০১:৫০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬

২,৫৯৮ কোটি টাকার পানি সরবরাহ প্রকল্পের দায়িত্বে আরিফুল ইসলাম জুয়েল, অতীতের শাস্তি নিয়ে বিতর্ক

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৯:৪৭:১১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
  • ৫১৪

ভবন নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগে একসময় নির্বাহী প্রকৌশলী থেকে সহকারী প্রকৌশলী পদে পদাবনতি এবং চার বছরের জন্য পদোন্নতি স্থগিতের শাস্তি পেয়েছিলেন আরিফুল ইসলাম জুয়েল। সেই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা পরবর্তী সময়ে বাতিল হওয়ার পর পদোন্নতি পেয়ে খুলনা ওয়াসায় উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) হিসেবে যোগ দেন তিনি। এবার ২ হাজার ৫৯৮ কোটি টাকার পানি সরবরাহ প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ের (ফেজ-২) প্রকল্প পরিচালকের দায়িত্ব পাওয়াকে কেন্দ্র করে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) প্রকাশিত দৈনিক আমার মাতৃভূমীর এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, আরিফুল ইসলাম জুয়েল বিএনপি-সমর্থিত প্রকৌশলীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের (অ্যাব) খুলনা জেলা কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক। তাঁর বিরুদ্ধে অতীতে ভবন নির্মাণে অনিয়ম, কর্মস্থলে নিয়মিত উপস্থিত না থাকা এবং সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে বদলি ও পদায়নে হস্তক্ষেপের অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্যও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় একাডেমিক ভবনে হাঁটাচলার সময় কম্পন অনুভূত হওয়ার পর ২০১৬ সালের ৬ ডিসেম্বর তদন্ত কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ও খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) জ্যেষ্ঠ শিক্ষকদের সমন্বয়ে গঠিত কমিটি ভবনের ছাদের বিভিন্ন স্থানে পরীক্ষা চালায়।

তদন্তে দেখা যায়, নকশা অনুযায়ী ছাদের কংক্রিটের পুরুত্ব সাড়ে ৫ ইঞ্চি হওয়ার কথা থাকলেও কোনো কোনো স্থানে তা ছিল ৩ ইঞ্চি এবং কোথাও ৩ দশমিক ৭৫ ইঞ্চি। প্রতিবেদনে এসব ত্রুটির কারণে ভবনের স্থায়িত্ব ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে ঝুঁকির বিষয়টি উঠে আসে।

এ ঘটনায় নির্মাণকাজ তদারকিতে দায়িত্বপ্রাপ্ত কয়েকজন প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। প্রতিবেদনে বলা হয়, আরিফুল ইসলাম জুয়েল বিদেশে অবস্থানকালে ছাদ ঢালাইয়ের কাজ সম্পন্ন হয়। দেশে ফিরে সংশ্লিষ্ট কাজের পরিমাপ যাচাই না করেই মেজারমেন্ট বুকে স্বাক্ষর করে ঠিকাদারের বিল পরিশোধে সহযোগিতা করার অভিযোগও তাঁর বিরুদ্ধে আনা হয়।

এ ঘটনায় সাতজনকে শাস্তি দেওয়া হয়। তাঁদের মধ্যে জুয়েলকে নির্বাহী প্রকৌশলী থেকে সহকারী প্রকৌশলী পদে পদাবনতি করা হয় এবং চার বছরের জন্য তাঁর পদোন্নতি স্থগিত রাখা হয়।

প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ করা হয়েছে, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিশ্ববিদ্যালয়ে জুয়েলের বিরুদ্ধে নেওয়া আগের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা বাতিল করা হয়। ২০২৫ সালে তাঁকে উপপ্রধান প্রকৌশলী পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়। পরে খুলনা ওয়াসার উপব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে প্রেষণে নিয়োগ দেওয়া হয় তাঁকে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো কর্মকর্তাকে অন্য সংস্থায় এভাবে প্রেষণে পাঠানোর ঘটনা এটিই প্রথম।

