১০:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬

ঢাকা কাস্টমসে আব্দুর রাকিব ও ফরিদুজ্জামানের বিরুদ্ধে ৩৩ কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৫:৪০:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫০৭

রাজধানীর ঢাকা কাস্টম হাউসের প্রিভেন্টিভ শাখার দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বন্ধ হয়ে যাওয়া বন্ড প্রতিষ্ঠানের নামে পণ্য খালাস, ৩৩ কোটি টাকার বেশি রাজস্ব ফাঁকি এবং ৮৫ লাখ টাকা ঘুষ দাবির চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন এক সিঅ্যান্ডএফ ব্যবসায়ী।

অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ঢাকা কাস্টম হাউসের প্রিভেন্টিভ শাখার সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা (এআরও) মো. আব্দুর রাকিব এবং রাজস্ব কর্মকর্তা (আরও) ফরিদুজ্জামান।

অভিযোগকারী হলেন এইচ. এম. ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সির স্বত্বাধিকারী ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট লাইসেন্সধারী ব্যবসায়ী মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১১ জুন ২০২৬ দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং ১২ জুন ২০২৬ জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির।

অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, বন্ধ হয়ে যাওয়া কয়েকটি বন্ড প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে শুল্কমুক্ত সুবিধায় বিভিন্ন পণ্য খালাস করা হয়েছে। এতে সরকারের বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগকারীর দাবি।

অভিযোগে সংশ্লিষ্ট তিনটি প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করা হয়েছে—

– এলিয়েন অ্যাপারেলস লিমিটেড (Alien Apparels Ltd)
– ইউরেনাস অ্যাপারেলস (প্রাইভেট) লিমিটেড (Uranus Apparels (Pvt.) Ltd)
– কুইক অ্যাপারেলস লিমিটেড (QUICK APPARELS LIMITED)

মোহাম্মদ হুমায়ুন কবিরের অভিযোগ, তার প্রতিষ্ঠানের এক কর্মচারী কথিত এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত থাকার বিষয়টি জানতে পেরে তিনি অনুসন্ধান শুরু করেন। পরে কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে আসা পণ্যসংক্রান্ত তথ্য অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের নজরে আসে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগকারীর দাবি, এরপর সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মো. আব্দুর রাকিব এবং রাজস্ব কর্মকর্তা ফরিদুজ্জামান ওই কর্মচারীকে ডেকে পাঠান। বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য তার কাছে ৮৫ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

তবে ঘুষ দাবির এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এআরও মো. আব্দুর রাকিব।

অভিযোগে বলা হয়েছে, বন্ধ বন্ড প্রতিষ্ঠানের নামে পণ্য আমদানি ও খালাসের মাধ্যমে সরকারের ৩৩ কোটি টাকার বেশি রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া হয়েছে।

সংগৃহীত নথি ও বিল অব এন্ট্রির তথ্য বিশ্লেষণ করে অভিযোগকারী পক্ষ দাবি করেছে, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর নামে লেস (Lace), ওভেন ফেব্রিক (Woven Fabric), নিট ফেব্রিক, বাটন, জিপার ও রাবার প্যাচসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য আমদানি করা হয়েছে।

এর মধ্যে ইউরেনাস অ্যাপারেলসের নামে ২৮ জানুয়ারি ২০২৬ এবং এর আগের বিভিন্ন তারিখে একাধিক বিল অব এন্ট্রির মাধ্যমে ফেব্রিক স্যাম্পল ও ওভেন ফেব্রিক খালাসের তথ্য পাওয়া গেছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

একইভাবে কুইক অ্যাপারেলস লিমিটেড ও এলিয়েন অ্যাপারেলস লিমিটেডের নাম ব্যবহার করেও বিভিন্ন পণ্য খালাস করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

অভিযোগের সঙ্গে থাকা নথির তথ্য অনুযায়ী, একটি অংশে আমদানিকৃত পণ্যের মোট অ্যাসেসড ভ্যালু বা মূল্যায়ন দেখানো হয়েছে ৪ কোটি ৩০ লাখ ৪৬ হাজার ৬০৭ টাকা।

