০২:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পবিপ্রবির নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে বিধিমালা লঙ্ঘন ও অনিয়মের অভিযোগ

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০২:১৫:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫০৮

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) প্রকৌশল বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী (সিভিল) হাসান মাহমুদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধিমালা লঙ্ঘন, অনুমোদন ছাড়া অন্য প্রতিষ্ঠান থেকে ডিগ্রি অর্জন এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে পদোন্নতি নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

সরকারি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের নথিপত্র পর্যালোচনার দাবি করে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০১৩ সালে উপ-সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) পদে কর্মরত থাকার সময় হাসান মাহমুদ ইনস্টিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইইবি)-এর আওতাধীন এএমআইই (AMIE) কোর্সে ভর্তি ও অধ্যয়নের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেন। কর্তৃপক্ষ তাকে অনুমতিও দেয়।

তবে অভিযোগ রয়েছে, অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানে ভর্তি না হয়ে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্বানুমতি ছাড়াই ‘গ্লোবাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ’ থেকে বিএসসি ইন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি অর্জন করেন।

এ ঘটনায় ২০২২ সালের ২৪ নভেম্বর পবিপ্রবির রেজিস্ট্রার কার্যালয় থেকে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। নোটিশে অনুমতি ছাড়া অন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রি অর্জনের বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারী সাধারণ আচরণ ও শৃঙ্খলা বিধির পরিপন্থী বলে উল্লেখ করা হয়।

পরবর্তীতে ৩০ নভেম্বর দেওয়া লিখিত জবাবে হাসান মাহমুদ অনুমতি ছাড়া অন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রি অর্জনের বিষয়টি স্বীকার করে নিজের ভুলের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নোটশিটেও তার অর্জিত বিএসসি ডিগ্রির ক্ষেত্রে পূর্বানুমতি না থাকার বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। একই সঙ্গে পদোন্নতির ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় চাকরির মেয়াদ পূর্ণ হয়েছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।

অভিযোগ রয়েছে, তৎকালীন রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে এসব অনিয়মের বিষয় প্রশাসনিকভাবে নিষ্পত্তি না করেই তাকে পদোন্নতি দেওয়া হয়। তবে রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

নথি অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ২২ মার্চ জারি করা এক অফিস আদেশে হাসান মাহমুদকে ‘সহকারী প্রকৌশলী’ থেকে ‘নির্বাহী প্রকৌশলী (সিভিল)’ পদে পদোন্নতি দিয়ে পদায়ন করা হয়। ওই পদোন্নতি ২০২২ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ভূতাপেক্ষভাবে কার্যকর দেখানো হয়েছে।

এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি। তাদের মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগের পাশাপাশি পদোন্নতির প্রক্রিয়াটিও তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

অভিযোগের বিষয়ে পবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস. এম. হেমায়েত জাহানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি বলেন, “এ বিষয়টি আমার জানা নেই।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মোহাম্মদ জামাল হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমি বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছি।” পদোন্নতিতে অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে তিনিও কোনো মন্তব্য করেননি।

অভিযুক্ত নির্বাহী প্রকৌশলী হাসান মাহমুদের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পরে খুদে বার্তার মাধ্যমে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলেও তাঁর পক্ষ থেকে কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।

সর্বাধিক পঠিত

কাস্টমস কর্মকর্তা শারমিনের বিরুদ্ধে অনুমতি ছাড়া বিদেশ ভ্রমণ ও অর্থ পাচারের অভিযোগ

পবিপ্রবির নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে বিধিমালা লঙ্ঘন ও অনিয়মের অভিযোগ

আপডেট: ০২:১৫:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) প্রকৌশল বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী (সিভিল) হাসান মাহমুদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধিমালা লঙ্ঘন, অনুমোদন ছাড়া অন্য প্রতিষ্ঠান থেকে ডিগ্রি অর্জন এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে পদোন্নতি নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

সরকারি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের নথিপত্র পর্যালোচনার দাবি করে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০১৩ সালে উপ-সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) পদে কর্মরত থাকার সময় হাসান মাহমুদ ইনস্টিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইইবি)-এর আওতাধীন এএমআইই (AMIE) কোর্সে ভর্তি ও অধ্যয়নের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেন। কর্তৃপক্ষ তাকে অনুমতিও দেয়।

তবে অভিযোগ রয়েছে, অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানে ভর্তি না হয়ে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্বানুমতি ছাড়াই ‘গ্লোবাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ’ থেকে বিএসসি ইন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি অর্জন করেন।

এ ঘটনায় ২০২২ সালের ২৪ নভেম্বর পবিপ্রবির রেজিস্ট্রার কার্যালয় থেকে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। নোটিশে অনুমতি ছাড়া অন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রি অর্জনের বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারী সাধারণ আচরণ ও শৃঙ্খলা বিধির পরিপন্থী বলে উল্লেখ করা হয়।

পরবর্তীতে ৩০ নভেম্বর দেওয়া লিখিত জবাবে হাসান মাহমুদ অনুমতি ছাড়া অন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রি অর্জনের বিষয়টি স্বীকার করে নিজের ভুলের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নোটশিটেও তার অর্জিত বিএসসি ডিগ্রির ক্ষেত্রে পূর্বানুমতি না থাকার বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। একই সঙ্গে পদোন্নতির ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় চাকরির মেয়াদ পূর্ণ হয়েছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।

অভিযোগ রয়েছে, তৎকালীন রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে এসব অনিয়মের বিষয় প্রশাসনিকভাবে নিষ্পত্তি না করেই তাকে পদোন্নতি দেওয়া হয়। তবে রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

নথি অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ২২ মার্চ জারি করা এক অফিস আদেশে হাসান মাহমুদকে ‘সহকারী প্রকৌশলী’ থেকে ‘নির্বাহী প্রকৌশলী (সিভিল)’ পদে পদোন্নতি দিয়ে পদায়ন করা হয়। ওই পদোন্নতি ২০২২ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ভূতাপেক্ষভাবে কার্যকর দেখানো হয়েছে।

এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি। তাদের মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগের পাশাপাশি পদোন্নতির প্রক্রিয়াটিও তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

অভিযোগের বিষয়ে পবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস. এম. হেমায়েত জাহানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি বলেন, “এ বিষয়টি আমার জানা নেই।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মোহাম্মদ জামাল হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমি বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছি।” পদোন্নতিতে অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে তিনিও কোনো মন্তব্য করেননি।

অভিযুক্ত নির্বাহী প্রকৌশলী হাসান মাহমুদের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পরে খুদে বার্তার মাধ্যমে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলেও তাঁর পক্ষ থেকে কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।