০১:৩৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে ঘুষ ও হয়রানির অভিযোগ, কাঠগড়ায় দুই কর্মকর্তা

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৩:৪০:০৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬
  • ৫১০

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের জেটি শাখার আনস্টাফিং কার্যক্রমে ঘুষ বাণিজ্য, পণ্য খালাসে বিলম্ব ও ব্যবসায়ীদের হয়রানির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে সহকারী কমিশনার (এসি) ওমর ফারুক এবং রাজস্ব কর্মকর্তা (আরও) সুমন কান্তি বিশ্বাসের বিরুদ্ধে। চট্টগ্রাম বন্দরের পিসিটিসহ পাঁচটি আনস্টাফিং গেটকে কেন্দ্র করে এসব অনিয়মের অভিযোগ সামনে এসেছে। তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য পাওয়া যায়নি।

ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ও সিঅ্যান্ডএফ প্রতিনিধিদের সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, পাঁচটি আনস্টাফিং গেট থেকে প্রতি সপ্তাহে গেটপ্রতি প্রায় দেড় লাখ টাকা করে অবৈধ অর্থ আদায় করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ অর্থ আদায়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সম্পৃক্ততার বিষয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা।

অভিযোগ অনুযায়ী, আনস্টাফিং গেটগুলোতে কর্মরত রাজস্ব কর্মকর্তা (আরও) ও সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তাদের (এআরও) ওপর এমন নির্দেশনা রয়েছে যে, যেকোনো বাণিজ্যিক পণ্য খালাসের ক্ষেত্রে সহকারী কমিশনার ওমর ফারুকের সরাসরি অনুমতি নিতে হবে। ফলে গেটে পণ্য পরিদর্শন সম্পন্ন হওয়ার পরও সিঅ্যান্ডএফ প্রতিনিধিদের ফাইল নিয়ে তাঁর কক্ষে যেতে হয় বলে দাবি করা হয়েছে।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য, পণ্য পরিদর্শনের জন্য অনুরোধ জানানো হলেও বিভিন্ন অজুহাতে তা পিছিয়ে দেওয়া হয়। কখনো পরদিন পণ্য দেখার কথা বলা হয়, আবার কখনো অতিরিক্ত পরীক্ষার প্রয়োজনীয়তার কথা জানানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

এতে বন্দরে কনটেইনার আটকে থাকায় ব্যবসায়ীদের ডেমারেজ বা অতিরিক্ত মাশুল গুনতে হচ্ছে বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তাঁদের অভিযোগ, আর্থিক ক্ষতি এড়াতে কোনো কোনো ব্যবসায়ী ও সিঅ্যান্ডএফ প্রতিনিধি অনৈতিক লেনদেনের চাপে পড়ছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কাস্টমসের এক কর্মচারীর দাবি, এমবিবি আনস্টাফিং গেটের রাজস্ব কর্মকর্তা সুমন কান্তি বিশ্বাস নিয়মিত সহকারী কমিশনার ওমর ফারুকের কার্যালয়ে বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে পণ্য আটকে রাখা এবং পরিদর্শনসংক্রান্ত বিভিন্ন অজুহাতে ব্যবসায়ীদের চাপ দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয় বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। তবে এ দাবির স্বাধীন কোনো সত্যতা নিশ্চিত করা যায়নি।

সম্প্রতি এসব অনিয়মের অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর ব্যবসায়ী ও সিঅ্যান্ডএফ প্রতিনিধিদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, প্রতিবাদ ও সংবাদ প্রকাশের পর পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে।

তাঁদের অভিযোগ, অনেক ক্ষেত্রে সিঅ্যান্ডএফ প্রতিনিধিদের সারাদিন অপেক্ষায় রেখে রাত ১০টা বা ১১টার দিকে জানানো হয়, সেদিন আর পণ্য পরিদর্শন করা সম্ভব হবে না। পরদিন আবার আসতে বলা হয়। এতে পরবর্তী দিনের ডেমারেজের আশঙ্কায় কোনো কোনো প্রতিনিধি অতিরিক্ত অর্থ দিতে বাধ্য হন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কাস্টম হাউসের সেবার স্বচ্ছতা, পণ্য খালাসের প্রক্রিয়া এবং অভিযোগ তদন্তে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ও সিঅ্যান্ডএফ প্রতিনিধিরা।

তাঁদের দাবি, অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে পণ্য খালাসের প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা, অযৌক্তিক হয়রানি এবং অনিয়ম থাকলে তা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।

অভিযোগগুলোর বিষয়ে বক্তব্য জানতে সহকারী কমিশনার ওমর ফারুক এবং রাজস্ব কর্মকর্তা সুমন কান্তি বিশ্বাসের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তাঁরা ফোন রিসিভ না করায় তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সর্বাধিক পঠিত