এর বিপরীতে শুল্ক ফাঁকির পরিমাণ উল্লেখ করা হয়েছে ৩ কোটি ২৩ লাখ ৯ হাজার ৪৮৬ টাকা।

তবে অভিযোগকারীর দাবি, সংশ্লিষ্ট সব চালান ও কার্যক্রম বিবেচনায় সরকারের মোট রাজস্ব ক্ষতির পরিমাণ ৩৩ কোটি টাকার বেশি।

বিল অব এন্ট্রির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে এসব পণ্য আমদানি ও খালাসের তথ্য রয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগকারী মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির আরও দাবি করেছেন, ঢাকা কাস্টম হাউসের প্রিভেন্টিভ শাখায় একটি প্রভাবশালী চক্রের কারণে এ ধরনের কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, মো. আব্দুর রাকিব কাস্টমস কমিশনারের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা (পিএস) হিসেবে দায়িত্ব পালন করায় তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে অন্য কর্মকর্তারা পিছিয়ে যাচ্ছেন।

অন্যদিকে রাজস্ব কর্মকর্তা ফরিদুজ্জামান প্রিভেন্টিভ শাখার ডেপুটি কমিশনার (ডিসি) আমিনুলের ঘনিষ্ঠ হওয়ায় তিনিও প্রভাবশালী অবস্থানে রয়েছেন বলে অভিযোগকারীর দাবি।

তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীন তদন্ত ছাড়া নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

অভিযোগকারী ব্যবসায়ীর দাবি, বন্ধ বন্ড প্রতিষ্ঠানের নামে পণ্য খালাসের ঘটনায় কুরিয়ার সার্ভিস, আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানসহ সংশ্লিষ্ট একাধিক পক্ষের ভূমিকা থাকার কথা থাকলেও কেবল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

তার দাবি, এ ধরনের কর্মকাণ্ডের কারণে সরকার বিপুল রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং নিয়ম মেনে ব্যবসা করা সৎ ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে পড়ছেন।

অভিযোগের অনুলিপি ঢাকা কাস্টম হাউসের কমিশনার এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের গোয়েন্দা শাখা সিআইআইসি (CIIC)-এর মহাপরিচালকের কাছেও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগকারী জানিয়েছেন।

৮৫ লাখ টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগের বিষয়ে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মো. আব্দুর রাকিবের সঙ্গে ‘মাতৃভূমি’র পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগটি অস্বীকার করেন।

তিনি বলেন, “এটা একটা ভুয়া অভিযোগ। আপনি আমার অফিসে আসেন। কফির দাওয়াত রইলো।”

অন্য অভিযুক্ত রাজস্ব কর্মকর্তা ফরিদুজ্জামানের সঙ্গে মন্তব্যের জন্য যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগকারীকে চেনেন না বলে দাবি করে একটি চিঠি পাঠান।

তবে অভিযোগকারী পক্ষের দাবি, ওই চিঠিতে দেওয়া স্বাক্ষরের সঙ্গে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও দুদকে দেওয়া অভিযোগপত্রে মোহাম্মদ হুমায়ুন কবিরের স্বাক্ষরের মিল নেই।

এ বিষয়ে ফরিদুজ্জামানও প্রতিবেদককে তার অফিসে গিয়ে দেখা করার অনুরোধ করেছেন বলে জানা গেছে।

ঢাকা কাস্টম হাউসের দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ওঠা ৩৩ কোটি টাকার বেশি রাজস্ব ফাঁকি ও ৮৫ লাখ টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগ কতটা সত্য, তা এখন নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই হওয়ার বিষয়।

বন্ধ বন্ড প্রতিষ্ঠানের নামে কীভাবে পণ্য খালাস হয়েছে, সংশ্লিষ্ট চালানগুলোতে প্রকৃত আমদানিকারক কারা, রাজস্ব ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ কত এবং ঘুষ দাবির অভিযোগের সত্যতা আছে কি না—এসব বিষয়ে দুদক ও এনবিআরের তদন্তেই প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে।

এখন অভিযোগের বিষয়ে দুদক ও এনবিআর কী ধরনের পদক্ষেপ নেয়, সেটিই সংশ্লিষ্ট মহলের নজরে রয়েছে।

