বিভিন্ন সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়।

প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, অফিসের আশপাশের কয়েকটি কম্পিউটার ও স্টুডিও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আবেদন প্রস্তুত এবং পাসপোর্টসংক্রান্ত পরামর্শ দেওয়ার আড়ালে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে। সোনাইমুড়ীর বদরুদ্দোজা মার্কেটে অবস্থিত সুফিয়া এন্টারপ্রাইজের নামও এ-সংক্রান্ত অভিযোগে উঠে এসেছে।

এ ছাড়া আবেদন জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তির নাম উল্লেখ করলে কাউন্টারে সহজে কাজ সম্পন্ন হয় বলে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন সেবাপ্রার্থী। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া ছাড়া এগুলোকে প্রমাণিত অনিয়ম হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপসহকারী পরিচালক মো. নাজমুল আহসান হাবিব বলেন, তাঁর কিংবা তাঁর কর্মরত অফিসের বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়মের অভিযোগ মিথ্যা। তিনি জানান, তিনি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা উপপরিচালক মেহেদী হাসানের নির্দেশনা অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করেন। এ বিষয়ে উপপরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শও দেন তিনি।

অন্যদিকে, উপপরিচালক মেহেদী হাসান বলেন, তিনি ওই অফিসে নতুন যোগদান করেছেন। তাঁকে জানানো অনিয়মের অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখে দ্রুত প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে আশ্বাস দেন তিনি।

সেবাপ্রত্যাশীদের দাবি, নোয়াখালী আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে দালালদের অবাধ বিচরণ বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। পাশাপাশি সরকারি ফি, আবেদন প্রক্রিয়া ও পাসপোর্ট সরবরাহের সম্ভাব্য সময়সীমা দৃশ্যমান স্থানে প্রকাশ করতে হবে।

অভিযোগ গ্রহণের কার্যকর ব্যবস্থা চালু, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভূমিকা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত এবং মধ্যস্থতাকারী ছাড়াই সরাসরি সেবা পাওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করারও দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

পাসপোর্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সেবা। এ সেবা গ্রহণে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, হয়রানি কিংবা অনিয়মের অভিযোগ থাকলে তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের হয়রানিমুক্ত সেবা নিশ্চিত করাও জরুরি।

সর্বাধিক পঠিত

ডেঙ্গু আক্রান্ত সবুজ হোসেনকে দেখতে গেলেন বেনাপোল পৌরসভার মেয়র পদপ্রার্থী ইমদাদুল হক ইমদাদ ও তাঁর সহকর্মীরা

নোয়াখালী পাসপোর্ট অফিসে দালাল সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ, তদন্তের আশ্বাস ডিডি মেহেদীর

আপডেট: ০৮:৫২:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

নোয়াখালী আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসকে ঘিরে দালালদের দৌরাত্ম্য, সেবাপ্রার্থীদের হয়রানি এবং সরকারি ফির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। পাসপোর্টের আবেদন জমা দেওয়া, তথ্য সংশোধন থেকে শুরু করে দ্রুত পাসপোর্ট পাওয়ার আশ্বাস—বিভিন্ন পর্যায়ে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ করেছেন একাধিক সেবাপ্রার্থী। এসব অভিযোগের মধ্যে উপপরিচালক মেহেদী হাসান ও উপসহকারী পরিচালক মো. নাজমুল আহসান হাবিবের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

তবে উপসহকারী পরিচালক নাজমুল আহসান হাবিব তাঁর ও অফিসের বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। অন্যদিকে, উপপরিচালক মেহেদী হাসান জানিয়েছেন, অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখে অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

### অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, নির্ধারিত সরকারি ফি পরিশোধের পরও দালালের মাধ্যমে পাসপোর্টের আবেদন জমা দিতে অতিরিক্ত অর্থ দিতে হচ্ছে। সাধারণ পাসপোর্টের ক্ষেত্রে আড়াই হাজার থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা পর্যন্ত বাড়তি নেওয়ার অভিযোগ করেছেন কেউ কেউ। জরুরি পাসপোর্টের ক্ষেত্রেও কয়েক হাজার থেকে উল্লেখযোগ্য অঙ্কের অতিরিক্ত অর্থ লেনদেনের দাবি উঠেছে।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য, আবেদনপত্রে নাম, বয়স, পিতা-মাতার নাম কিংবা অন্যান্য তথ্যে ভুল থাকলে সংশোধনের কথা বলে বড় অঙ্কের টাকা দাবি করা হয়। দালালের মাধ্যমে আবেদন করলে কাজ সহজ হয়, অথচ সরাসরি সেবা নিতে গেলে বিভিন্ন ত্রুটির কথা বলে আবেদন ফেরত দেওয়া বা বারবার অফিসে আসতে বাধ্য করার অভিযোগও রয়েছে।

### দালালের মাধ্যমে আবেদন জমা দেওয়ার অভিযোগ

নোয়াখালী আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের আশপাশে থাকা কম্পিউটার ও ফটোকপির দোকানগুলোতে আবেদন পূরণ এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুতের আড়ালে দালালির কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ার অভিযোগ করেছেন কয়েকজন সেবাপ্রার্থী।

সোনাইমুড়ী থেকে আসা কবির হোসেনের দাবি, পাসপোর্টের আবেদন করতে গিয়ে তাঁকে অফিসের সামনের একটি কম্পিউটারের দোকানের মাধ্যমে কাজ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। তাঁর অভিযোগ, আবেদনে কোনো তথ্যগত ভুল থাকলে তা সংশোধনের জন্য বড় অঙ্কের টাকা দাবি করা হয়।

