০২:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

এলজিইডির প্রকৌশলী ফুলকাম বাদশাহর বিরুদ্ধে ২৩৫ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০২:২২:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫০৫

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নরসিংদী জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ ফুলকাম বাদশাহর বিরুদ্ধে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলায় দক্ষিণাঞ্চলের আয়রন ব্রিজ পুনর্নির্মাণ ও পুনর্বাসন প্রকল্পে কাজ সম্পন্ন না করেই বিল উত্তোলনের মাধ্যমে ২৩৫ কোটি ৮৯ লাখ ১৮ হাজার ৩০০ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

এ ছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধান, নরসিংদীতে বদলি আদেশ বাতিল এবং বিভিন্ন উন্নয়নকাজে ঘুষ ও কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগও সামনে এসেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এবং অভিযোগগুলোর স্বাধীন সত্যতা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ফুলকাম বাদশাহ একসময় পিরোজপুর জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তী সময়ে তিনি দক্ষিণাঞ্চলের আয়রন ব্রিজ পুনর্নির্মাণ ও পুনর্বাসন প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী এবং প্রকল্প পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২১ সালের ৩০ মে থেকে ২০২৩ সালের ৩ জুলাই পর্যন্ত তিনি প্রকল্পটির নির্বাহী প্রকৌশলী ছিলেন। একই প্রতিবেদনে ২০২৩ সালের ৩ মে থেকে ৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রকল্প পরিচালকের দায়িত্ব পালনের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।

ভান্ডারিয়া উপজেলায় আয়রন ব্রিজ পুনর্নির্মাণ ও পুনর্বাসন প্রকল্পের বিভিন্ন প্যাকেজের কাজ বাস্তবায়ন না করেই বিল উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে।

প্রকাশিত তদন্ত প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ১২৫টি প্যাকেজসহ মোট ১২৮টি প্যাকেজের বিপরীতে কাজ না করেই বিলের মাধ্যমে ২৩৫ কোটি ৮৯ লাখ ১৮ হাজার ৩০০ টাকা উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে।

এসব অর্থের প্রকৃত ব্যবহার, প্রকল্পের বাস্তব অগ্রগতি এবং বিল উত্তোলনের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে প্রকল্পের কার্যাদেশ, বিল-ভাউচার, পরিমাপ বই, ঠিকাদারি নথি ও মাঠপর্যায়ের কাজের সঙ্গে সরকারি অর্থ ছাড়ের হিসাব মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে পিরোজপুরের কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম ও সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ফুলকাম বাদশাহর বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধানের তথ্য বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। তবে অনুসন্ধানের বর্তমান অবস্থা, কোনো মামলা হয়েছে কি না কিংবা কমিশনের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত কী—তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

অভিযোগের মধ্যেই ফুলকাম বাদশাহ বর্তমানে নরসিংদী জেলার এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

তাঁর বিরুদ্ধে নরসিংদীতে বিভিন্ন উন্নয়নকাজে ঘুষ ও কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগও করেছেন সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ব্যক্তি। তাঁদের দাবি, বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কমিশন আদায়ের মাধ্যমে আর্থিক সুবিধা নেওয়া হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা নথি বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সম্প্রতি নরসিংদী থেকে এলজিইডির সদরদপ্তরে ফুলকাম বাদশাহকে বদলির জন্য প্রধান প্রকৌশলীর স্বাক্ষরে একটি আদেশ জারি হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। পরে ওই আদেশ বাতিল হয়।

বদলি আদেশ বাতিলের কারণ এবং এ সিদ্ধান্তের পেছনে কোনো প্রশাসনিক সুপারিশ বা প্রভাব ছিল কি না, তা নিয়ে এলজিইডির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একাংশের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। তবে আদেশ বাতিলের সঙ্গে কোনো প্রভাবশালী মহলের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

বদলি সংক্রান্ত আরেকটি ঘটনায় জানা গেছে, ২০২৬ সালের ৫ মে জারি করা একটি আদেশে হুমায়ুন কবিরকে নরসিংদীতে বদলি করা হয়েছিল। তবে তিনি সেখানে দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারেননি। পরবর্তী সময়ে ওই বদলি আদেশও বাতিল হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

এ ঘটনায় ফুলকাম বাদশাহর নরসিংদীতে বহাল থাকা এবং বদলি আদেশ বাতিলের প্রশাসনিক প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একাংশ।

তাঁদের দাবি, বদলি আদেশ বাতিলের প্রকৃত কারণ, সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। একই সঙ্গে গুরুতর আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ থাকলে তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।