সর্বাধিক পঠিত

যশোরে আওয়ামী লীগের তিন কর্মী আটক

ঢাকা কাস্টমসে আব্দুর রাকিব ও ফরিদুজ্জামানের বিরুদ্ধে ৩৩ কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ

আপডেট: ০৫:৪০:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬

রাজধানীর ঢাকা কাস্টম হাউসের প্রিভেন্টিভ শাখার দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বন্ধ হয়ে যাওয়া বন্ড প্রতিষ্ঠানের নামে পণ্য খালাস, ৩৩ কোটি টাকার বেশি রাজস্ব ফাঁকি এবং ৮৫ লাখ টাকা ঘুষ দাবির চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন এক সিঅ্যান্ডএফ ব্যবসায়ী।

অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ঢাকা কাস্টম হাউসের প্রিভেন্টিভ শাখার সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা (এআরও) মো. আব্দুর রাকিব এবং রাজস্ব কর্মকর্তা (আরও) ফরিদুজ্জামান।

অভিযোগকারী হলেন এইচ. এম. ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সির স্বত্বাধিকারী ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট লাইসেন্সধারী ব্যবসায়ী মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১১ জুন ২০২৬ দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং ১২ জুন ২০২৬ জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির।

অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, বন্ধ হয়ে যাওয়া কয়েকটি বন্ড প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে শুল্কমুক্ত সুবিধায় বিভিন্ন পণ্য খালাস করা হয়েছে। এতে সরকারের বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগকারীর দাবি।

অভিযোগে সংশ্লিষ্ট তিনটি প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করা হয়েছে—

– এলিয়েন অ্যাপারেলস লিমিটেড (Alien Apparels Ltd)
– ইউরেনাস অ্যাপারেলস (প্রাইভেট) লিমিটেড (Uranus Apparels (Pvt.) Ltd)
– কুইক অ্যাপারেলস লিমিটেড (QUICK APPARELS LIMITED)

মোহাম্মদ হুমায়ুন কবিরের অভিযোগ, তার প্রতিষ্ঠানের এক কর্মচারী কথিত এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত থাকার বিষয়টি জানতে পেরে তিনি অনুসন্ধান শুরু করেন। পরে কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে আসা পণ্যসংক্রান্ত তথ্য অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের নজরে আসে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগকারীর দাবি, এরপর সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মো. আব্দুর রাকিব এবং রাজস্ব কর্মকর্তা ফরিদুজ্জামান ওই কর্মচারীকে ডেকে পাঠান। বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য তার কাছে ৮৫ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

তবে ঘুষ দাবির এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এআরও মো. আব্দুর রাকিব।

অভিযোগে বলা হয়েছে, বন্ধ বন্ড প্রতিষ্ঠানের নামে পণ্য আমদানি ও খালাসের মাধ্যমে সরকারের ৩৩ কোটি টাকার বেশি রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া হয়েছে।

সংগৃহীত নথি ও বিল অব এন্ট্রির তথ্য বিশ্লেষণ করে অভিযোগকারী পক্ষ দাবি করেছে, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর নামে লেস (Lace), ওভেন ফেব্রিক (Woven Fabric), নিট ফেব্রিক, বাটন, জিপার ও রাবার প্যাচসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য আমদানি করা হয়েছে।

এর মধ্যে ইউরেনাস অ্যাপারেলসের নামে ২৮ জানুয়ারি ২০২৬ এবং এর আগের বিভিন্ন তারিখে একাধিক বিল অব এন্ট্রির মাধ্যমে ফেব্রিক স্যাম্পল ও ওভেন ফেব্রিক খালাসের তথ্য পাওয়া গেছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

একইভাবে কুইক অ্যাপারেলস লিমিটেড ও এলিয়েন অ্যাপারেলস লিমিটেডের নাম ব্যবহার করেও বিভিন্ন পণ্য খালাস করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

অভিযোগের সঙ্গে থাকা নথির তথ্য অনুযায়ী, একটি অংশে আমদানিকৃত পণ্যের মোট অ্যাসেসড ভ্যালু বা মূল্যায়ন দেখানো হয়েছে ৪ কোটি ৩০ লাখ ৪৬ হাজার ৬০৭ টাকা।