রহমত আলী নামে আরেক সেবাপ্রার্থী জানান, এর আগে নিজে দুইবার আবেদন জমা দিতে গিয়ে ব্যর্থ হলেও পরে দালালের মাধ্যমে ২ হাজার ৮০০ টাকায় চুক্তি করে আবেদন জমা দিতে পেরেছেন বলে তাঁর দাবি।

সেনবাগ থেকে আসা সবুজ নামের এক কলেজশিক্ষার্থীও জরুরি পাসপোর্টের জন্য অতিরিক্ত ১৬ হাজার টাকা দেওয়ার চুক্তিতে আবেদন জমা দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য, পাসপোর্টটি জরুরি হওয়ায় ঝামেলা এড়াতে তিনি মধ্যস্থতাকারীর সহায়তা নিয়েছেন।

এ ছাড়া কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ ও লাকসাম থেকে আসা কয়েকজন আবেদনকারীও নোয়াখালী অফিসে আবেদন জমা দিতে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ের অভিযোগ করেছেন। তাঁদের দাবি, নিজ এলাকার পাসপোর্ট অফিসে বিভিন্ন সমস্যার মুখে পড়ে শেষ পর্যন্ত মধ্যস্থতাকারীর সহায়তা নিতে হয়েছে।

### একাধিক মামলার আসামিদের আবেদন নিয়েও প্রশ্ন

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা অভিযোগ অনুযায়ী, কুমিল্লা, লক্ষ্মীপুর ও ফেনীসহ পার্শ্ববর্তী জেলার কয়েকজন আবেদনকারী নোয়াখালী আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে এসে আবেদন জমা দিচ্ছেন। তাঁদের মধ্যে একাধিক মামলার আসামি এবং অন্য অফিসে সমস্যার মুখে পড়া ব্যক্তিদেরও থাকার দাবি করা হয়েছে।

কুমিল্লার সদর দক্ষিণ থেকে আসা এক ব্যক্তি নিজের বিরুদ্ধে দুটি মাদক মামলা থাকার কথা জানিয়ে দাবি করেন, জামিনে থাকা অবস্থায় বিদেশে যাওয়ার উদ্দেশ্যে তিনি নোয়াখালী অফিসে অতিরিক্ত ৯ হাজার টাকা দিয়ে আবেদন জমা দিয়েছেন।

তবে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা থাকা মানেই তিনি স্বয়ংক্রিয়ভাবে পাসপোর্ট পাওয়ার অযোগ্য—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির আইনি অবস্থা, আদালতের আদেশ এবং প্রযোজ্য বিধিবিধান যাচাই করেই বিষয়টি নির্ধারণ করতে হবে।

স্থানীয় কয়েকজন আবেদনকারী ও ব্যবসায়ীর অভিযোগ, পাসপোর্ট অফিসের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বাইরের মধ্যস্থতাকারীদের মধ্যে যোগসাজশ থাকতে পারে। তাঁদের দাবি, দালালদের মাধ্যমে আবেদন জমা দিলে তুলনামূলক সহজে কাজ হয়, কিন্তু সরাসরি আবেদনকারীদের বিভিন্ন সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়।

প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, অফিসের আশপাশের কয়েকটি কম্পিউটার ও স্টুডিও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আবেদন প্রস্তুত এবং পাসপোর্টসংক্রান্ত পরামর্শ দেওয়ার আড়ালে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে। সোনাইমুড়ীর বদরুদ্দোজা মার্কেটে অবস্থিত সুফিয়া এন্টারপ্রাইজের নামও এ-সংক্রান্ত অভিযোগে উঠে এসেছে।

এ ছাড়া আবেদন জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তির নাম উল্লেখ করলে কাউন্টারে সহজে কাজ সম্পন্ন হয় বলে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন সেবাপ্রার্থী। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া ছাড়া এগুলোকে প্রমাণিত অনিয়ম হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপসহকারী পরিচালক মো. নাজমুল আহসান হাবিব বলেন, তাঁর কিংবা তাঁর কর্মরত অফিসের বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়মের অভিযোগ মিথ্যা। তিনি জানান, তিনি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা উপপরিচালক মেহেদী হাসানের নির্দেশনা অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করেন। এ বিষয়ে উপপরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শও দেন তিনি।

অন্যদিকে, উপপরিচালক মেহেদী হাসান বলেন, তিনি ওই অফিসে নতুন যোগদান করেছেন। তাঁকে জানানো অনিয়মের অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখে দ্রুত প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে আশ্বাস দেন তিনি।

সেবাপ্রত্যাশীদের দাবি, নোয়াখালী আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে দালালদের অবাধ বিচরণ বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। পাশাপাশি সরকারি ফি, আবেদন প্রক্রিয়া ও পাসপোর্ট সরবরাহের সম্ভাব্য সময়সীমা দৃশ্যমান স্থানে প্রকাশ করতে হবে।

অভিযোগ গ্রহণের কার্যকর ব্যবস্থা চালু, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভূমিকা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত এবং মধ্যস্থতাকারী ছাড়াই সরাসরি সেবা পাওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করারও দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

পাসপোর্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সেবা। এ সেবা গ্রহণে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, হয়রানি কিংবা অনিয়মের অভিযোগ থাকলে তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের হয়রানিমুক্ত সেবা নিশ্চিত করাও জরুরি।