আরিফুল ইসলাম জুয়েলের বিরুদ্ধে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে বদলি, পদায়ন ও নিয়োগ-পদোন্নতির ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও রয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৫ সালের ২৬ জুন খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি এস এম শফিকুল আলম মনা ও সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন অ্যাবের সভাপতি ও আইইবির চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রিয়াজুল ইসলামকে চিঠি দেন।

চিঠিতে জুয়েলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রকৌশল দপ্তরে গিয়ে হুমকি দেওয়া, নিয়োগ ও পদোন্নতিতে অনাকাঙ্ক্ষিত হস্তক্ষেপ এবং আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে কাজ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তদবির করার অভিযোগ তোলা হয়। একই সঙ্গে অ্যাবে তাঁর সাংগঠনিক পদ বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আরিফুল ইসলাম জুয়েল। তাঁর দাবি, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে তাঁকে শাস্তি দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে সেই শাস্তি প্রত্যাহার ও পদোন্নতির মাধ্যমে তাঁর অবদানের মূল্যায়ন করা হয়েছে।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে দায়িত্ব পালনকালে দেরিতে অফিসে উপস্থিত হওয়া এবং সহকর্মীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগে জুয়েল একাধিকবার কারণ দর্শানোর নোটিশ পেয়েছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিজিটাল হাজিরার তথ্যের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে পরবর্তী বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৫৪ কর্মদিবসের প্রতিটিতেই তিনি দেরিতে অফিসে উপস্থিত হন। এর মধ্যে ৩০ দিন নির্ধারিত সময়ের আগে অফিস ত্যাগ করার তথ্যও উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনায় ৪ মার্চ তাঁকে আবারও কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়।

খুলনা ওয়াসায় যোগ দেওয়ার পরও নিয়মিত কার্যালয়ে উপস্থিত না হওয়া এবং হাজিরা খাতা ও ফিঙ্গারপ্রিন্ট ব্যবস্থায় উপস্থিতি নিশ্চিত না করার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিস্তারিত বক্তব্য প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।

খুলনা ওয়াসার ২ হাজার ৫৯৮ কোটি টাকার পানি সরবরাহ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালকের দায়িত্ব নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক পরিবর্তন হয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

প্রথমে প্রকল্পটির রুটিন দায়িত্বে ছিলেন নির্বাহী প্রকৌশলী রেজাউল ইসলাম। গত ২৬ এপ্রিল তাঁকে ওই দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এরপর ২৯ জুলাই প্রকল্প পরিচালকের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয় ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফিরোজ শাহকে।

প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, প্রকল্প পরিচালকের দায়িত্ব পাওয়ার জন্য জুয়েল বিভিন্ন পর্যায়ে তদবির করেন। পরবর্তী সময়ে ফিরোজ শাহকে দায়িত্ব থেকে সরানোর উদ্যোগ নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। সবশেষে প্রকল্পটির পরিচালকের দায়িত্ব পান জুয়েল।

এ বিষয়ে ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফিরোজ শাহ বলেন, প্রকল্প পরিচালক নিয়োগের বিষয়টি মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ারভুক্ত; এ বিষয়ে তাঁর কিছু বলার নেই।

খুলনা নাগরিক সমাজের সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট বাবুল হাওলাদার মনে করেন, সুপেয় পানি সরবরাহে ব্যর্থতা, বিলসংক্রান্ত ভোগান্তি ও সড়ক খোঁড়াখুঁড়িসহ বিভিন্ন সমস্যায় খুলনা ওয়াসা চাপে রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটিকে কার্যকর করতে সৎ ও দক্ষ কর্মকর্তা নিয়োগ জরুরি।

তিনি সতর্ক করে বলেন, রাজনৈতিক বিবেচনায় অতীতে শাস্তি পাওয়া কর্মকর্তারা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেলে প্রতিষ্ঠানটির পরিস্থিতি আরও নাজুক হতে পারে।

প্রকল্প পরিচালকের দায়িত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়া, আগের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা বাতিল এবং নতুন নিয়োগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে। একই সঙ্গে আরিফুল ইসলাম জুয়েলের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট নথি ও কর্তৃপক্ষের বক্তব্য যাচাই গুরুত্বপূর্ণ।

