০৮:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬

চরফ্যাশনে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান সহকারীর বিরুদ্ধে কোটি টাকার সম্পদের অভিযোগ

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১২:৫৪:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬
  • ৫০৪

ভোলার চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান সহকারী মো. জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে চাকরির আয়-ব্যয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বিপুল সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। তার নামে ও পরিবারের সদস্যদের নামে কোটি টাকার বেশি সম্পদ থাকার দাবি করে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন হাসিব নামে এক ব্যক্তি। একই অভিযোগ করা হয়েছে ভোলা সিভিল সার্জনের কাছেও।

দুদকে দেওয়া অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন সরকারি চাকরিতে থাকা জাহাঙ্গীর আলমের নামে ও পরিবারের সদস্যদের নামে বিপুল পরিমাণ স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ রয়েছে। এসব সম্পদের সঙ্গে তার সরকারি চাকরি থেকে পাওয়া বেতন-ভাতার সামঞ্জস্য নেই বলেও অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের শুভাঢ্যা পশ্চিম পাড়ায় জাহাঙ্গীর আলমের প্রায় ১ হাজার ৪০০ বর্গফুটের দুটি ফ্ল্যাট রয়েছে। এছাড়া শুভাঢ্যা বেগুনবাড়ি এলাকায় প্রায় ১ হাজার ৫০০ বর্গফুটের আরও একটি ফ্ল্যাট থাকার দাবি করা হয়েছে।

চরফ্যাশন পৌরসভার শরীফ পাড়ায় তার একটি ডুপ্লেক্স বাড়ি রয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। ওই বাড়ির আনুমানিক মূল্য ৪৫ লাখ টাকা বলে দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি তার নামে আরও জমি থাকার অভিযোগ এনে তদন্তের মাধ্যমে এসব সম্পদের তথ্য বের করার দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারী।

অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়েছে, ভোলা জেলা ডাকঘরে জাহাঙ্গীর আলম ও তার স্ত্রীর নামে প্রায় ২৫ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র রয়েছে। সুদের অর্থ যুক্ত হলে এর পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

এছাড়া জাহাঙ্গীর আলমের স্ত্রীর কাছে প্রায় ১০০ ভরি স্বর্ণালংকার রয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এসব সম্পদ অবৈধ ঘুষের অর্থে অর্জিত হয়েছে বলে দাবি করেছেন অভিযোগকারী হাসিব।

অভিযোগকারী জাহাঙ্গীর আলমের সম্পদের উৎস, আয়-ব্যয়ের হিসাব এবং সম্পদ অর্জনের বৈধতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “আমার ক্রয় করা কোনো সম্পত্তি নেই। সব পৈতৃক সূত্রে পাওয়া।”

ভোলার সিভিল সার্জন মনিরুল ইসলাম বলেন, “এ বিষয়ে আমি দেখব তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে কি না।”

এদিকে দুদক বরিশালের উপসহকারী পরিচালক সুশান্ত রায় বলেন, “কমিশনের অনুমতি ছাড়া তদন্ত করা সম্ভব নয়। কমিশনের অনুমতি পেলে তদন্ত শুরু করব।”

জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলো এখনো তদন্তে প্রমাণিত হয়নি। অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের ফলাফলের ওপরই বিষয়টির পরবর্তী অবস্থান নির্ভর করবে।

সর্বাধিক পঠিত

বেনাপোল স্থলবন্দর পরিদর্শনে মার্কিন দূতাবাসের তিন সদস্যের প্রতিনিধি দল

চরফ্যাশনে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান সহকারীর বিরুদ্ধে কোটি টাকার সম্পদের অভিযোগ

আপডেট: ১২:৫৪:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬

ভোলার চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান সহকারী মো. জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে চাকরির আয়-ব্যয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বিপুল সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। তার নামে ও পরিবারের সদস্যদের নামে কোটি টাকার বেশি সম্পদ থাকার দাবি করে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন হাসিব নামে এক ব্যক্তি। একই অভিযোগ করা হয়েছে ভোলা সিভিল সার্জনের কাছেও।

দুদকে দেওয়া অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন সরকারি চাকরিতে থাকা জাহাঙ্গীর আলমের নামে ও পরিবারের সদস্যদের নামে বিপুল পরিমাণ স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ রয়েছে। এসব সম্পদের সঙ্গে তার সরকারি চাকরি থেকে পাওয়া বেতন-ভাতার সামঞ্জস্য নেই বলেও অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের শুভাঢ্যা পশ্চিম পাড়ায় জাহাঙ্গীর আলমের প্রায় ১ হাজার ৪০০ বর্গফুটের দুটি ফ্ল্যাট রয়েছে। এছাড়া শুভাঢ্যা বেগুনবাড়ি এলাকায় প্রায় ১ হাজার ৫০০ বর্গফুটের আরও একটি ফ্ল্যাট থাকার দাবি করা হয়েছে।

চরফ্যাশন পৌরসভার শরীফ পাড়ায় তার একটি ডুপ্লেক্স বাড়ি রয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। ওই বাড়ির আনুমানিক মূল্য ৪৫ লাখ টাকা বলে দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি তার নামে আরও জমি থাকার অভিযোগ এনে তদন্তের মাধ্যমে এসব সম্পদের তথ্য বের করার দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারী।

অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়েছে, ভোলা জেলা ডাকঘরে জাহাঙ্গীর আলম ও তার স্ত্রীর নামে প্রায় ২৫ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র রয়েছে। সুদের অর্থ যুক্ত হলে এর পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

এছাড়া জাহাঙ্গীর আলমের স্ত্রীর কাছে প্রায় ১০০ ভরি স্বর্ণালংকার রয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এসব সম্পদ অবৈধ ঘুষের অর্থে অর্জিত হয়েছে বলে দাবি করেছেন অভিযোগকারী হাসিব।

অভিযোগকারী জাহাঙ্গীর আলমের সম্পদের উৎস, আয়-ব্যয়ের হিসাব এবং সম্পদ অর্জনের বৈধতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “আমার ক্রয় করা কোনো সম্পত্তি নেই। সব পৈতৃক সূত্রে পাওয়া।”

ভোলার সিভিল সার্জন মনিরুল ইসলাম বলেন, “এ বিষয়ে আমি দেখব তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে কি না।”

এদিকে দুদক বরিশালের উপসহকারী পরিচালক সুশান্ত রায় বলেন, “কমিশনের অনুমতি ছাড়া তদন্ত করা সম্ভব নয়। কমিশনের অনুমতি পেলে তদন্ত শুরু করব।”

জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলো এখনো তদন্তে প্রমাণিত হয়নি। অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের ফলাফলের ওপরই বিষয়টির পরবর্তী অবস্থান নির্ভর করবে।