০৫:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ভারতের বেঙ্গালুরুতে বাংলাদেশির মরদেহ ৮ দিন আটকে রাখার অভিযোগ

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৯:৫৯:৩৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫০৪

ভারতের বেঙ্গালুরুর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া এক বাংলাদেশি নাগরিকের মরদেহ আট দিন আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে। মৃতের স্ত্রী তানজিলা ইসলাম আশার দাবি, চিকিৎসার বকেয়া বিল পরিশোধ না করলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মরদেহ হস্তান্তর করতে রাজি হয়নি। পরে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সহায়তায় মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া–এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, নওগাঁর বাসিন্দা মোহাম্মদ আবদুল হাকিম সবুজ (৩২) বাংলাদেশে চুক্তিভিত্তিক সরকারি শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। কিডনির চিকিৎসার জন্য গত ৫ সেপ্টেম্বর স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে বেঙ্গালুরু যান তিনি। পরদিন পুরনো বিমানবন্দর সড়কের মণিপাল হাসপাতালে তাকে ভর্তি করা হয়।
সবুজের স্ত্রী তানজিলা ইসলাম আশার ভাষ্য, হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর স্বামীর শ্বাসকষ্ট ও বুকে ব্যথা বাড়তে থাকলে তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়। চিকিৎসার বিভিন্ন পর্যায়ে হাসপাতালের দাবিমতো তিনি মোট ৭ লাখ ৫০ হাজার রুপি পরিশোধ করেন।

তিনি জানান, ১৪ সেপ্টেম্বর সবুজের ডান পায়ে সংক্রমণ দেখা দিলে চিকিৎসকেরা অস্ত্রোপচার করে পা কেটে ফেলেন। এরপর তার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হয়। ১৮ সেপ্টেম্বর দুপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সবুজের মৃত্যু হয়।

আশার অভিযোগ, স্বামীর মৃত্যুর পর মরদেহ দেশে নেওয়ার প্রস্তুতি শুরু করলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চিকিৎসা বাবদ ৩৫ লাখ ৭৯ হাজার রুপি বকেয়া দাবি করে। ওই অর্থ পরিশোধ না করলে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে না বলেও তাকে জানানো হয় বলে দাবি করেন তিনি।

এ ছাড়া তার পাসপোর্টও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আটকে রেখেছিল বলে অভিযোগ করেন আশা।

তার আরও দাবি, চিকিৎসার বিভিন্ন পর্যায়ে পরিশোধ করা ৭ লাখ ৫০ হাজার রুপির কোনো রসিদ তাকে দেওয়া হয়নি। একই সঙ্গে চিকিৎসার সম্ভাব্য মোট ব্যয় সম্পর্কেও তাকে আগে থেকে স্পষ্ট ধারণা দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

পরিস্থিতির মধ্যে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সহায়তা চান তানজিলা ইসলাম আশা। পরে ২৬ সেপ্টেম্বর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সবুজের মরদেহ তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে।

সবুজের সঙ্গে থাকা বন্ধু মোহাম্মদ মোক্তাদির হোসেন জানান, মরদেহ নেওয়ার সময় ৭ লাখ ৫০ হাজার রুপির বাইরে অতিরিক্ত কোনো অর্থ পরিশোধ করতে হয়নি। স্থানীয় কয়েকজনের সহায়তায় আশার পাসপোর্টও ফেরত পাওয়া যায় বলে জানান তিনি।

মণিপাল হাসপাতালের এক কর্মকর্তা মরদেহ হস্তান্তরের বিষয়টি নিশ্চিত করলেও অভিযোগগুলোর বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেননি।
পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানায়, গুরুতর শ্বাসকষ্ট নিয়ে সবুজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। তার শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা কম ছিল। আইসিইউতে নেওয়ার পর তার হৃদ্‌যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে গেলে চিকিৎসকেরা তাকে দুইবার পুনরুজ্জীবিত করেন।

হাসপাতালের দাবি, পরবর্তী সময়ে কৃত্রিম হৃদ্‌ফুসফুস সহায়তা ও ভেন্টিলেশনের মাধ্যমে তার চিকিৎসা চালানো হয়। পরীক্ষায় ফুসফুসে রক্ত জমাট ও রক্তনালিতে বাধা শনাক্ত হওয়ার পর ৯ সেপ্টেম্বর অস্ত্রোপচার করে জমাট রক্ত অপসারণ করা হয়।

তবে সর্বোচ্চ চেষ্টা সত্ত্বেও ১৮ সেপ্টেম্বর সবুজের মৃত্যু হয় বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সবুজের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে মরদেহ হস্তান্তরে বিলম্ব, হাসপাতালের দাবিকৃত ৩৫ লাখ ৭৯ হাজার রুপির বকেয়া, আগে পরিশোধ করা অর্থের রসিদ এবং পাসপোর্ট আটকে রাখার অভিযোগ—এসব বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিস্তারিত ব্যাখ্যা এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।
এ ঘটনায় বাংলাদেশ হাইকমিশনের পক্ষ থেকেও বিস্তারিত লিখিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে হাসপাতাল ও পরিবারের বক্তব্যের মধ্যে যে পার্থক্য রয়েছে, তা যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট নথি ও অর্থ পরিশোধের রেকর্ড গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
মরদেহ দেশে ফেরত আসার পর পরিবারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করা হয়েছে কি না এবং ভারতীয় কর্তৃপক্ষ বিষয়টি তদন্ত করবে কি না, সেটিও এখন দেখার বিষয়।

