১১:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬

এলজিইডিতে পদোন্নতি-বদলি-নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ, আলোচনায় শফিকুর রহমান

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১২:১৮:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫০৯

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রশাসনিক কার্যক্রমে পদোন্নতি, বদলি, পদায়ন ও নিয়োগকে ঘিরে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, মেধা, জ্যেষ্ঠতা ও বিধিমালা অনুসরণের পরিবর্তে কোনো কোনো ক্ষেত্রে অর্থের বিনিময়ে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হয়েছে।

এসব অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে এলজিইডির প্রশাসন শাখার জ্যেষ্ঠ সহকারী প্রকৌশলী শফিকুর রহমানের নাম উঠে এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার করে একটি চক্রের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতি, বদলি ও নিয়োগসংক্রান্ত বিভিন্ন কার্যক্রমে প্রভাব খাটানো হয়েছে।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে শফিকুর রহমানের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এলজিইডির সাম্প্রতিক পদোন্নতি প্রক্রিয়াকে ঘিরে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, প্রায় ১৯৭ জন সহকারী প্রকৌশলীকে নির্বাহী প্রকৌশলী পদে পদোন্নতির প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করার সময় জনপ্রতি ৫ থেকে ৭ লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, অর্থ না দিলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ফাইলের অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখানো হতো।

একইভাবে সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রকৌশলী থেকে সহকারী প্রকৌশলী পদে পদোন্নতির ক্ষেত্রেও প্রায় ১৩৫ কর্মকর্তার কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। সার্ভেয়ার পর্যায়ের পদোন্নতিতেও ৪ থেকে ৭ লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেনের অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো।

এ ছাড়া জ্যেষ্ঠতার ক্রম উপেক্ষা করে অপেক্ষাকৃত কনিষ্ঠ কর্মকর্তাদের সুবিধাজনক অবস্থানে নেওয়ার জন্য কোনো কোনো ক্ষেত্রে ৭ থেকে ৮ লাখ টাকা পর্যন্ত ‘বিশেষ ব্যবস্থা’র অভিযোগও রয়েছে।

এলজিইডিতে বদলি ও পদায়ন নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। অনুসন্ধান-সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, গুরুত্বপূর্ণ বা সুবিধাজনক কর্মস্থলে পদায়নের জন্য কর্মকর্তাদের কাছ থেকে ১০ থেকে ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত দাবি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সূত্রগুলো কয়েকটি পদায়নের উদাহরণও দিয়েছে। তাদের দাবি, সাভারে একটি কাঙ্ক্ষিত পদে পোস্টিংয়ের জন্য প্রায় ১৫ লাখ টাকা এবং জাজিরায় সহকারী প্রকৌশলীর একটি পদে বদলির জন্য ১০ লাখ টাকা লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে।

এ ছাড়া বরিশাল সদর থেকে বাবুগঞ্জ উপজেলায় একজন প্রকৌশলীর পদায়নের ক্ষেত্রেও ৫ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগের পরিধি শুধু বর্তমান প্রশাসনিক কার্যক্রমে সীমাবদ্ধ নয়। সাবেক প্রধান প্রকৌশলী জাবেদ করিমের দায়িত্বকালেও একটি নিয়োগ প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে বড় অঙ্কের অর্থ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ওই নিয়োগকে কেন্দ্র করে প্রায় দেড় কোটি টাকার একটি কথিত সমঝোতা হয়েছিল। ‘আব্দুল ওহাব’ নামে এক ব্যক্তির মাধ্যমে অর্থ লেনদেনের প্রক্রিয়া পরিচালনার অভিযোগও রয়েছে।

সূত্রগুলোর দাবি, কথিত সমঝোতা অনুযায়ী ১ কোটি টাকা তৎকালীন প্রধান প্রকৌশলীর জন্য, ৩০ লাখ টাকা শফিকুর রহমানের জন্য এবং অবশিষ্ট অর্থ সংশ্লিষ্ট অন্যদের মধ্যে বণ্টনের পরিকল্পনা ছিল। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন ও চূড়ান্ত প্রমাণের বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

