০৪:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রেলের মেগা প্রকল্পে হাজার কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ, নজরে পরিচালক আল ফাত্তাহ

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৩:৫৩:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫০১

বাংলাদেশ রেলওয়ের বড় অবকাঠামো প্রকল্প ও ভূমি ব্যবস্থাপনায় ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। যমুনা রেলসেতু, কালুরঘাট রেল-কাম-রোড সেতু এবং সিডিআরপি (CDRP) প্রকল্পের দরপত্র মূল্যায়ন, চুক্তি বাস্তবায়ন ও অর্থ পরিশোধে অনিয়মের পাশাপাশি রেলওয়ের সরকারি জমি দখলের অভিযোগও সামনে এসেছে।

এসব অনিয়মে সরকারের কয়েক হাজার কোটি টাকা আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট নথি ও অডিট আপত্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগের মধ্যে বিশেষভাবে আলোচনায় রয়েছেন যমুনা রেলসেতু প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক আল ফাত্তাহ মো. মাসুদুর রহমান। তাঁর বিরুদ্ধে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধানের আওতায় রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

যমুনা রেলসেতুতে ৩৪ অডিট আপত্তি

যমুনা রেলসেতু নির্মাণ প্রকল্পের বিশেষ নিরীক্ষায় ৩৪টি অডিট আপত্তি তোলা হয়েছে। এসব আপত্তিতে বিপুল অঙ্কের আর্থিক অনিয়মের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

অডিট আপত্তি অনুযায়ী, চুক্তির শর্ত পরিবর্তন করে কাজের পরিমাণ কমানো এবং ইউনিট রেট বাড়িয়ে ঠিকাদারকে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এতে সরকারের সম্ভাব্য আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ১ হাজার ৭২৬ কোটি ৫২ লাখ টাকা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে উচ্চহারে চুক্তি করে ঠিকাদারকে অতিরিক্ত ১ হাজার ২২১ কোটি ৬ লাখ টাকা পরিশোধের অভিযোগও রয়েছে।

এ ছাড়া ব্যবহৃত যন্ত্রপাতির ‘কান্ট্রি অব অরিজিন’ যাচাই না করে ৪০৫ কোটি ৬৮ লাখ টাকা বিল পরিশোধ, ড্রয়িং, ডিজাইন ও বিওকিউ ছাড়াই ১২৭ কোটি ৪৫ লাখ টাকা ব্যয় এবং ক্যাফেটেরিয়া নির্মাণে অস্বাভাবিক ব্যয়ের মাধ্যমে আরও ১১৩ কোটি ৩১ লাখ টাকা ক্ষতির অভিযোগ রয়েছে।

প্রকল্পের জন্য জাপান থেকে আনা বিলাসবহুল কয়েকটি গাড়িরও হদিস পাওয়া যায়নি বলে অডিট-সংশ্লিষ্ট তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে।

কালুরঘাট প্রকল্পে দরপত্র মূল্যায়ন নিয়ে প্রশ্ন

চট্টগ্রামের কালুরঘাট রেল-কাম-রোড সেতু প্রকল্পের দরপত্র মূল্যায়নেও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

প্রকল্পের আন্তর্জাতিক ‘টিম লিডার’ পদে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বিএসসি ডিগ্রি বাধ্যতামূলক থাকলেও ‘স্যামবো-জেভি’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাবিত ব্যক্তির শিক্ষাগত যোগ্যতা ছিল কৃষি প্রকৌশলে বিএসসি।

অভিযোগকারীদের দাবি, দরপত্র জমা দেওয়ার পর কোনো দরদাতার মৌলিক যোগ্যতার ঘাটতি সংশোধনের সুযোগ নেই। তবে নথি অনুযায়ী, মূল্যায়ন কমিটির চেয়ারম্যান আল ফাত্তাহ মো. মাসুদুর রহমান ৩ আগস্ট ২০২৬ একটি চিঠির মাধ্যমে কৃষি প্রকৌশলের ডিগ্রিকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সমমান হিসেবে বিবেচনা করা যায় কি না, তা জানতে চেয়েছেন।