মাদকমুক্ত ও আদর্শ সমাজ গঠনের লক্ষ্যে যশোর সদর উপজেলার সিলুমপুর গ্রামে মতবিনিময় ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে ঘুষ ও হয়রানির অভিযোগ, কাঠগড়ায় দুই কর্মকর্তা

আপডেট: ০৩:৪০:০৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের জেটি শাখার আনস্টাফিং কার্যক্রমে ঘুষ বাণিজ্য, পণ্য খালাসে বিলম্ব ও ব্যবসায়ীদের হয়রানির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে সহকারী কমিশনার (এসি) ওমর ফারুক এবং রাজস্ব কর্মকর্তা (আরও) সুমন কান্তি বিশ্বাসের বিরুদ্ধে। চট্টগ্রাম বন্দরের পিসিটিসহ পাঁচটি আনস্টাফিং গেটকে কেন্দ্র করে এসব অনিয়মের অভিযোগ সামনে এসেছে। তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য পাওয়া যায়নি।

ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ও সিঅ্যান্ডএফ প্রতিনিধিদের সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, পাঁচটি আনস্টাফিং গেট থেকে প্রতি সপ্তাহে গেটপ্রতি প্রায় দেড় লাখ টাকা করে অবৈধ অর্থ আদায় করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ অর্থ আদায়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সম্পৃক্ততার বিষয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা।

অভিযোগ অনুযায়ী, আনস্টাফিং গেটগুলোতে কর্মরত রাজস্ব কর্মকর্তা (আরও) ও সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তাদের (এআরও) ওপর এমন নির্দেশনা রয়েছে যে, যেকোনো বাণিজ্যিক পণ্য খালাসের ক্ষেত্রে সহকারী কমিশনার ওমর ফারুকের সরাসরি অনুমতি নিতে হবে। ফলে গেটে পণ্য পরিদর্শন সম্পন্ন হওয়ার পরও সিঅ্যান্ডএফ প্রতিনিধিদের ফাইল নিয়ে তাঁর কক্ষে যেতে হয় বলে দাবি করা হয়েছে।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য, পণ্য পরিদর্শনের জন্য অনুরোধ জানানো হলেও বিভিন্ন অজুহাতে তা পিছিয়ে দেওয়া হয়। কখনো পরদিন পণ্য দেখার কথা বলা হয়, আবার কখনো অতিরিক্ত পরীক্ষার প্রয়োজনীয়তার কথা জানানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

এতে বন্দরে কনটেইনার আটকে থাকায় ব্যবসায়ীদের ডেমারেজ বা অতিরিক্ত মাশুল গুনতে হচ্ছে বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তাঁদের অভিযোগ, আর্থিক ক্ষতি এড়াতে কোনো কোনো ব্যবসায়ী ও সিঅ্যান্ডএফ প্রতিনিধি অনৈতিক লেনদেনের চাপে পড়ছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কাস্টমসের এক কর্মচারীর দাবি, এমবিবি আনস্টাফিং গেটের রাজস্ব কর্মকর্তা সুমন কান্তি বিশ্বাস নিয়মিত সহকারী কমিশনার ওমর ফারুকের কার্যালয়ে বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে পণ্য আটকে রাখা এবং পরিদর্শনসংক্রান্ত বিভিন্ন অজুহাতে ব্যবসায়ীদের চাপ দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয় বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। তবে এ দাবির স্বাধীন কোনো সত্যতা নিশ্চিত করা যায়নি।

সম্প্রতি এসব অনিয়মের অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর ব্যবসায়ী ও সিঅ্যান্ডএফ প্রতিনিধিদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, প্রতিবাদ ও সংবাদ প্রকাশের পর পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে।

তাঁদের অভিযোগ, অনেক ক্ষেত্রে সিঅ্যান্ডএফ প্রতিনিধিদের সারাদিন অপেক্ষায় রেখে রাত ১০টা বা ১১টার দিকে জানানো হয়, সেদিন আর পণ্য পরিদর্শন করা সম্ভব হবে না। পরদিন আবার আসতে বলা হয়। এতে পরবর্তী দিনের ডেমারেজের আশঙ্কায় কোনো কোনো প্রতিনিধি অতিরিক্ত অর্থ দিতে বাধ্য হন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কাস্টম হাউসের সেবার স্বচ্ছতা, পণ্য খালাসের প্রক্রিয়া এবং অভিযোগ তদন্তে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ও সিঅ্যান্ডএফ প্রতিনিধিরা।

তাঁদের দাবি, অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে পণ্য খালাসের প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা, অযৌক্তিক হয়রানি এবং অনিয়ম থাকলে তা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।

অভিযোগগুলোর বিষয়ে বক্তব্য জানতে সহকারী কমিশনার ওমর ফারুক এবং রাজস্ব কর্মকর্তা সুমন কান্তি বিশ্বাসের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তাঁরা ফোন রিসিভ না করায় তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।