সর্বাধিক পঠিত

অনুমতি ছাড়া বিদেশে অবস্থান ও বিভাগীয় মামলা থেকে অব্যাহতির অভিযোগ: এনবিআর কর্মকর্তা আবু হানিফকে ঘিরে বিতর্ক

২,৫৯৮ কোটি টাকার পানি সরবরাহ প্রকল্পের দায়িত্বে আরিফুল ইসলাম জুয়েল, অতীতের শাস্তি নিয়ে বিতর্ক

আপডেট: ০৯:৪৭:১১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

ভবন নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগে একসময় নির্বাহী প্রকৌশলী থেকে সহকারী প্রকৌশলী পদে পদাবনতি এবং চার বছরের জন্য পদোন্নতি স্থগিতের শাস্তি পেয়েছিলেন আরিফুল ইসলাম জুয়েল। সেই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা পরবর্তী সময়ে বাতিল হওয়ার পর পদোন্নতি পেয়ে খুলনা ওয়াসায় উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) হিসেবে যোগ দেন তিনি। এবার ২ হাজার ৫৯৮ কোটি টাকার পানি সরবরাহ প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ের (ফেজ-২) প্রকল্প পরিচালকের দায়িত্ব পাওয়াকে কেন্দ্র করে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) প্রকাশিত দৈনিক আমার মাতৃভূমীর এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, আরিফুল ইসলাম জুয়েল বিএনপি-সমর্থিত প্রকৌশলীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের (অ্যাব) খুলনা জেলা কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক। তাঁর বিরুদ্ধে অতীতে ভবন নির্মাণে অনিয়ম, কর্মস্থলে নিয়মিত উপস্থিত না থাকা এবং সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে বদলি ও পদায়নে হস্তক্ষেপের অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্যও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় একাডেমিক ভবনে হাঁটাচলার সময় কম্পন অনুভূত হওয়ার পর ২০১৬ সালের ৬ ডিসেম্বর তদন্ত কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ও খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) জ্যেষ্ঠ শিক্ষকদের সমন্বয়ে গঠিত কমিটি ভবনের ছাদের বিভিন্ন স্থানে পরীক্ষা চালায়।

তদন্তে দেখা যায়, নকশা অনুযায়ী ছাদের কংক্রিটের পুরুত্ব সাড়ে ৫ ইঞ্চি হওয়ার কথা থাকলেও কোনো কোনো স্থানে তা ছিল ৩ ইঞ্চি এবং কোথাও ৩ দশমিক ৭৫ ইঞ্চি। প্রতিবেদনে এসব ত্রুটির কারণে ভবনের স্থায়িত্ব ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে ঝুঁকির বিষয়টি উঠে আসে।

এ ঘটনায় নির্মাণকাজ তদারকিতে দায়িত্বপ্রাপ্ত কয়েকজন প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। প্রতিবেদনে বলা হয়, আরিফুল ইসলাম জুয়েল বিদেশে অবস্থানকালে ছাদ ঢালাইয়ের কাজ সম্পন্ন হয়। দেশে ফিরে সংশ্লিষ্ট কাজের পরিমাপ যাচাই না করেই মেজারমেন্ট বুকে স্বাক্ষর করে ঠিকাদারের বিল পরিশোধে সহযোগিতা করার অভিযোগও তাঁর বিরুদ্ধে আনা হয়।

এ ঘটনায় সাতজনকে শাস্তি দেওয়া হয়। তাঁদের মধ্যে জুয়েলকে নির্বাহী প্রকৌশলী থেকে সহকারী প্রকৌশলী পদে পদাবনতি করা হয় এবং চার বছরের জন্য তাঁর পদোন্নতি স্থগিত রাখা হয়।

প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ করা হয়েছে, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিশ্ববিদ্যালয়ে জুয়েলের বিরুদ্ধে নেওয়া আগের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা বাতিল করা হয়। ২০২৫ সালে তাঁকে উপপ্রধান প্রকৌশলী পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়। পরে খুলনা ওয়াসার উপব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে প্রেষণে নিয়োগ দেওয়া হয় তাঁকে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো কর্মকর্তাকে অন্য সংস্থায় এভাবে প্রেষণে পাঠানোর ঘটনা এটিই প্রথম।

