১০:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

স্ত্রীর অন্যত্র বিয়ের ১২ দিন পর মণিরামপুরে যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১০:০১:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫০৬

যশোরের মণিরামপুরে স্ত্রীর সঙ্গে বন্ধুর বিয়ের ১২ দিন পর মিথুন হোসেন (২৮) নামে এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার দিবাগত রাত ১১টার দিকে উপজেলার কাশিমনগর ইউনিয়নের মান্দারতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মিথুন ওই এলাকার মশিয়ার রহমানের ছেলে। তিনি পেশায় নির্মাণশ্রমিক ছিলেন। পারিবারিকভাবে প্রায় ১০ বছর আগে মধুপুর গ্রামের সাথীর সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তাদের ছয় ও চার বছর বয়সী দুই ছেলে রয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, মিথুনের বন্ধু ও প্রতিবেশী সুমন প্রায় চার বছর আগে মালয়েশিয়ায় যান। সুমনের সঙ্গে সাথীর ঘনিষ্ঠতার বিষয়টি একপর্যায়ে জানতে পারেন মিথুন। পরে স্ত্রীকে অন্যত্র বিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। গত ১৬ সেপ্টেম্বর নওয়াপাড়ার ধোপাদি এলাকার একটি কাজী অফিসে সুমনের সঙ্গে সাথীর বিয়ে হয় বলে দাবি সাথীর। ওই বিয়েতে মিথুন সাক্ষী হিসেবে স্বাক্ষর করেছিলেন বলেও তিনি দাবি করেন।

মিথুনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু পল্লি চিকিৎসক মুবাসসের আল মুবিন বলেন, ঘটনার তিন দিন আগে মিথুনের সঙ্গে তার দেখা হয়েছিল। তখন তাকে মানসিকভাবে ভেঙে পড়া অবস্থায় দেখেন। মিথুন তাকে জানিয়েছিলেন, দুই সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবেই তিনি স্ত্রীকে অন্যত্র বিয়ে দিয়েছেন। এ নিয়ে তিনি পারিবারিক ও মানসিক চাপে ছিলেন।

নিহতের মা রওশনারার অভিযোগ, রোববার রাতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হয়েছিল। পরে সাথী তাদের জানান, মিথুন আত্মহত্যা করেছেন। তবে মিথুনের মৃত্যু নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে তিনি বলেন, তাকে হত্যা করে ঝুলিয়ে রাখা হয়ে থাকতে পারে। পরিবারের পক্ষ থেকে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।

অভিযোগ অস্বীকার করে সাথী বলেন, মিথুন নিজেই সুমনের সঙ্গে তার বিয়ের ব্যবস্থা করেছিলেন। তার দাবি, গত ১৪ সেপ্টেম্বর মিথুন তাকে সুমনকে বিয়ে করতে রাজি করান এবং দুই দিন পর কাজী অফিসে নিয়ে গিয়ে বিয়ে দেন। রোববার রাতেও এ বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়েছিল বলে জানান তিনি।

সুমন বর্তমানে মালয়েশিয়ায় থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে তার ভগ্নিপতি রাকিব হোসেন জানান, মিথুনের মৃত্যুর পর তারা বিয়ের বিষয়টি জানতে পারেন। সুমনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বিয়ের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন বলে দাবি করেন রাকিব।

মণিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সাঈদ বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে। মরদেহে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।

ওসি জানান, মিথুনের স্ত্রীর অন্যত্র বিয়ের বিষয়টি পুলিশ জানতে পেরেছে। পরিবার চাইলে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো এজাহার দেওয়া হয়নি। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।

সর্বাধিক পঠিত

স্ত্রীর অন্যত্র বিয়ের ১২ দিন পর মণিরামপুরে যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

স্ত্রীর অন্যত্র বিয়ের ১২ দিন পর মণিরামপুরে যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

আপডেট: ১০:০১:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

যশোরের মণিরামপুরে স্ত্রীর সঙ্গে বন্ধুর বিয়ের ১২ দিন পর মিথুন হোসেন (২৮) নামে এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার দিবাগত রাত ১১টার দিকে উপজেলার কাশিমনগর ইউনিয়নের মান্দারতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মিথুন ওই এলাকার মশিয়ার রহমানের ছেলে। তিনি পেশায় নির্মাণশ্রমিক ছিলেন। পারিবারিকভাবে প্রায় ১০ বছর আগে মধুপুর গ্রামের সাথীর সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তাদের ছয় ও চার বছর বয়সী দুই ছেলে রয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, মিথুনের বন্ধু ও প্রতিবেশী সুমন প্রায় চার বছর আগে মালয়েশিয়ায় যান। সুমনের সঙ্গে সাথীর ঘনিষ্ঠতার বিষয়টি একপর্যায়ে জানতে পারেন মিথুন। পরে স্ত্রীকে অন্যত্র বিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। গত ১৬ সেপ্টেম্বর নওয়াপাড়ার ধোপাদি এলাকার একটি কাজী অফিসে সুমনের সঙ্গে সাথীর বিয়ে হয় বলে দাবি সাথীর। ওই বিয়েতে মিথুন সাক্ষী হিসেবে স্বাক্ষর করেছিলেন বলেও তিনি দাবি করেন।

মিথুনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু পল্লি চিকিৎসক মুবাসসের আল মুবিন বলেন, ঘটনার তিন দিন আগে মিথুনের সঙ্গে তার দেখা হয়েছিল। তখন তাকে মানসিকভাবে ভেঙে পড়া অবস্থায় দেখেন। মিথুন তাকে জানিয়েছিলেন, দুই সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবেই তিনি স্ত্রীকে অন্যত্র বিয়ে দিয়েছেন। এ নিয়ে তিনি পারিবারিক ও মানসিক চাপে ছিলেন।

নিহতের মা রওশনারার অভিযোগ, রোববার রাতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হয়েছিল। পরে সাথী তাদের জানান, মিথুন আত্মহত্যা করেছেন। তবে মিথুনের মৃত্যু নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে তিনি বলেন, তাকে হত্যা করে ঝুলিয়ে রাখা হয়ে থাকতে পারে। পরিবারের পক্ষ থেকে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।

অভিযোগ অস্বীকার করে সাথী বলেন, মিথুন নিজেই সুমনের সঙ্গে তার বিয়ের ব্যবস্থা করেছিলেন। তার দাবি, গত ১৪ সেপ্টেম্বর মিথুন তাকে সুমনকে বিয়ে করতে রাজি করান এবং দুই দিন পর কাজী অফিসে নিয়ে গিয়ে বিয়ে দেন। রোববার রাতেও এ বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়েছিল বলে জানান তিনি।

সুমন বর্তমানে মালয়েশিয়ায় থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে তার ভগ্নিপতি রাকিব হোসেন জানান, মিথুনের মৃত্যুর পর তারা বিয়ের বিষয়টি জানতে পারেন। সুমনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বিয়ের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন বলে দাবি করেন রাকিব।

মণিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সাঈদ বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে। মরদেহে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।

ওসি জানান, মিথুনের স্ত্রীর অন্যত্র বিয়ের বিষয়টি পুলিশ জানতে পেরেছে। পরিবার চাইলে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো এজাহার দেওয়া হয়নি। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।