০৫:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কক্সবাজারের চকরিয়ায় ছাত্রদল নেতাকে অপহরণের পর হত্যা, মহাসড়কের পাশে হাত-পা বাঁধা মরদেহ উদ্ধার

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১০:১৪:০১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫০৭

কক্সবাজারের চকরিয়ায় ইউনিয়ন ছাত্রদলের এক নেতাকে অপহরণের পর নির্যাতন করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। অপহরণের প্রায় চার ঘণ্টা পর চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের কচ্ছপিয়া ঢালা এলাকা থেকে তার হাত-পা বাঁধা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

নিহত ইসফাতুল ইসলাম জিসান (২৮) চকরিয়া উপজেলার কাকারা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক ছিলেন। তিনি কাকারা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ লোটনী এলাকার নাজেম উদ্দিনের ছেলে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে কাকারা মাঝের স্টেশনের একটি দোকানের সামনে অবস্থান করছিলেন জিসান।

এ সময় একটি সাদা রঙের মাইক্রোবাসে করে অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজন ব্যক্তি সেখানে এসে তাকে তুলে নিয়ে যায় বলে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে।

পরিবারের দাবি, অপহরণের পর জিসানকে চকরিয়া পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সবুজবাগ এলাকার ‘কবির টাওয়ারে’ নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে নির্যাতনের পর হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ পরিবারের।

পরে মরদেহটি চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের কচ্ছপিয়া ঢালা এলাকায় ফেলে রেখে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায় বলে স্বজনদের অভিযোগ।
অপহরণের প্রায় চার ঘণ্টা পর পুলিশ মহাসড়কের পাশ থেকে জিসানের মরদেহ উদ্ধার করে। তার হাত-পা বাঁধা ছিল এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে বলে জানা গেছে।

চকরিয়া থানার অপারেশন অফিসার ইসমাইল হোসেন মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, “জিসানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া ও ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।”

তবে কারা এবং কী কারণে জিসানকে অপহরণ করে হত্যা করেছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ বিস্তারিত কিছু জানায়নি।

এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন চকরিয়া উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি রেজাউল করিম বাপ্পি।

তিনি বলেন, “জিসান ছাত্রদলের একজন উদীয়মান ও সক্রিয় নেতা ছিলেন। তাকে অপহরণ করে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমরা এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।”

তিনি আরও বলেন, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা না হলে চকরিয়া উপজেলা ছাত্রদল সাধারণ ছাত্রসমাজকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলনে নামবে।
জিসান হত্যাকাণ্ডের পেছনে রাজনৈতিক বিরোধ, ব্যক্তিগত শত্রুতা, অপরাধী চক্রের দ্বন্দ্ব কিংবা অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের প্রস্তুতি নিচ্ছে। একই সঙ্গে অপহরণ ও হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

সর্বাধিক পঠিত

শার্শায় বিশেষ অভিযানে যুবলীগের সাবেক নেতা আটক

কক্সবাজারের চকরিয়ায় ছাত্রদল নেতাকে অপহরণের পর হত্যা, মহাসড়কের পাশে হাত-পা বাঁধা মরদেহ উদ্ধার

আপডেট: ১০:১৪:০১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কক্সবাজারের চকরিয়ায় ইউনিয়ন ছাত্রদলের এক নেতাকে অপহরণের পর নির্যাতন করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। অপহরণের প্রায় চার ঘণ্টা পর চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের কচ্ছপিয়া ঢালা এলাকা থেকে তার হাত-পা বাঁধা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

নিহত ইসফাতুল ইসলাম জিসান (২৮) চকরিয়া উপজেলার কাকারা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক ছিলেন। তিনি কাকারা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ লোটনী এলাকার নাজেম উদ্দিনের ছেলে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে কাকারা মাঝের স্টেশনের একটি দোকানের সামনে অবস্থান করছিলেন জিসান।

এ সময় একটি সাদা রঙের মাইক্রোবাসে করে অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজন ব্যক্তি সেখানে এসে তাকে তুলে নিয়ে যায় বলে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে।

পরিবারের দাবি, অপহরণের পর জিসানকে চকরিয়া পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সবুজবাগ এলাকার ‘কবির টাওয়ারে’ নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে নির্যাতনের পর হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ পরিবারের।

পরে মরদেহটি চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের কচ্ছপিয়া ঢালা এলাকায় ফেলে রেখে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায় বলে স্বজনদের অভিযোগ।
অপহরণের প্রায় চার ঘণ্টা পর পুলিশ মহাসড়কের পাশ থেকে জিসানের মরদেহ উদ্ধার করে। তার হাত-পা বাঁধা ছিল এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে বলে জানা গেছে।

চকরিয়া থানার অপারেশন অফিসার ইসমাইল হোসেন মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, “জিসানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া ও ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।”

তবে কারা এবং কী কারণে জিসানকে অপহরণ করে হত্যা করেছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ বিস্তারিত কিছু জানায়নি।

এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন চকরিয়া উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি রেজাউল করিম বাপ্পি।

তিনি বলেন, “জিসান ছাত্রদলের একজন উদীয়মান ও সক্রিয় নেতা ছিলেন। তাকে অপহরণ করে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমরা এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।”

তিনি আরও বলেন, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা না হলে চকরিয়া উপজেলা ছাত্রদল সাধারণ ছাত্রসমাজকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলনে নামবে।
জিসান হত্যাকাণ্ডের পেছনে রাজনৈতিক বিরোধ, ব্যক্তিগত শত্রুতা, অপরাধী চক্রের দ্বন্দ্ব কিংবা অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের প্রস্তুতি নিচ্ছে। একই সঙ্গে অপহরণ ও হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।