সর্বাধিক পঠিত

শার্শায় বিশেষ অভিযানে যুবলীগের সাবেক নেতা আটক

ভারতের বেঙ্গালুরুতে বাংলাদেশির মরদেহ ৮ দিন আটকে রাখার অভিযোগ

আপডেট: ০৯:৫৯:৩৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ভারতের বেঙ্গালুরুর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া এক বাংলাদেশি নাগরিকের মরদেহ আট দিন আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে। মৃতের স্ত্রী তানজিলা ইসলাম আশার দাবি, চিকিৎসার বকেয়া বিল পরিশোধ না করলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মরদেহ হস্তান্তর করতে রাজি হয়নি। পরে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সহায়তায় মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া–এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, নওগাঁর বাসিন্দা মোহাম্মদ আবদুল হাকিম সবুজ (৩২) বাংলাদেশে চুক্তিভিত্তিক সরকারি শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। কিডনির চিকিৎসার জন্য গত ৫ সেপ্টেম্বর স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে বেঙ্গালুরু যান তিনি। পরদিন পুরনো বিমানবন্দর সড়কের মণিপাল হাসপাতালে তাকে ভর্তি করা হয়।
সবুজের স্ত্রী তানজিলা ইসলাম আশার ভাষ্য, হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর স্বামীর শ্বাসকষ্ট ও বুকে ব্যথা বাড়তে থাকলে তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়। চিকিৎসার বিভিন্ন পর্যায়ে হাসপাতালের দাবিমতো তিনি মোট ৭ লাখ ৫০ হাজার রুপি পরিশোধ করেন।

তিনি জানান, ১৪ সেপ্টেম্বর সবুজের ডান পায়ে সংক্রমণ দেখা দিলে চিকিৎসকেরা অস্ত্রোপচার করে পা কেটে ফেলেন। এরপর তার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হয়। ১৮ সেপ্টেম্বর দুপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সবুজের মৃত্যু হয়।

আশার অভিযোগ, স্বামীর মৃত্যুর পর মরদেহ দেশে নেওয়ার প্রস্তুতি শুরু করলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চিকিৎসা বাবদ ৩৫ লাখ ৭৯ হাজার রুপি বকেয়া দাবি করে। ওই অর্থ পরিশোধ না করলে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে না বলেও তাকে জানানো হয় বলে দাবি করেন তিনি।

এ ছাড়া তার পাসপোর্টও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আটকে রেখেছিল বলে অভিযোগ করেন আশা।

তার আরও দাবি, চিকিৎসার বিভিন্ন পর্যায়ে পরিশোধ করা ৭ লাখ ৫০ হাজার রুপির কোনো রসিদ তাকে দেওয়া হয়নি। একই সঙ্গে চিকিৎসার সম্ভাব্য মোট ব্যয় সম্পর্কেও তাকে আগে থেকে স্পষ্ট ধারণা দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

পরিস্থিতির মধ্যে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সহায়তা চান তানজিলা ইসলাম আশা। পরে ২৬ সেপ্টেম্বর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সবুজের মরদেহ তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে।

সবুজের সঙ্গে থাকা বন্ধু মোহাম্মদ মোক্তাদির হোসেন জানান, মরদেহ নেওয়ার সময় ৭ লাখ ৫০ হাজার রুপির বাইরে অতিরিক্ত কোনো অর্থ পরিশোধ করতে হয়নি। স্থানীয় কয়েকজনের সহায়তায় আশার পাসপোর্টও ফেরত পাওয়া যায় বলে জানান তিনি।

মণিপাল হাসপাতালের এক কর্মকর্তা মরদেহ হস্তান্তরের বিষয়টি নিশ্চিত করলেও অভিযোগগুলোর বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেননি।
পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানায়, গুরুতর শ্বাসকষ্ট নিয়ে সবুজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। তার শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা কম ছিল। আইসিইউতে নেওয়ার পর তার হৃদ্‌যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে গেলে চিকিৎসকেরা তাকে দুইবার পুনরুজ্জীবিত করেন।

হাসপাতালের দাবি, পরবর্তী সময়ে কৃত্রিম হৃদ্‌ফুসফুস সহায়তা ও ভেন্টিলেশনের মাধ্যমে তার চিকিৎসা চালানো হয়। পরীক্ষায় ফুসফুসে রক্ত জমাট ও রক্তনালিতে বাধা শনাক্ত হওয়ার পর ৯ সেপ্টেম্বর অস্ত্রোপচার করে জমাট রক্ত অপসারণ করা হয়।

তবে সর্বোচ্চ চেষ্টা সত্ত্বেও ১৮ সেপ্টেম্বর সবুজের মৃত্যু হয় বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সবুজের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে মরদেহ হস্তান্তরে বিলম্ব, হাসপাতালের দাবিকৃত ৩৫ লাখ ৭৯ হাজার রুপির বকেয়া, আগে পরিশোধ করা অর্থের রসিদ এবং পাসপোর্ট আটকে রাখার অভিযোগ—এসব বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিস্তারিত ব্যাখ্যা এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।
এ ঘটনায় বাংলাদেশ হাইকমিশনের পক্ষ থেকেও বিস্তারিত লিখিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে হাসপাতাল ও পরিবারের বক্তব্যের মধ্যে যে পার্থক্য রয়েছে, তা যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট নথি ও অর্থ পরিশোধের রেকর্ড গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
মরদেহ দেশে ফেরত আসার পর পরিবারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করা হয়েছে কি না এবং ভারতীয় কর্তৃপক্ষ বিষয়টি তদন্ত করবে কি না, সেটিও এখন দেখার বিষয়।