এ ঘটনায় এক দরদাতা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগও করেছেন বলে জানা গেছে।

CDRP প্রকল্পে ঠিকাদারের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন

সিডিআরপি প্রকল্পের দরপত্র মূল্যায়নে ম্যাক্স নেতৃত্বাধীন কনসোর্টিয়ামকে কাজ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

প্রকল্পের শর্ত অনুযায়ী, একাধিক চুক্তি একসঙ্গে পেতে দরদাতার নির্ধারিত আর্থিক ও কারিগরি সক্ষমতা থাকা প্রয়োজন। অভিযোগ অনুযায়ী, দুটি চুক্তি একসঙ্গে পেতে বার্ষিক নির্মাণ টার্নওভার ২২০ মিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হলেও ম্যাক্সের টার্নওভার ২০৮ দশমিক ১৭ মিলিয়ন ডলার।

অভিযোগকারীদের দাবি, নির্ধারিত সক্ষমতার ঘাটতি থাকা সত্ত্বেও প্রতিষ্ঠানটিকে দুটি কাজ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে অন্যান্য দরদাতার তুলনামূলক ছোট ঘাটতির কারণে তাদের ‘নন-রেসপন্সিভ’ ঘোষণা করা হলেও ম্যাক্সের ক্ষেত্রে ভিন্ন অবস্থান নেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

খসড়া নথিতে ম্যাক্সকে কাজ দিলে প্রায় ১৪৬ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে—এমন যুক্তি দেখিয়ে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) সম্মতি চাওয়ার প্রস্তাব রয়েছে বলে জানা গেছে।

রেলের জমিতে ৫৬০টির বেশি দোকানের অভিযোগ

মেগা প্রকল্পের পাশাপাশি রেলওয়ের জমি ব্যবস্থাপনাতেও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। রাজধানীর খিলগাঁও এলাকায় রেলওয়ের বিপুল মূল্যের জমিতে ৫৬০টির বেশি স্থায়ী দোকান নির্মাণ করে ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের দাবি, রেলওয়ের জমি ও সীমানা রক্ষা এবং অবৈধ দখল প্রতিরোধে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা এসব স্থাপনা উচ্ছেদে কার্যকর পদক্ষেপ নেননি।

স্থানীয়দের কেউ কেউ অভিযোগ করেছেন, প্রভাবশালী মহলের ছত্রচ্ছায়ায় এসব স্থাপনা গড়ে উঠেছে। এমনকি রেল কর্মকর্তাদের নিয়মিত অর্থ দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

আল ফাত্তাহর বক্তব্য পাওয়া যায়নি

এসব অভিযোগের বিষয়ে রেলওয়ের এডিজি-১ ও যমুনা রেলসেতু প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক আল ফাত্তাহ মো. মাসুদুর রহমানের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পরবর্তীতেও তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

‘সুনির্দিষ্ট তথ্য পেলে ব্যবস্থা’

রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, রেলওয়ের দুর্নীতির বিষয়টি সরকার অবগত। কোনো নির্দিষ্ট অভিযোগ বা সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেলে তা যাচাই করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রেলওয়ের বড় অবকাঠামো প্রকল্পে বিপুল অঙ্কের অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় অডিট আপত্তি, দরপত্র মূল্যায়ন, ঠিকাদারদের আর্থিক সক্ষমতা এবং অর্থ পরিশোধের নথি স্বাধীনভাবে যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

তাঁদের মতে, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি প্রকল্পের নির্মাণমান ও বাস্তবায়ন সময়সূচিও ঝুঁকিতে পড়তে পারে। তাই অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের চিহ্নিত এবং প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

