: ঢাকার ডেমরা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম, দুর্নীতি ও একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্টদের দাবি, অফিস সহকারী তুহিন ও নকলনবিশ সাজুকে ঘিরে সেখানে একটি শক্তিশালী চক্র গড়ে উঠেছে। তাদের প্রভাবের কারণে সাধারণ সেবাগ্রহীতারা হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, তুহিন একসময় ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং কসবা এলাকায় তার বাড়ি। তার মা সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করতেন বলেও দাবি করা হচ্ছে। ওই সময়ের রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত যোগাযোগ কাজে লাগিয়ে তুহিন অফিস সহকারী পদে চাকরিতে যোগ দেন—এমন অভিযোগ স্থানীয়দের।
তাদের দাবি, বিভিন্ন রেজিস্ট্রি অফিসে দায়িত্ব পালনের পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তুহিনকে ডেমরা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে পদায়ন করা হয়। সেখানে যোগ দেওয়ার পর তিনি নকলনবিশ সাজুসহ কয়েকজনকে নিয়ে একটি প্রভাবশালী বলয় তৈরি করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
বিএনপির নেতার আত্মীয় পরিচয়ের অভিযোগ
অভিযোগে বলা হয়েছে, তুহিনের পাশাপাশি নকলনবিশ সাজুও অফিসে প্রভাব বিস্তার করেন। স্থানীয়দের ভাষ্য, সাজু নিজেকে বিএনপির এক প্রভাবশালী নেতার আত্মীয় হিসেবে পরিচয় দিয়ে প্রভাব খাটান। তার সঙ্গে স্থানীয় কয়েকজনের ঘনিষ্ঠতার কারণে রেজিস্ট্রি অফিসের কার্যক্রমেও তারা প্রভাব বিস্তার করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নকলনবিশ বলেন, ‘সাজুর অত্যাচারে আমরা শেষ। অফিসে কাজ করতে গেলেই ভয় লাগে।’
তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয়দের দাবি, তুহিন ও সাজুর নামে-বেনামে বাড়ি, গাড়ি ও ফ্ল্যাটসহ বিপুল সম্পদ রয়েছে। এসব সম্পদের বৈধ উৎস নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে তাদের আয়-ব্যয়, সম্পদ বিবরণী ও সংশ্লিষ্ট নথি পর্যালোচনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এ ছাড়া সাজুর বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ ও প্রভাব দেখানোর অভিযোগও রয়েছে। স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, তিনি সাংবাদিকদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করে থাকেন এবং অর্থের প্রভাব দেখিয়ে বিভিন্ন মহলকে নিয়ন্ত্রণের কথা প্রকাশ্যে বলেন।
অভিযোগগুলোর বিষয়ে ডেমরা সাব-রেজিস্ট্রারের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্টদের দাবি, অফিসের অভ্যন্তরীণ প্রভাবের কারণে তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।
এদিকে ডেমরা এলাকার সাধারণ মানুষ রেজিস্ট্রি অফিসে সেবার পরিবেশ স্বাভাবিক করতে জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয় ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, অভিযোগগুলো দ্রুত তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রেজিস্ট্রি অফিসে অনিয়ম ও সেবাগ্রহীতাদের হয়রানির অভিযোগ থাকলে তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি অফিসের সেবা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার উদ্যোগও জরুরি।
অভিযোগের বিষয়ে তুহিন ও সাজুর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হবে।




