ফুলকাম বাদশাহর বিরুদ্ধে রাজধানীর তেজগাঁওয়ের মনিপুর পাড়ায় ২ হাজার ১০০ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট কেনার অভিযোগও উঠেছে। তবে ফ্ল্যাটটির মালিকানা, ক্রয়মূল্য এবং অর্থের উৎস সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য নথি পাওয়া যায়নি।

এ ছাড়া তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কিছু অভিযোগ করেছেন এলজিইডির কয়েকজন কর্মকর্তা। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে যাচাইযোগ্য তথ্য না থাকায় সেগুলো নিশ্চিতভাবে উপস্থাপন করা সম্ভব নয়।

অভিযোগকারীদের একাংশ দাবি করেছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার সুবাদে ফুলকাম বাদশাহ বিভিন্ন সুবিধা পেয়েছেন। তাঁদের বক্তব্যে পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া এলাকার সাবেক সংসদ সদস্য মিরাজ ও মহারাজের নামও এসেছে। তবে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার এসব দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।

ফুলকাম বাদশাহর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের প্রকৃত সত্য উদঘাটনে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের নথিপত্র যাচাই, মাঠপর্যায়ে কাজ পরিদর্শন এবং সরকারি অর্থ উত্তোলনের হিসাব পরীক্ষা করার দাবি জানিয়েছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটি অংশ।

তাঁদের মতে, প্রকল্পে কাজ না করেই বিপুল অর্থ উত্তোলনের অভিযোগ সত্য হলে তা সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে গুরুতর অনিয়ম। তাই অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

এ বিষয়ে মোহাম্মদ ফুলকাম বাদশাহর বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। ফলে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

সব মিলিয়ে ভান্ডারিয়ার আয়রন ব্রিজ প্রকল্পে ২৩৫ কোটি ৮৯ লাখ ১৮ হাজার ৩০০ টাকা উত্তোলনের অভিযোগ, দুদকের অনুসন্ধানের বর্তমান অবস্থা এবং নরসিংদীতে বদলি আদেশ বাতিলের প্রকৃত কারণ—এসব বিষয় এখনো স্পষ্ট নয়। সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই ও কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের মাধ্যমে অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

সর্বাধিক পঠিত

গৌতম রায়কে শাহীন চাকলাদারের ‘দেখে নেওয়ার’ হুমকির অভিযো

এলজিইডির প্রকৌশলী ফুলকাম বাদশাহর বিরুদ্ধে ২৩৫ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

আপডেট: ০২:২২:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নরসিংদী জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ ফুলকাম বাদশাহর বিরুদ্ধে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলায় দক্ষিণাঞ্চলের আয়রন ব্রিজ পুনর্নির্মাণ ও পুনর্বাসন প্রকল্পে কাজ সম্পন্ন না করেই বিল উত্তোলনের মাধ্যমে ২৩৫ কোটি ৮৯ লাখ ১৮ হাজার ৩০০ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

এ ছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধান, নরসিংদীতে বদলি আদেশ বাতিল এবং বিভিন্ন উন্নয়নকাজে ঘুষ ও কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগও সামনে এসেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এবং অভিযোগগুলোর স্বাধীন সত্যতা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ফুলকাম বাদশাহ একসময় পিরোজপুর জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তী সময়ে তিনি দক্ষিণাঞ্চলের আয়রন ব্রিজ পুনর্নির্মাণ ও পুনর্বাসন প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী এবং প্রকল্প পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২১ সালের ৩০ মে থেকে ২০২৩ সালের ৩ জুলাই পর্যন্ত তিনি প্রকল্পটির নির্বাহী প্রকৌশলী ছিলেন। একই প্রতিবেদনে ২০২৩ সালের ৩ মে থেকে ৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রকল্প পরিচালকের দায়িত্ব পালনের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।

ভান্ডারিয়া উপজেলায় আয়রন ব্রিজ পুনর্নির্মাণ ও পুনর্বাসন প্রকল্পের বিভিন্ন প্যাকেজের কাজ বাস্তবায়ন না করেই বিল উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে।

প্রকাশিত তদন্ত প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ১২৫টি প্যাকেজসহ মোট ১২৮টি প্যাকেজের বিপরীতে কাজ না করেই বিলের মাধ্যমে ২৩৫ কোটি ৮৯ লাখ ১৮ হাজার ৩০০ টাকা উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে।

