দেশের বিমানবন্দর ও শুল্ক স্টেশনগুলোতে তল্লাশি কার্যক্রম আরও আধুনিক ও কার্যকর করতে ২৯টি অত্যাধুনিক এক্স-রে স্ক্যানার কেনার উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এর মধ্যে ২৩টি ডুয়াল ভিউ ব্যাগেজ স্ক্যানার এবং ছয়টি ডুয়াল ভিউ প্যালেট কার্গো স্ক্যানার রয়েছে।
চোরাচালান ও রাজস্ব ফাঁকি ঠেকানোর পাশাপাশি দেশের আন্তর্জাতিক প্রবেশপথগুলোতে দ্রুত ও সহজ শুল্কায়ন নিশ্চিত করতে এসব স্ক্যানার কেনা হচ্ছে। দুই ধরনের স্ক্যানার সরবরাহ, স্থাপন, কমিশনিং ও পরীক্ষার জন্য ইতোমধ্যে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশের নোটিফিকেশন অব অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়েছে।
এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, ২৯টি স্ক্যানার কেনায় মোট ব্যয় হবে ৫৬ কোটি ২৭ লাখ ১ হাজার ৫০৪ টাকা। স্ক্যানারগুলো সরবরাহ ও স্থাপনের দায়িত্ব পেয়েছে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান আপডেট অ্যাভিয়েশন লিমিটেড।
গত ২৭ আগস্ট এনবিআরের কাস্টমস আধুনিকায়ন ও প্রকল্প ব্যবস্থাপনা শাখা থেকে এ বিষয়ে পৃথক দুটি নোটিফিকেশন অব অ্যাওয়ার্ড জারি করা হয়। এতে স্বাক্ষর করেন এনবিআরের সদস্য (কাস্টমস: অডিট, আধুনিকায়ন ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য) ড. মো. আল আমীন প্রামাণিক।
নথি অনুযায়ী, ২৩টি ডুয়াল ভিউ এক্স-রে ব্যাগেজ স্ক্যানার কিনতে ব্যয় হবে ৩২ কোটি ৫৮ লাখ ৯০ হাজার ৭৬৩ টাকা। এ কাজের জন্য ১৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ৩ কোটি ২৫ লাখ ৮৯ হাজার ৭৬ টাকা পারফরম্যান্স সিকিউরিটি জমা দিতে বলা হয়েছে।
অন্যদিকে ছয়টি ডুয়াল ভিউ এক্স-রে প্যালেট কার্গো স্ক্যানারের চুক্তিমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২৩ কোটি ৬৮ লাখ ১০ হাজার ৭৪১ টাকা। এর বিপরীতে পারফরম্যান্স সিকিউরিটি হিসেবে ২ কোটি ৩৬ লাখ ৮১ হাজার ৭৪ টাকা জমা দিতে হবে।
দুটি চুক্তিরই চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের শেষ সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ২৩ সেপ্টেম্বর।
এনবিআরের কর্মকর্তারা জানান, ডুয়াল ভিউ প্রযুক্তির ব্যাগেজ স্ক্যানার চালু হলে যাত্রীদের লাগেজ পরীক্ষা আরও দ্রুত ও সহজ হবে। একই সঙ্গে লাগেজের ভেতরে থাকা সোনা, অবৈধ মুদ্রা ও নিষিদ্ধ বা বেআইনি পণ্য শনাক্ত করা সহজ হবে। এতে বিমানবন্দরে যাত্রীদের অপেক্ষার সময়ও কমে আসবে।
অন্যদিকে প্যালেট কার্গো স্ক্যানারের মাধ্যমে এয়ার কার্গো টার্মিনাল ও আইসিডিতে বড় আকারের বাণিজ্যিক পণ্য প্যাকেট না খুলেই পরীক্ষা করা সম্ভব হবে। এতে কায়িক তল্লাশির প্রয়োজন কমবে এবং শুল্ক ফাঁকির সুযোগও সীমিত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ড. মো. আইনুল ইসলাম বলেন, কাস্টমসে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার আন্তর্জাতিক বাণিজ্যকে আরও গতিশীল করতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। এর মাধ্যমে শুল্ক স্টেশনগুলোর নিরাপত্তা বাড়ার পাশাপাশি পণ্য খালাসে সময় ও ব্যয় কমতে পারে।
তিনি আরও বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর তল্লাশি ব্যবস্থা রাজস্ব ফাঁকি ও চোরাচালান প্রতিরোধে সহায়ক হবে। একই সঙ্গে বাণিজ্যিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা বাড়াতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।




