এলজিইডিতে বিধিমালা উপেক্ষা করে ১২ জন প্রকৌশলীকে পদোন্নতি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, শফিকুর রহমান, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সাইফুল কবির এবং কথিত ওহাব সিন্ডিকেটের প্রভাবে এসব পদোন্নতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

অভিযোগ রয়েছে, ওই পদোন্নতির ফলে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে অতিরিক্ত প্রায় ৫ কোটি টাকা বেতন-ভাতা বাবদ ব্যয়ের সৃষ্টি হয়েছে। একই সময়ে জ্যেষ্ঠতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে পদোন্নতির প্রত্যাশায় থাকা অনেক কর্মকর্তা বঞ্চিত হয়েছেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

শফিকুর রহমানের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে বিপুল সম্পদ অর্জনের অভিযোগও উঠেছে। একাধিক সূত্রের দাবি, প্রশাসনিক ক্ষমতা ও প্রভাব ব্যবহার করে তিনি প্রায় ৩০ কোটি টাকার সম্পদ গড়ে তুলেছেন। এর একটি অংশ বিদেশে পাচারের অভিযোগও রয়েছে।

সিন্ডিকেটের সঙ্গে যুক্ত বলে কথিত ‘সোহেল’ নামে এক ব্যক্তি প্রায় ৫ কোটি টাকা এবং ‘মান্নান’ নামে আরেক ব্যক্তি প্রায় ৫০ লাখ টাকা অর্জন করেছেন বলেও অভিযোগ করেছে সূত্রগুলো।

তবে এসব সম্পদ ও অর্থের উৎস সম্পর্কে কোনো নিরপেক্ষ তদন্ত প্রতিবেদন বা আদালতের সিদ্ধান্তের তথ্য এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।

এলজিইডির অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ নতুন নয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে সংস্থাটির প্রধান প্রকৌশলীকে ঘিরে দুর্নীতির তদন্তের সময়ও শফিকুর রহমানের নাম আলোচনায় আসে।

পরবর্তীতে ২০২৫ সালের এপ্রিলে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উপপরিচালক আজিজুল হকের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি তদন্ত দল এলজিইডির বিভিন্ন অভিযোগ অনুসন্ধান শুরু করে বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে।

সাবেক প্রধান প্রকৌশলী ওয়াহিদুর রহমান, আলী আকতার হোসেনসহ কয়েকজন প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানের সময় শফিকুল ইসলাম ও শফিকুর রহমানকে ঘিরে একটি প্রভাবশালী চক্রের অভিযোগ সামনে আসে বলেও দাবি করা হয়েছে।

অভিযোগ অনুসন্ধানে এলজিইডির পুরোনো নথিপত্রও পর্যালোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। ২০১০ সাল থেকে সংস্থাটিতে নিয়োগ, পদোন্নতি ও বদলিসংক্রান্ত নথি পর্যালোচনার উদ্যোগ নেওয়ার তথ্যও পাওয়া গেছে।

এ ছাড়া প্রায় ১ হাজার ৬০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগের অনুসন্ধানকে কেন্দ্র করে এলজিইডির ৩৬টি কার্যালয়ে একযোগে তল্লাশি চালানোর কথাও জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

তবে এসব অনুসন্ধান ও তৎপরতার পর অভিযুক্ত ব্যক্তি বা সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কী ধরনের চূড়ান্ত প্রশাসনিক কিংবা আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে সুস্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।

পদোন্নতি, বদলি, পদায়ন ও নিয়োগকে ঘিরে ওঠা এসব অভিযোগ সত্য হলে তা শুধু একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ অনিয়মের বিষয় নয়; বরং সরকারি প্রশাসনে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও মেধাভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রেও গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও প্রমাণভিত্তিক তদন্ত প্রয়োজন। বিশেষ করে পদোন্নতি ও বদলির নথি, অর্থ লেনদেনের তথ্য, সম্পদের বিবরণ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া যাচাই করা হলে অভিযোগগুলোর সত্যতা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া সম্ভব।