সর্বাধিক পঠিত

রেলের মেগা প্রকল্পে হাজার কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ, নজরে পরিচালক আল ফাত্তাহ

রেলের মেগা প্রকল্পে হাজার কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ, নজরে পরিচালক আল ফাত্তাহ

আপডেট: ০৩:৫৩:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাংলাদেশ রেলওয়ের বড় অবকাঠামো প্রকল্প ও ভূমি ব্যবস্থাপনায় ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। যমুনা রেলসেতু, কালুরঘাট রেল-কাম-রোড সেতু এবং সিডিআরপি (CDRP) প্রকল্পের দরপত্র মূল্যায়ন, চুক্তি বাস্তবায়ন ও অর্থ পরিশোধে অনিয়মের পাশাপাশি রেলওয়ের সরকারি জমি দখলের অভিযোগও সামনে এসেছে।

এসব অনিয়মে সরকারের কয়েক হাজার কোটি টাকা আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট নথি ও অডিট আপত্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগের মধ্যে বিশেষভাবে আলোচনায় রয়েছেন যমুনা রেলসেতু প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক আল ফাত্তাহ মো. মাসুদুর রহমান। তাঁর বিরুদ্ধে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধানের আওতায় রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

যমুনা রেলসেতুতে ৩৪ অডিট আপত্তি

যমুনা রেলসেতু নির্মাণ প্রকল্পের বিশেষ নিরীক্ষায় ৩৪টি অডিট আপত্তি তোলা হয়েছে। এসব আপত্তিতে বিপুল অঙ্কের আর্থিক অনিয়মের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

অডিট আপত্তি অনুযায়ী, চুক্তির শর্ত পরিবর্তন করে কাজের পরিমাণ কমানো এবং ইউনিট রেট বাড়িয়ে ঠিকাদারকে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এতে সরকারের সম্ভাব্য আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ১ হাজার ৭২৬ কোটি ৫২ লাখ টাকা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে উচ্চহারে চুক্তি করে ঠিকাদারকে অতিরিক্ত ১ হাজার ২২১ কোটি ৬ লাখ টাকা পরিশোধের অভিযোগও রয়েছে।

এ ছাড়া ব্যবহৃত যন্ত্রপাতির ‘কান্ট্রি অব অরিজিন’ যাচাই না করে ৪০৫ কোটি ৬৮ লাখ টাকা বিল পরিশোধ, ড্রয়িং, ডিজাইন ও বিওকিউ ছাড়াই ১২৭ কোটি ৪৫ লাখ টাকা ব্যয় এবং ক্যাফেটেরিয়া নির্মাণে অস্বাভাবিক ব্যয়ের মাধ্যমে আরও ১১৩ কোটি ৩১ লাখ টাকা ক্ষতির অভিযোগ রয়েছে।

প্রকল্পের জন্য জাপান থেকে আনা বিলাসবহুল কয়েকটি গাড়িরও হদিস পাওয়া যায়নি বলে অডিট-সংশ্লিষ্ট তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে।

কালুরঘাট প্রকল্পে দরপত্র মূল্যায়ন নিয়ে প্রশ্ন

চট্টগ্রামের কালুরঘাট রেল-কাম-রোড সেতু প্রকল্পের দরপত্র মূল্যায়নেও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

প্রকল্পের আন্তর্জাতিক ‘টিম লিডার’ পদে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বিএসসি ডিগ্রি বাধ্যতামূলক থাকলেও ‘স্যামবো-জেভি’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাবিত ব্যক্তির শিক্ষাগত যোগ্যতা ছিল কৃষি প্রকৌশলে বিএসসি।

অভিযোগকারীদের দাবি, দরপত্র জমা দেওয়ার পর কোনো দরদাতার মৌলিক যোগ্যতার ঘাটতি সংশোধনের সুযোগ নেই। তবে নথি অনুযায়ী, মূল্যায়ন কমিটির চেয়ারম্যান আল ফাত্তাহ মো. মাসুদুর রহমান ৩ আগস্ট ২০২৬ একটি চিঠির মাধ্যমে কৃষি প্রকৌশলের ডিগ্রিকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সমমান হিসেবে বিবেচনা করা যায় কি না, তা জানতে চেয়েছেন।