এসব অর্থের প্রকৃত ব্যবহার, প্রকল্পের বাস্তব অগ্রগতি এবং বিল উত্তোলনের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে প্রকল্পের কার্যাদেশ, বিল-ভাউচার, পরিমাপ বই, ঠিকাদারি নথি ও মাঠপর্যায়ের কাজের সঙ্গে সরকারি অর্থ ছাড়ের হিসাব মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে পিরোজপুরের কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম ও সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ফুলকাম বাদশাহর বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধানের তথ্য বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। তবে অনুসন্ধানের বর্তমান অবস্থা, কোনো মামলা হয়েছে কি না কিংবা কমিশনের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত কী—তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

অভিযোগের মধ্যেই ফুলকাম বাদশাহ বর্তমানে নরসিংদী জেলার এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

তাঁর বিরুদ্ধে নরসিংদীতে বিভিন্ন উন্নয়নকাজে ঘুষ ও কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগও করেছেন সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ব্যক্তি। তাঁদের দাবি, বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কমিশন আদায়ের মাধ্যমে আর্থিক সুবিধা নেওয়া হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা নথি বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সম্প্রতি নরসিংদী থেকে এলজিইডির সদরদপ্তরে ফুলকাম বাদশাহকে বদলির জন্য প্রধান প্রকৌশলীর স্বাক্ষরে একটি আদেশ জারি হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। পরে ওই আদেশ বাতিল হয়।

বদলি আদেশ বাতিলের কারণ এবং এ সিদ্ধান্তের পেছনে কোনো প্রশাসনিক সুপারিশ বা প্রভাব ছিল কি না, তা নিয়ে এলজিইডির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একাংশের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। তবে আদেশ বাতিলের সঙ্গে কোনো প্রভাবশালী মহলের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

বদলি সংক্রান্ত আরেকটি ঘটনায় জানা গেছে, ২০২৬ সালের ৫ মে জারি করা একটি আদেশে হুমায়ুন কবিরকে নরসিংদীতে বদলি করা হয়েছিল। তবে তিনি সেখানে দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারেননি। পরবর্তী সময়ে ওই বদলি আদেশও বাতিল হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

এ ঘটনায় ফুলকাম বাদশাহর নরসিংদীতে বহাল থাকা এবং বদলি আদেশ বাতিলের প্রশাসনিক প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একাংশ।

তাঁদের দাবি, বদলি আদেশ বাতিলের প্রকৃত কারণ, সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। একই সঙ্গে গুরুতর আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ থাকলে তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।

ফুলকাম বাদশাহর বিরুদ্ধে রাজধানীর তেজগাঁওয়ের মনিপুর পাড়ায় ২ হাজার ১০০ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট কেনার অভিযোগও উঠেছে। তবে ফ্ল্যাটটির মালিকানা, ক্রয়মূল্য এবং অর্থের উৎস সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য নথি পাওয়া যায়নি।

এ ছাড়া তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কিছু অভিযোগ করেছেন এলজিইডির কয়েকজন কর্মকর্তা। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে যাচাইযোগ্য তথ্য না থাকায় সেগুলো নিশ্চিতভাবে উপস্থাপন করা সম্ভব নয়।

অভিযোগকারীদের একাংশ দাবি করেছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার সুবাদে ফুলকাম বাদশাহ বিভিন্ন সুবিধা পেয়েছেন। তাঁদের বক্তব্যে পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া এলাকার সাবেক সংসদ সদস্য মিরাজ ও মহারাজের নামও এসেছে। তবে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার এসব দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।

ফুলকাম বাদশাহর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের প্রকৃত সত্য উদঘাটনে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের নথিপত্র যাচাই, মাঠপর্যায়ে কাজ পরিদর্শন এবং সরকারি অর্থ উত্তোলনের হিসাব পরীক্ষা করার দাবি জানিয়েছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটি অংশ।

তাঁদের মতে, প্রকল্পে কাজ না করেই বিপুল অর্থ উত্তোলনের অভিযোগ সত্য হলে তা সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে গুরুতর অনিয়ম। তাই অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

এ বিষয়ে মোহাম্মদ ফুলকাম বাদশাহর বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। ফলে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

সব মিলিয়ে ভান্ডারিয়ার আয়রন ব্রিজ প্রকল্পে ২৩৫ কোটি ৮৯ লাখ ১৮ হাজার ৩০০ টাকা উত্তোলনের অভিযোগ, দুদকের অনুসন্ধানের বর্তমান অবস্থা এবং নরসিংদীতে বদলি আদেশ বাতিলের প্রকৃত কারণ—এসব বিষয় এখনো স্পষ্ট নয়। সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই ও কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের মাধ্যমে অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণ করা প্রয়োজন।