০৭:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শিল্পকলার কর্মকর্তা শামীম আকতারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি-জালিয়াতির অভিযোগ

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৭:৫৫:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫০৭

পুরোনো নথিতে আর্থিক অনিয়ম, প্রশাসনিক জালিয়াতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ; তদন্তে নির্দোষ দাবি কর্মকর্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সহকারী পরিচালক এস এম শামীম আকতারের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম, দাপ্তরিক জালিয়াতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের একাধিক অভিযোগ উঠেছে। ২০১২ সাল থেকে বিভিন্ন সময়ে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগের পক্ষে বেশ কিছু দাপ্তরিক নথি থাকার দাবি করা হয়েছে।

দাপ্তরিক নথিপত্র পর্যালোচনার বরাতে জানা যায়, রাজশাহী ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী কালচারাল একাডেমিতে দায়িত্ব পালনকালে শামীম আকতারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রকল্পের অর্থ ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। ২০১২ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জন্য বরাদ্দ ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা, বিভিন্ন প্রকল্পের ১৯ লাখ ৯০ হাজার টাকা এবং ‘দেশজ সংস্কৃতির বিকাশ’ প্রকল্পের ৯ লাখ ৬০ হাজার টাকা নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ করা হয়েছে।

এ ছাড়া দরিদ্র শিল্পীদের সম্মানী পরিশোধে বিলম্ব, গবেষণা তহবিল ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম এবং গবেষণামূলক প্রকাশনার লেখকত্ব নিয়ে বিরোধের অভিযোগও রয়েছে। এসব বিষয়ে একাডেমির গবেষণা কর্মকর্তা বেনজামিন টুডু তৎকালীন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছিলেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

শামীম আকতারের বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালনকালে নিয়মিত অফিসে উপস্থিত না থাকা এবং হাজিরা সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগও রয়েছে। এমনকি উপপরিচালকের চলতি দায়িত্বে থেকেও সহকারী পরিচালকের হাজিরা খাতায় স্বাক্ষরের মতো প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ রয়েছে, ২০১৭ সালে তাঁকে রাজশাহী থেকে প্রত্যাহার করা হলেও পরবর্তীতে তিনি আবার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে বহাল হন। এরপর গবেষণা ও প্রকাশনা বিভাগের উপপরিচালক (চলতি দায়িত্ব) হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

এদিকে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পদের উৎস নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা। রাজধানীতে একাধিক ফ্ল্যাট, প্লট, এফডিআর ও ব্যক্তিগত গাড়ির মালিকানার তথ্য উল্লেখ করে এসব সম্পদের বৈধ উৎস নিয়ে তদন্তের দাবি উঠেছে।

এ ছাড়া রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে বিভিন্ন সময়ে সুবিধা নেওয়া, প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার মাধ্যমে অভিযোগ থেকে রক্ষা পাওয়া এবং ব্যক্তিগত জীবনে অনৈতিক আচরণের অভিযোগও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সবকটির স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

সরকার পরিবর্তনের পর শামীম আকতার নতুন রাজনৈতিক পরিচয়ে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। নিজের বাড়ি সিরাজগঞ্জে হলেও বগুড়ার পরিচয় ব্যবহার এবং রাজনৈতিক নেতাদের নাম ভাঙিয়ে সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

অভিযোগের বিষয়ে শামীম আকতার দাবি করেন, তিনি সংশ্লিষ্ট তদন্তে নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছেন। তবে এ দাবির সমর্থনে তিনি কোনো দাপ্তরিক আদেশ বা নথি দেখাতে পারেননি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে তাঁর এক ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি প্রতিবেদকের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলার সময় শামীম আকতারকে নিয়ে সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য চাপ ও হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ওই ব্যক্তি শামীমকে বগুড়ার বাসিন্দা এবং রাজনৈতিক নির্দেশে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে দাবি করেন।

২০১৩ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন অভিযোগ ও নথি সামনে আসার পরও শামীম আকতার কীভাবে দায়িত্বে বহাল রয়েছেন, তা নিয়ে শিল্পকলা একাডেমির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একাংশের মধ্যে প্রশ্ন ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের দাবি, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে আর্থিক অনিয়ম বা প্রশাসনিক জালিয়াতির সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