শফিকুর রহমানের বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

সর্বাধিক পঠিত

ঝিকরগাছায় ১৭ কোটি টাকার কথিত প্লাটিনামের প্রলোভনে ৬৭ লাখ টাকা আত্মসাৎ, আটক ১

এলজিইডিতে পদোন্নতি-বদলি-নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ, আলোচনায় শফিকুর রহমান

আপডেট: ১২:১৮:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রশাসনিক কার্যক্রমে পদোন্নতি, বদলি, পদায়ন ও নিয়োগকে ঘিরে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, মেধা, জ্যেষ্ঠতা ও বিধিমালা অনুসরণের পরিবর্তে কোনো কোনো ক্ষেত্রে অর্থের বিনিময়ে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হয়েছে।

এসব অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে এলজিইডির প্রশাসন শাখার জ্যেষ্ঠ সহকারী প্রকৌশলী শফিকুর রহমানের নাম উঠে এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার করে একটি চক্রের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতি, বদলি ও নিয়োগসংক্রান্ত বিভিন্ন কার্যক্রমে প্রভাব খাটানো হয়েছে।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে শফিকুর রহমানের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এলজিইডির সাম্প্রতিক পদোন্নতি প্রক্রিয়াকে ঘিরে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, প্রায় ১৯৭ জন সহকারী প্রকৌশলীকে নির্বাহী প্রকৌশলী পদে পদোন্নতির প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করার সময় জনপ্রতি ৫ থেকে ৭ লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, অর্থ না দিলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ফাইলের অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখানো হতো।

একইভাবে সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রকৌশলী থেকে সহকারী প্রকৌশলী পদে পদোন্নতির ক্ষেত্রেও প্রায় ১৩৫ কর্মকর্তার কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। সার্ভেয়ার পর্যায়ের পদোন্নতিতেও ৪ থেকে ৭ লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেনের অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো।

এ ছাড়া জ্যেষ্ঠতার ক্রম উপেক্ষা করে অপেক্ষাকৃত কনিষ্ঠ কর্মকর্তাদের সুবিধাজনক অবস্থানে নেওয়ার জন্য কোনো কোনো ক্ষেত্রে ৭ থেকে ৮ লাখ টাকা পর্যন্ত ‘বিশেষ ব্যবস্থা’র অভিযোগও রয়েছে।

এলজিইডিতে বদলি ও পদায়ন নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। অনুসন্ধান-সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, গুরুত্বপূর্ণ বা সুবিধাজনক কর্মস্থলে পদায়নের জন্য কর্মকর্তাদের কাছ থেকে ১০ থেকে ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত দাবি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সূত্রগুলো কয়েকটি পদায়নের উদাহরণও দিয়েছে। তাদের দাবি, সাভারে একটি কাঙ্ক্ষিত পদে পোস্টিংয়ের জন্য প্রায় ১৫ লাখ টাকা এবং জাজিরায় সহকারী প্রকৌশলীর একটি পদে বদলির জন্য ১০ লাখ টাকা লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে।

এ ছাড়া বরিশাল সদর থেকে বাবুগঞ্জ উপজেলায় একজন প্রকৌশলীর পদায়নের ক্ষেত্রেও ৫ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগের পরিধি শুধু বর্তমান প্রশাসনিক কার্যক্রমে সীমাবদ্ধ নয়। সাবেক প্রধান প্রকৌশলী জাবেদ করিমের দায়িত্বকালেও একটি নিয়োগ প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে বড় অঙ্কের অর্থ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ওই নিয়োগকে কেন্দ্র করে প্রায় দেড় কোটি টাকার একটি কথিত সমঝোতা হয়েছিল। ‘আব্দুল ওহাব’ নামে এক ব্যক্তির মাধ্যমে অর্থ লেনদেনের প্রক্রিয়া পরিচালনার অভিযোগও রয়েছে।

সূত্রগুলোর দাবি, কথিত সমঝোতা অনুযায়ী ১ কোটি টাকা তৎকালীন প্রধান প্রকৌশলীর জন্য, ৩০ লাখ টাকা শফিকুর রহমানের জন্য এবং অবশিষ্ট অর্থ সংশ্লিষ্ট অন্যদের মধ্যে বণ্টনের পরিকল্পনা ছিল। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন ও চূড়ান্ত প্রমাণের বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

