নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকার কেরানীগঞ্জের ইকুরিয়ায় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) ঢাকা মেট্রো সার্কেল-২ কার্যালয়ে দালালচক্রের দৌরাত্ম্য ও ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ, সরাসরি অফিসে প্রবেশের সুযোগ কমলেও মোবাইল ফোনের মাধ্যমে কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিভিন্ন সেবা পাইয়ে দেওয়ার নামে সক্রিয় রয়েছে একটি দালালচক্র।
স্থানীয় সেবাগ্রহীতা ও সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, ড্রাইভিং লাইসেন্স, গাড়ির ফিটনেস, রেজিস্ট্রেশন, মালিকানা পরিবর্তনসহ বিভিন্ন সেবায় নির্ধারিত সরকারি ফি’র বাইরে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সম্প্রতি সরেজমিনে বিআরটিএ কার্যালয় এলাকায় দেখা যায়, মূল ফটকের আশপাশে কয়েকজন ব্যক্তি সেবাগ্রহীতাদের কাছে গিয়ে জানতে চাইছেন, তারা কী ধরনের সেবা নিতে এসেছেন। দ্রুত ও সহজে কাজ করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছেন তারা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন ব্যক্তি দাবি করেন, আগের তুলনায় বর্তমানে দালালদের সরাসরি অফিসে প্রবেশে কড়াকড়ি রয়েছে। ফলে মোবাইল ফোনে ভেতরের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করেই অনেক কাজ সম্পন্ন করা হচ্ছে। তবে তাদের এসব বক্তব্যের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
একজন দালাল দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে তিনি বিআরটিএকেন্দ্রিক কাজের সঙ্গে যুক্ত। মোবাইল কোর্টের কারণে বর্তমানে প্রকাশ্যে অবস্থান করা ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় দূর থেকে যোগাযোগের মাধ্যমে কাজ করেন।
এদিকে বিআরটিএ কার্যালয়ের ভেতরেও সেবাগ্রহীতাদের নানা ভোগান্তির অভিযোগ রয়েছে। সরেজমিনে কয়েকটি কক্ষে বিদ্যুৎ না থাকায় চার্জার লাইট ব্যবহার করে কর্মকর্তাদের কাজ করতে দেখা যায়। সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ, বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে অনেক সময় কাজ ব্যাহত হয় এবং অপেক্ষার সময় বেড়ে যায়।
মতিঝিল থেকে আসা ব্যাংকার আসলাম বলেন, তার কাজে সরাসরি কোনো হয়রানি হয়নি। তবে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় অন্ধকারে অপেক্ষা করতে হয়েছে।
অন্যদিকে কদমতলীর ব্যবসায়ী শামীম দাবি করেন, ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য তিনি এক দালালের সঙ্গে ১২ হাজার টাকায় চুক্তি করেছিলেন। লিখিত ও ব্যবহারিক পরীক্ষায় অনিয়মের মাধ্যমে পাস করিয়ে দেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি। তবে তার এসব দাবিরও স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
কালিয়াকৈর থেকে আসা ইউনুস আলী বলেন, কয়েক বছর আগের তুলনায় বিআরটিএতে দালালদের প্রকাশ্য দৌরাত্ম্য কিছুটা কমেছে। তবে দালালচক্র পুরোপুরি বন্ধ হয়নি বলে তার দাবি।
মিরপুরের আবদুল জাব্বার জানান, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ড্রাইভিং লাইসেন্সের সব পরীক্ষা শেষ করে টাকা জমা দেওয়ার পরও দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেছে, কিন্তু তিনি এখনো লাইসেন্স পাননি।
দালালচক্রের কয়েকজন সদস্যের দাবি, গাড়ির ফিটনেস, মালিকানা পরিবর্তন, রেজিস্ট্রেশন ও ড্রাইভিং লাইসেন্সসহ বিভিন্ন সেবায় অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হয়। তবে তাদের দেওয়া অর্থের পরিমাণ ও প্রতিদিনের লেনদেনসংক্রান্ত দাবির স্বাধীন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
প্রতিবেদনে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, বিআরটিএ কার্যালয়কে ঘিরে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে কার্যালয়ের বিভিন্ন শাখায় সেবাগ্রহীতাদের ওপর প্রভাব বিস্তার এবং অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। এ অভিযোগও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য ও নথিপত্র দিয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অভিযোগের বিষয়ে বিআরটিএ ঢাকা মেট্রো সার্কেল-২-এর উপপরিচালক প্রকৌশলী সৈয়দ আইনুল হুদা চৌধুরীকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
এছাড়া প্রতিবেদনে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে দালালচক্রের অন্যতম অভিযুক্ত হিসেবে আবু বক্কর সিদ্দিকের বক্তব্য জানতে তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
সেবাগ্রহীতাদের দাবি, বিআরটিএ কার্যালয়ে দালালমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে নিয়মিত নজরদারি, অভিযোগের দ্রুত তদন্ত এবং সেবাপ্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও সহজ করা প্রয়োজন।




