এ ঘটনায় এক দরদাতা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগও করেছেন বলে জানা গেছে।

CDRP প্রকল্পে ঠিকাদারের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন

সিডিআরপি প্রকল্পের দরপত্র মূল্যায়নে ম্যাক্স নেতৃত্বাধীন কনসোর্টিয়ামকে কাজ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

প্রকল্পের শর্ত অনুযায়ী, একাধিক চুক্তি একসঙ্গে পেতে দরদাতার নির্ধারিত আর্থিক ও কারিগরি সক্ষমতা থাকা প্রয়োজন। অভিযোগ অনুযায়ী, দুটি চুক্তি একসঙ্গে পেতে বার্ষিক নির্মাণ টার্নওভার ২২০ মিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হলেও ম্যাক্সের টার্নওভার ২০৮ দশমিক ১৭ মিলিয়ন ডলার।

অভিযোগকারীদের দাবি, নির্ধারিত সক্ষমতার ঘাটতি থাকা সত্ত্বেও প্রতিষ্ঠানটিকে দুটি কাজ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে অন্যান্য দরদাতার তুলনামূলক ছোট ঘাটতির কারণে তাদের ‘নন-রেসপন্সিভ’ ঘোষণা করা হলেও ম্যাক্সের ক্ষেত্রে ভিন্ন অবস্থান নেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

খসড়া নথিতে ম্যাক্সকে কাজ দিলে প্রায় ১৪৬ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে—এমন যুক্তি দেখিয়ে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) সম্মতি চাওয়ার প্রস্তাব রয়েছে বলে জানা গেছে।

রেলের জমিতে ৫৬০টির বেশি দোকানের অভিযোগ

মেগা প্রকল্পের পাশাপাশি রেলওয়ের জমি ব্যবস্থাপনাতেও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। রাজধানীর খিলগাঁও এলাকায় রেলওয়ের বিপুল মূল্যের জমিতে ৫৬০টির বেশি স্থায়ী দোকান নির্মাণ করে ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের দাবি, রেলওয়ের জমি ও সীমানা রক্ষা এবং অবৈধ দখল প্রতিরোধে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা এসব স্থাপনা উচ্ছেদে কার্যকর পদক্ষেপ নেননি।

স্থানীয়দের কেউ কেউ অভিযোগ করেছেন, প্রভাবশালী মহলের ছত্রচ্ছায়ায় এসব স্থাপনা গড়ে উঠেছে। এমনকি রেল কর্মকর্তাদের নিয়মিত অর্থ দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

আল ফাত্তাহর বক্তব্য পাওয়া যায়নি

এসব অভিযোগের বিষয়ে রেলওয়ের এডিজি-১ ও যমুনা রেলসেতু প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক আল ফাত্তাহ মো. মাসুদুর রহমানের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পরবর্তীতেও তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

‘সুনির্দিষ্ট তথ্য পেলে ব্যবস্থা’

রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, রেলওয়ের দুর্নীতির বিষয়টি সরকার অবগত। কোনো নির্দিষ্ট অভিযোগ বা সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেলে তা যাচাই করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রেলওয়ের বড় অবকাঠামো প্রকল্পে বিপুল অঙ্কের অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় অডিট আপত্তি, দরপত্র মূল্যায়ন, ঠিকাদারদের আর্থিক সক্ষমতা এবং অর্থ পরিশোধের নথি স্বাধীনভাবে যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

তাঁদের মতে, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি প্রকল্পের নির্মাণমান ও বাস্তবায়ন সময়সূচিও ঝুঁকিতে পড়তে পারে। তাই অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের চিহ্নিত এবং প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।