০৪:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জাতিসংঘ অধিবেশন শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৯:৪৭:২১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫১২

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে যোগদান শেষে নিউইয়র্ক থেকে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপুল জানান, প্রধানমন্ত্রী, তাঁর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান এবং সফরসঙ্গীদের বহনকারী এমিরেটসের ফ্লাইটটি রোববার সকালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। এর আগে প্রধানমন্ত্রী নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে দুবাই হয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন।

নিউইয়র্ক থেকে ফেরার পথে দুবাইয়ে যাত্রাবিরতির পর এমিরেটসের ইকে-৫৮২ ফ্লাইটে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী।
জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনে অংশ নিতে পাঁচ দিনের নিউইয়র্ক সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অগ্রাধিকার তুলে ধরেন।

২৪ সেপ্টেম্বর ইউএনজিএর সাধারণ বিতর্কে বাংলায় দেওয়া ভাষণে তিনি শান্তি, গণতন্ত্র, টেকসই উন্নয়ন, জলবায়ু পরিবর্তন, রোহিঙ্গা সংকট এবং বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রাধিকারসহ বিভিন্ন বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা, অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন, প্রযুক্তি ও মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান এবং মিয়ানমারে তাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনের ওপর গুরুত্ব দেন।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ও উপদেষ্টা মাহদী আমিনের তথ্য অনুযায়ী, নিউইয়র্কে চার দিনের কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রী মোট ৩০টি সরকারি কর্মসূচিতে অংশ নেন।

এর মধ্যে ছিল ইউএনজিএ-সংশ্লিষ্ট আটটি কর্মসূচি, সাধারণ পরিষদের সাইডলাইনে চারটি উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠান এবং ১১টি দ্বিপক্ষীয় বৈঠক। এ ছাড়া বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গেও তিনি বৈঠক করেন।

এসব বৈঠকে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, জনশক্তি রপ্তানি, জ্বালানি নিরাপত্তা, আঞ্চলিক সহযোগিতা, রোহিঙ্গা সংকট, স্বাস্থ্য, জলবায়ু পরিবর্তন ও আন্তর্জাতিক শান্তির বিষয় গুরুত্ব পায়।
প্রধানমন্ত্রীর সফরের বিভিন্ন বৈঠকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্বার্থ, বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।

ইউএনজিএর সাধারণ বিতর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান বিশ্বব্যবস্থায় দেশগুলো পরস্পরের ওপর নির্ভরশীল। আঞ্চলিক বাণিজ্য, কার্যকর যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং অর্থবহ সহযোগিতার মাধ্যমে দেশগুলো পারস্পরিক সমৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখতে পারে।
সফরকালে রোহিঙ্গা সংকটও বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরা হয়। প্রধানমন্ত্রী মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।

একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান এবং জলবায়ু অর্থায়ন, অভিযোজন, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও জলবায়ু ন্যায়বিচারের বিষয়গুলোও আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরা হয়।
প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানও সফরকালে কয়েকটি উচ্চপর্যায়ের কর্মসূচিতে অংশ নেন। এর মধ্যে প্ল্যাটফর্ম অব উইমেন লিডার্স, ফার্স্ট স্পাউসেস’ ডায়ালগ এবং মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্য ও মিডওয়াইফারি বিষয়ক অনুষ্ঠান ছিল।
জাতিসংঘের সাধারণ বিতর্কে প্রধানমন্ত্রী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিকে ভবিষ্যৎ বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি হিসেবে উল্লেখ করেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, বায়োটেকনোলজি ও আধুনিক প্রযুক্তির অগ্রগতির সুফল যাতে সব দেশের মানুষ পায়, সে বিষয়ে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন।

তিনি প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য আধুনিক প্রযুক্তিতে সাশ্রয়ী প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

নিউইয়র্ক সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশে ফিরে এখন সরকারের নিয়মিত কার্যক্রমে যোগ দেবেন।