এর বিপরীতে শুল্ক ফাঁকির পরিমাণ উল্লেখ করা হয়েছে ৩ কোটি ২৩ লাখ ৯ হাজার ৪৮৬ টাকা।

তবে অভিযোগকারীর দাবি, সংশ্লিষ্ট সব চালান ও কার্যক্রম বিবেচনায় সরকারের মোট রাজস্ব ক্ষতির পরিমাণ ৩৩ কোটি টাকার বেশি।

বিল অব এন্ট্রির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে এসব পণ্য আমদানি ও খালাসের তথ্য রয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগকারী মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির আরও দাবি করেছেন, ঢাকা কাস্টম হাউসের প্রিভেন্টিভ শাখায় একটি প্রভাবশালী চক্রের কারণে এ ধরনের কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, মো. আব্দুর রাকিব কাস্টমস কমিশনারের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা (পিএস) হিসেবে দায়িত্ব পালন করায় তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে অন্য কর্মকর্তারা পিছিয়ে যাচ্ছেন।

অন্যদিকে রাজস্ব কর্মকর্তা ফরিদুজ্জামান প্রিভেন্টিভ শাখার ডেপুটি কমিশনার (ডিসি) আমিনুলের ঘনিষ্ঠ হওয়ায় তিনিও প্রভাবশালী অবস্থানে রয়েছেন বলে অভিযোগকারীর দাবি।

তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীন তদন্ত ছাড়া নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

অভিযোগকারী ব্যবসায়ীর দাবি, বন্ধ বন্ড প্রতিষ্ঠানের নামে পণ্য খালাসের ঘটনায় কুরিয়ার সার্ভিস, আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানসহ সংশ্লিষ্ট একাধিক পক্ষের ভূমিকা থাকার কথা থাকলেও কেবল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

তার দাবি, এ ধরনের কর্মকাণ্ডের কারণে সরকার বিপুল রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং নিয়ম মেনে ব্যবসা করা সৎ ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে পড়ছেন।

অভিযোগের অনুলিপি ঢাকা কাস্টম হাউসের কমিশনার এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের গোয়েন্দা শাখা সিআইআইসি (CIIC)-এর মহাপরিচালকের কাছেও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগকারী জানিয়েছেন।

৮৫ লাখ টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগের বিষয়ে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মো. আব্দুর রাকিবের সঙ্গে ‘মাতৃভূমি’র পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগটি অস্বীকার করেন।

তিনি বলেন, “এটা একটা ভুয়া অভিযোগ। আপনি আমার অফিসে আসেন। কফির দাওয়াত রইলো।”

অন্য অভিযুক্ত রাজস্ব কর্মকর্তা ফরিদুজ্জামানের সঙ্গে মন্তব্যের জন্য যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগকারীকে চেনেন না বলে দাবি করে একটি চিঠি পাঠান।

তবে অভিযোগকারী পক্ষের দাবি, ওই চিঠিতে দেওয়া স্বাক্ষরের সঙ্গে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও দুদকে দেওয়া অভিযোগপত্রে মোহাম্মদ হুমায়ুন কবিরের স্বাক্ষরের মিল নেই।

এ বিষয়ে ফরিদুজ্জামানও প্রতিবেদককে তার অফিসে গিয়ে দেখা করার অনুরোধ করেছেন বলে জানা গেছে।

ঢাকা কাস্টম হাউসের দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ওঠা ৩৩ কোটি টাকার বেশি রাজস্ব ফাঁকি ও ৮৫ লাখ টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগ কতটা সত্য, তা এখন নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই হওয়ার বিষয়।

বন্ধ বন্ড প্রতিষ্ঠানের নামে কীভাবে পণ্য খালাস হয়েছে, সংশ্লিষ্ট চালানগুলোতে প্রকৃত আমদানিকারক কারা, রাজস্ব ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ কত এবং ঘুষ দাবির অভিযোগের সত্যতা আছে কি না—এসব বিষয়ে দুদক ও এনবিআরের তদন্তেই প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে।

এখন অভিযোগের বিষয়ে দুদক ও এনবিআর কী ধরনের পদক্ষেপ নেয়, সেটিই সংশ্লিষ্ট মহলের নজরে রয়েছে।