সর্বাধিক পঠিত

শিল্পকলার কর্মকর্তা শামীম আকতারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি-জালিয়াতির অভিযোগ

শিল্পকলার কর্মকর্তা শামীম আকতারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি-জালিয়াতির অভিযোগ

আপডেট: ০৭:৫৫:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পুরোনো নথিতে আর্থিক অনিয়ম, প্রশাসনিক জালিয়াতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ; তদন্তে নির্দোষ দাবি কর্মকর্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সহকারী পরিচালক এস এম শামীম আকতারের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম, দাপ্তরিক জালিয়াতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের একাধিক অভিযোগ উঠেছে। ২০১২ সাল থেকে বিভিন্ন সময়ে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগের পক্ষে বেশ কিছু দাপ্তরিক নথি থাকার দাবি করা হয়েছে।

দাপ্তরিক নথিপত্র পর্যালোচনার বরাতে জানা যায়, রাজশাহী ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী কালচারাল একাডেমিতে দায়িত্ব পালনকালে শামীম আকতারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রকল্পের অর্থ ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। ২০১২ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জন্য বরাদ্দ ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা, বিভিন্ন প্রকল্পের ১৯ লাখ ৯০ হাজার টাকা এবং ‘দেশজ সংস্কৃতির বিকাশ’ প্রকল্পের ৯ লাখ ৬০ হাজার টাকা নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ করা হয়েছে।

এ ছাড়া দরিদ্র শিল্পীদের সম্মানী পরিশোধে বিলম্ব, গবেষণা তহবিল ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম এবং গবেষণামূলক প্রকাশনার লেখকত্ব নিয়ে বিরোধের অভিযোগও রয়েছে। এসব বিষয়ে একাডেমির গবেষণা কর্মকর্তা বেনজামিন টুডু তৎকালীন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছিলেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

শামীম আকতারের বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালনকালে নিয়মিত অফিসে উপস্থিত না থাকা এবং হাজিরা সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগও রয়েছে। এমনকি উপপরিচালকের চলতি দায়িত্বে থেকেও সহকারী পরিচালকের হাজিরা খাতায় স্বাক্ষরের মতো প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ রয়েছে, ২০১৭ সালে তাঁকে রাজশাহী থেকে প্রত্যাহার করা হলেও পরবর্তীতে তিনি আবার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে বহাল হন। এরপর গবেষণা ও প্রকাশনা বিভাগের উপপরিচালক (চলতি দায়িত্ব) হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

এদিকে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পদের উৎস নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা। রাজধানীতে একাধিক ফ্ল্যাট, প্লট, এফডিআর ও ব্যক্তিগত গাড়ির মালিকানার তথ্য উল্লেখ করে এসব সম্পদের বৈধ উৎস নিয়ে তদন্তের দাবি উঠেছে।

এ ছাড়া রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে বিভিন্ন সময়ে সুবিধা নেওয়া, প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার মাধ্যমে অভিযোগ থেকে রক্ষা পাওয়া এবং ব্যক্তিগত জীবনে অনৈতিক আচরণের অভিযোগও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সবকটির স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

সরকার পরিবর্তনের পর শামীম আকতার নতুন রাজনৈতিক পরিচয়ে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। নিজের বাড়ি সিরাজগঞ্জে হলেও বগুড়ার পরিচয় ব্যবহার এবং রাজনৈতিক নেতাদের নাম ভাঙিয়ে সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

অভিযোগের বিষয়ে শামীম আকতার দাবি করেন, তিনি সংশ্লিষ্ট তদন্তে নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছেন। তবে এ দাবির সমর্থনে তিনি কোনো দাপ্তরিক আদেশ বা নথি দেখাতে পারেননি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে তাঁর এক ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি প্রতিবেদকের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলার সময় শামীম আকতারকে নিয়ে সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য চাপ ও হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ওই ব্যক্তি শামীমকে বগুড়ার বাসিন্দা এবং রাজনৈতিক নির্দেশে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে দাবি করেন।

২০১৩ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন অভিযোগ ও নথি সামনে আসার পরও শামীম আকতার কীভাবে দায়িত্বে বহাল রয়েছেন, তা নিয়ে শিল্পকলা একাডেমির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একাংশের মধ্যে প্রশ্ন ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের দাবি, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে আর্থিক অনিয়ম বা প্রশাসনিক জালিয়াতির সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।