এলজিইডিতে বিধিমালা উপেক্ষা করে ১২ জন প্রকৌশলীকে পদোন্নতি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, শফিকুর রহমান, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সাইফুল কবির এবং কথিত ওহাব সিন্ডিকেটের প্রভাবে এসব পদোন্নতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

অভিযোগ রয়েছে, ওই পদোন্নতির ফলে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে অতিরিক্ত প্রায় ৫ কোটি টাকা বেতন-ভাতা বাবদ ব্যয়ের সৃষ্টি হয়েছে। একই সময়ে জ্যেষ্ঠতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে পদোন্নতির প্রত্যাশায় থাকা অনেক কর্মকর্তা বঞ্চিত হয়েছেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

শফিকুর রহমানের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে বিপুল সম্পদ অর্জনের অভিযোগও উঠেছে। একাধিক সূত্রের দাবি, প্রশাসনিক ক্ষমতা ও প্রভাব ব্যবহার করে তিনি প্রায় ৩০ কোটি টাকার সম্পদ গড়ে তুলেছেন। এর একটি অংশ বিদেশে পাচারের অভিযোগও রয়েছে।

সিন্ডিকেটের সঙ্গে যুক্ত বলে কথিত ‘সোহেল’ নামে এক ব্যক্তি প্রায় ৫ কোটি টাকা এবং ‘মান্নান’ নামে আরেক ব্যক্তি প্রায় ৫০ লাখ টাকা অর্জন করেছেন বলেও অভিযোগ করেছে সূত্রগুলো।

তবে এসব সম্পদ ও অর্থের উৎস সম্পর্কে কোনো নিরপেক্ষ তদন্ত প্রতিবেদন বা আদালতের সিদ্ধান্তের তথ্য এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।

এলজিইডির অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ নতুন নয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে সংস্থাটির প্রধান প্রকৌশলীকে ঘিরে দুর্নীতির তদন্তের সময়ও শফিকুর রহমানের নাম আলোচনায় আসে।

পরবর্তীতে ২০২৫ সালের এপ্রিলে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উপপরিচালক আজিজুল হকের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি তদন্ত দল এলজিইডির বিভিন্ন অভিযোগ অনুসন্ধান শুরু করে বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে।

সাবেক প্রধান প্রকৌশলী ওয়াহিদুর রহমান, আলী আকতার হোসেনসহ কয়েকজন প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানের সময় শফিকুল ইসলাম ও শফিকুর রহমানকে ঘিরে একটি প্রভাবশালী চক্রের অভিযোগ সামনে আসে বলেও দাবি করা হয়েছে।

অভিযোগ অনুসন্ধানে এলজিইডির পুরোনো নথিপত্রও পর্যালোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। ২০১০ সাল থেকে সংস্থাটিতে নিয়োগ, পদোন্নতি ও বদলিসংক্রান্ত নথি পর্যালোচনার উদ্যোগ নেওয়ার তথ্যও পাওয়া গেছে।

এ ছাড়া প্রায় ১ হাজার ৬০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগের অনুসন্ধানকে কেন্দ্র করে এলজিইডির ৩৬টি কার্যালয়ে একযোগে তল্লাশি চালানোর কথাও জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

তবে এসব অনুসন্ধান ও তৎপরতার পর অভিযুক্ত ব্যক্তি বা সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কী ধরনের চূড়ান্ত প্রশাসনিক কিংবা আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে সুস্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।

পদোন্নতি, বদলি, পদায়ন ও নিয়োগকে ঘিরে ওঠা এসব অভিযোগ সত্য হলে তা শুধু একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ অনিয়মের বিষয় নয়; বরং সরকারি প্রশাসনে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও মেধাভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রেও গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও প্রমাণভিত্তিক তদন্ত প্রয়োজন। বিশেষ করে পদোন্নতি ও বদলির নথি, অর্থ লেনদেনের তথ্য, সম্পদের বিবরণ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া যাচাই করা হলে অভিযোগগুলোর সত্যতা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া সম্ভব।

শফিকুর রহমানের বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।