সর্বাধিক পঠিত

যশোর-২ আসনের সাবেক এমপি মনিরুলের ১.৮২ কোটি টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের তথ্য পেয়েছে দুদক

জাতিসংঘ অধিবেশন শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

আপডেট: ০৯:৪৭:২১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে যোগদান শেষে নিউইয়র্ক থেকে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপুল জানান, প্রধানমন্ত্রী, তাঁর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান এবং সফরসঙ্গীদের বহনকারী এমিরেটসের ফ্লাইটটি রোববার সকালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। এর আগে প্রধানমন্ত্রী নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে দুবাই হয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন।

নিউইয়র্ক থেকে ফেরার পথে দুবাইয়ে যাত্রাবিরতির পর এমিরেটসের ইকে-৫৮২ ফ্লাইটে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী।
জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনে অংশ নিতে পাঁচ দিনের নিউইয়র্ক সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অগ্রাধিকার তুলে ধরেন।

২৪ সেপ্টেম্বর ইউএনজিএর সাধারণ বিতর্কে বাংলায় দেওয়া ভাষণে তিনি শান্তি, গণতন্ত্র, টেকসই উন্নয়ন, জলবায়ু পরিবর্তন, রোহিঙ্গা সংকট এবং বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রাধিকারসহ বিভিন্ন বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা, অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন, প্রযুক্তি ও মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান এবং মিয়ানমারে তাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনের ওপর গুরুত্ব দেন।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ও উপদেষ্টা মাহদী আমিনের তথ্য অনুযায়ী, নিউইয়র্কে চার দিনের কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রী মোট ৩০টি সরকারি কর্মসূচিতে অংশ নেন।

এর মধ্যে ছিল ইউএনজিএ-সংশ্লিষ্ট আটটি কর্মসূচি, সাধারণ পরিষদের সাইডলাইনে চারটি উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠান এবং ১১টি দ্বিপক্ষীয় বৈঠক। এ ছাড়া বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গেও তিনি বৈঠক করেন।

এসব বৈঠকে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, জনশক্তি রপ্তানি, জ্বালানি নিরাপত্তা, আঞ্চলিক সহযোগিতা, রোহিঙ্গা সংকট, স্বাস্থ্য, জলবায়ু পরিবর্তন ও আন্তর্জাতিক শান্তির বিষয় গুরুত্ব পায়।
প্রধানমন্ত্রীর সফরের বিভিন্ন বৈঠকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্বার্থ, বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।

ইউএনজিএর সাধারণ বিতর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান বিশ্বব্যবস্থায় দেশগুলো পরস্পরের ওপর নির্ভরশীল। আঞ্চলিক বাণিজ্য, কার্যকর যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং অর্থবহ সহযোগিতার মাধ্যমে দেশগুলো পারস্পরিক সমৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখতে পারে।
সফরকালে রোহিঙ্গা সংকটও বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরা হয়। প্রধানমন্ত্রী মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।

একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান এবং জলবায়ু অর্থায়ন, অভিযোজন, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও জলবায়ু ন্যায়বিচারের বিষয়গুলোও আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরা হয়।
প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানও সফরকালে কয়েকটি উচ্চপর্যায়ের কর্মসূচিতে অংশ নেন। এর মধ্যে প্ল্যাটফর্ম অব উইমেন লিডার্স, ফার্স্ট স্পাউসেস’ ডায়ালগ এবং মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্য ও মিডওয়াইফারি বিষয়ক অনুষ্ঠান ছিল।
জাতিসংঘের সাধারণ বিতর্কে প্রধানমন্ত্রী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিকে ভবিষ্যৎ বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি হিসেবে উল্লেখ করেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, বায়োটেকনোলজি ও আধুনিক প্রযুক্তির অগ্রগতির সুফল যাতে সব দেশের মানুষ পায়, সে বিষয়ে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন।

তিনি প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য আধুনিক প্রযুক্তিতে সাশ্রয়ী প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

নিউইয়র্ক সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশে ফিরে এখন সরকারের নিয়মিত কার্যক্রমে যোগ দেবেন।