আরিফুল ইসলাম জুয়েলের বিরুদ্ধে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে বদলি, পদায়ন ও নিয়োগ-পদোন্নতির ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও রয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৫ সালের ২৬ জুন খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি এস এম শফিকুল আলম মনা ও সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন অ্যাবের সভাপতি ও আইইবির চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রিয়াজুল ইসলামকে চিঠি দেন।

চিঠিতে জুয়েলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রকৌশল দপ্তরে গিয়ে হুমকি দেওয়া, নিয়োগ ও পদোন্নতিতে অনাকাঙ্ক্ষিত হস্তক্ষেপ এবং আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে কাজ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তদবির করার অভিযোগ তোলা হয়। একই সঙ্গে অ্যাবে তাঁর সাংগঠনিক পদ বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আরিফুল ইসলাম জুয়েল। তাঁর দাবি, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে তাঁকে শাস্তি দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে সেই শাস্তি প্রত্যাহার ও পদোন্নতির মাধ্যমে তাঁর অবদানের মূল্যায়ন করা হয়েছে।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে দায়িত্ব পালনকালে দেরিতে অফিসে উপস্থিত হওয়া এবং সহকর্মীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগে জুয়েল একাধিকবার কারণ দর্শানোর নোটিশ পেয়েছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিজিটাল হাজিরার তথ্যের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে পরবর্তী বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৫৪ কর্মদিবসের প্রতিটিতেই তিনি দেরিতে অফিসে উপস্থিত হন। এর মধ্যে ৩০ দিন নির্ধারিত সময়ের আগে অফিস ত্যাগ করার তথ্যও উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনায় ৪ মার্চ তাঁকে আবারও কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়।

খুলনা ওয়াসায় যোগ দেওয়ার পরও নিয়মিত কার্যালয়ে উপস্থিত না হওয়া এবং হাজিরা খাতা ও ফিঙ্গারপ্রিন্ট ব্যবস্থায় উপস্থিতি নিশ্চিত না করার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিস্তারিত বক্তব্য প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।

খুলনা ওয়াসার ২ হাজার ৫৯৮ কোটি টাকার পানি সরবরাহ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালকের দায়িত্ব নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক পরিবর্তন হয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

প্রথমে প্রকল্পটির রুটিন দায়িত্বে ছিলেন নির্বাহী প্রকৌশলী রেজাউল ইসলাম। গত ২৬ এপ্রিল তাঁকে ওই দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এরপর ২৯ জুলাই প্রকল্প পরিচালকের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয় ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফিরোজ শাহকে।

প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, প্রকল্প পরিচালকের দায়িত্ব পাওয়ার জন্য জুয়েল বিভিন্ন পর্যায়ে তদবির করেন। পরবর্তী সময়ে ফিরোজ শাহকে দায়িত্ব থেকে সরানোর উদ্যোগ নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। সবশেষে প্রকল্পটির পরিচালকের দায়িত্ব পান জুয়েল।

এ বিষয়ে ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফিরোজ শাহ বলেন, প্রকল্প পরিচালক নিয়োগের বিষয়টি মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ারভুক্ত; এ বিষয়ে তাঁর কিছু বলার নেই।

খুলনা নাগরিক সমাজের সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট বাবুল হাওলাদার মনে করেন, সুপেয় পানি সরবরাহে ব্যর্থতা, বিলসংক্রান্ত ভোগান্তি ও সড়ক খোঁড়াখুঁড়িসহ বিভিন্ন সমস্যায় খুলনা ওয়াসা চাপে রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটিকে কার্যকর করতে সৎ ও দক্ষ কর্মকর্তা নিয়োগ জরুরি।

তিনি সতর্ক করে বলেন, রাজনৈতিক বিবেচনায় অতীতে শাস্তি পাওয়া কর্মকর্তারা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেলে প্রতিষ্ঠানটির পরিস্থিতি আরও নাজুক হতে পারে।

প্রকল্প পরিচালকের দায়িত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়া, আগের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা বাতিল এবং নতুন নিয়োগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে। একই সঙ্গে আরিফুল ইসলাম জুয়েলের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট নথি ও কর্তৃপক্ষের বক্তব্য যাচাই গুরুত্বপূর্ণ।