সৌদি আরবের রিয়াদে বাদশাহ খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় দুই বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ২৫ বাংলাদেশি। তাঁদের মধ্যে চারজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। আহতরা সৌদি আরবের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
শনিবার মধ্যরাতে চালানো এ হামলার পর সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায় বিমানবন্দরের কার্যক্রম। এর প্রভাবে ঢাকা-রিয়াদ রুটে ফ্লাইট চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। গত শনিবার রাত থেকে রবিবার দুপুর পর্যন্ত আটটি ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় প্রায় তিন হাজার যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন সৌদি আরবে কর্মস্থলে ফেরার অপেক্ষায় থাকা প্রবাসী কর্মী ও ওমরাহযাত্রী।
নিহত দুই বাংলাদেশি হলেন কুমিল্লার নাঙ্গলকোটের মো. নাসরুল্লাহ বদরপুরি এবং বগুড়ার শাজাহানপুরের মো. শাহেদ আহম্মেদ। তাঁদের একজন ওমরাহ পালনে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন, অন্যজন রিয়াদে কর্মরত ছিলেন।
রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলায় আহত বাংলাদেশিদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর। আহতদের মধ্যে প্রবাসী কর্মী ও ওমরাহযাত্রী—দুই শ্রেণির মানুষই রয়েছেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানিয়েছেন, আহত বাংলাদেশিদের চিকিৎসার বিষয়ে রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাস সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখছে। তাঁদের পরিচয় ও অবস্থা নিশ্চিত করার কাজও চলছে। নিহতদের মরদেহ রাষ্ট্রীয় খরচে দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, এ হামলায় বাংলাদেশের কোনো বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি।
রিয়াদ বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় ঢাকা-রিয়াদ আকাশপথে যোগাযোগে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। বাতিল হওয়া আটটি ফ্লাইটের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের দুটি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের একটি, সৌদিয়ার তিনটি এবং রিয়াদ এয়ারের দুটি ফ্লাইট রয়েছে।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের এয়ারপোর্ট সিকিউরিটি ম্যানেজার (ফ্লাইট ম্যানেজমেন্ট) স্কোয়াড্রন লিডার সাকিবের তথ্য অনুযায়ী, বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোতে মোট ২ হাজার ৯৫১ জন যাত্রীর রিয়াদে যাওয়ার কথা ছিল।
ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ঢাকায় আসা যাত্রীরা পড়েছেন চরম দুর্ভোগে। অনেক প্রবাসী কর্মীর নির্ধারিত সময়ে সৌদি আরবে কর্মস্থলে ফিরতে না পারার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কারও কারও ভিসা বা সৌদিতে প্রবেশের অনুমোদনের মেয়াদ শেষের দিকে থাকায় তাঁদের কর্মজীবন নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
এ ছাড়া যাত্রা পিছিয়ে যাওয়ায় নতুন করে যাতায়াত, থাকা-খাওয়া ও টিকিট পরিবর্তনের খরচ নিয়েও দুশ্চিন্তায় রয়েছেন যাত্রীরা।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীদের নিজ নিজ এয়ারলাইনসের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরবর্তী ফ্লাইটের সময়সূচি নিশ্চিত হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।
রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ রাখার সময়সীমা বাড়ানোয় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ঢাকা-রিয়াদ ও রিয়াদ-ঢাকা রুটের নির্ধারিত দুটি ফ্লাইট স্থগিত করেছে।
এয়ারলাইনসটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ১১ ও ১২ অক্টোবরের নির্ধারিত ইএ৩৩৯ ও ইএ৩৪০ ফ্লাইট পরিচালনা করা হচ্ছে না। ফ্লাইট চলাচল ও নতুন সময়সূচি সম্পর্কে ১২ অক্টোবর বাংলাদেশ সময় দুপুর ১২টায় পরবর্তী ঘোষণা দেওয়ার কথা রয়েছে।
বিমানবন্দরটির কার্যক্রম পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত যাত্রীদের ভ্রমণের আগে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসের কাছ থেকে সর্বশেষ তথ্য জেনে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সৌদি আরবের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, রিয়াদের বাদশাহ খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় মোট ১২ জন নিহত এবং ৩০৯ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে সৌদি আরবের চারজন, বাংলাদেশের দুজন এবং যুক্তরাষ্ট্র, জর্ডান, ফিলিস্তিন, সিরিয়া, সুদান ও মিসরের একজন করে নাগরিক রয়েছেন।
হামলার পর বিমানবন্দরের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায় এবং তিন শতাধিক ফ্লাইট বাতিল করা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে সৌদি আরবের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হয়।
রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলায় বাংলাদেশি নাগরিকদের হতাহতের ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় জানায়, নিহতদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ এবং আহতদের প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে সৌদি সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে রিয়াদে বাংলাদেশ মিশন।
বিবৃতিতে বলা হয়, বেসামরিক মানুষের জীবন বিপন্ন করে এবং বেসামরিক স্থাপনায় লক্ষ্য করে চালানো যেকোনো হামলা অগ্রহণযোগ্য। এ ধরনের হামলা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।
বাংলাদেশ সরকার সৌদি আরবের প্রতি সংহতি প্রকাশের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত নিরসনে সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় শত্রুতা বন্ধ এবং বেসামরিক নাগরিক ও অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে।





















