১১:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬

নির্মাণের দুই মাসেই বেহাল সড়ক, ৭৫ লাখ টাকার কাজে অনিয়মের অভিযোগ

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১১:২৩:২২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫০৫

বরিশালের উজিরপুর উপজেলার হারতা ইউনিয়নের নয়াকান্দি ফুটব্রিজ থেকে দক্ষিণ সাতলা পর্যন্ত প্রায় আড়াই কিলোমিটার সড়ক নির্মাণের দুই মাস না যেতেই বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দ সৃষ্টি হয়েছে। অনেক জায়গা থেকে উঠে গেছে পিচ-পাথর। প্রায় ৭৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই সড়কের কাজের মান নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, নয়াকান্দি ফুটব্রিজ থেকে দক্ষিণ সাতলা পর্যন্ত সড়কটির নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৭৪ লাখ ৯৯ হাজার টাকা। কাজটি বাস্তবায়ন করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স তাসমিয়া এন্টারপ্রাইজ।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, নির্মাণকাজে অনিয়ম, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার এবং যথাযথ তদারকির অভাবেই অল্প সময়ের মধ্যে সড়কটির বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কোথাও কোথাও সড়কের প্রস্থও কমে গেছে বলে অভিযোগ করেছেন তারা।

এ ছাড়া সড়কের পাইলিং কাজে জিও ব্যাগের পরিবর্তে চটের বস্তায় বালু ভর্তি করে ব্যবহারের অভিযোগও উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সড়কটির অনিয়ম নিয়ে বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় দৈনিকে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে আরও আলোচনা শুরু হয়। অভিযোগ রয়েছে, সংবাদ প্রকাশের পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ও স্থানীয় কয়েকজন সাংবাদিককে নিয়ে উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী সুব্রত রায়ের কার্যালয়ে বিষয়টি ‘ম্যানেজ’ করার চেষ্টা করা হয়। এ সময় মোটা অঙ্কের আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও তুলেছেন একাধিক সূত্র। তবে এ অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এরপর সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশের ছবি বাদ দিয়ে তুলনামূলক ভালো অংশের ছবি ব্যবহার করে একটি চক্র ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সাফাই গাওয়ার চেষ্টা করছে। এতে প্রকৃত চিত্র আড়াল করার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন তারা।

সড়কের নির্মাণকাজ ও তদারকি নিয়ে প্রশ্ন তুলে স্থানীয়রা উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী সুব্রত রায়ের ভূমিকা নিয়েও তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাদের ভাষ্য, নির্মাণকাজ চলাকালে নিয়মিত ও যথাযথ তদারকি করা হলে নির্মাণের মাত্র দুই মাসের মধ্যে পিচ-পাথর উঠে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার কথা নয়।

স্থানীয় বাসিন্দারা পুরোনো ও নতুন সড়কের প্রস্থ সরেজমিনে মেপে দেখার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি সড়কের পুরুত্ব, ব্যবহৃত নির্মাণসামগ্রীর মান, কাজের পরিমাণ এবং প্রকল্প-সংক্রান্ত নথিপত্র যাচাই করে কারিগরি তদন্তেরও দাবি জানিয়েছেন তারা।

অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী সুব্রত রায় বলেন, বৃষ্টির কারণে সড়কের কয়েকটি স্থানে পানি জমে ক্ষতি হয়েছে। বৃষ্টি কমে গেলে ক্ষতিগ্রস্ত স্থানগুলো মেরামত করা হবে। তিনি অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেন।

তবে স্থানীয়দের দাবি, নির্মাণের মাত্র দুই মাসের মধ্যে পিচ-পাথর উঠে যাওয়ার ঘটনাকে শুধু বৃষ্টির কারণে হয়েছে বলে ধরে না নিয়ে বিষয়টি কারিগরি পরীক্ষার মাধ্যমে খতিয়ে দেখা উচিত। সড়কের প্রস্থ ও পুরুত্ব পরিমাপের পাশাপাশি নির্মাণসামগ্রীর মান এবং প্রকল্পের কাজের পরিমাণ যাচাই করা হলে প্রকৃত কারণ বেরিয়ে আসবে বলে মনে করছেন তারা।

তাদের আরও দাবি, তদন্তে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বা সংশ্লিষ্ট কারও অনিয়ম কিংবা দায়িত্বে গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে নিম্নমানের কাজের প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের নিজস্ব ব্যয়ে সড়কটি মানসম্মতভাবে পুনর্নির্মাণের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

সর্বাধিক পঠিত

ঝিকরগাছায় ১৭ কোটি টাকার কথিত প্লাটিনামের প্রলোভনে ৬৭ লাখ টাকা আত্মসাৎ, আটক ১

নির্মাণের দুই মাসেই বেহাল সড়ক, ৭৫ লাখ টাকার কাজে অনিয়মের অভিযোগ

আপডেট: ১১:২৩:২২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬

বরিশালের উজিরপুর উপজেলার হারতা ইউনিয়নের নয়াকান্দি ফুটব্রিজ থেকে দক্ষিণ সাতলা পর্যন্ত প্রায় আড়াই কিলোমিটার সড়ক নির্মাণের দুই মাস না যেতেই বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দ সৃষ্টি হয়েছে। অনেক জায়গা থেকে উঠে গেছে পিচ-পাথর। প্রায় ৭৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই সড়কের কাজের মান নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, নয়াকান্দি ফুটব্রিজ থেকে দক্ষিণ সাতলা পর্যন্ত সড়কটির নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৭৪ লাখ ৯৯ হাজার টাকা। কাজটি বাস্তবায়ন করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স তাসমিয়া এন্টারপ্রাইজ।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, নির্মাণকাজে অনিয়ম, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার এবং যথাযথ তদারকির অভাবেই অল্প সময়ের মধ্যে সড়কটির বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কোথাও কোথাও সড়কের প্রস্থও কমে গেছে বলে অভিযোগ করেছেন তারা।

এ ছাড়া সড়কের পাইলিং কাজে জিও ব্যাগের পরিবর্তে চটের বস্তায় বালু ভর্তি করে ব্যবহারের অভিযোগও উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সড়কটির অনিয়ম নিয়ে বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় দৈনিকে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে আরও আলোচনা শুরু হয়। অভিযোগ রয়েছে, সংবাদ প্রকাশের পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ও স্থানীয় কয়েকজন সাংবাদিককে নিয়ে উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী সুব্রত রায়ের কার্যালয়ে বিষয়টি ‘ম্যানেজ’ করার চেষ্টা করা হয়। এ সময় মোটা অঙ্কের আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও তুলেছেন একাধিক সূত্র। তবে এ অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এরপর সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশের ছবি বাদ দিয়ে তুলনামূলক ভালো অংশের ছবি ব্যবহার করে একটি চক্র ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সাফাই গাওয়ার চেষ্টা করছে। এতে প্রকৃত চিত্র আড়াল করার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন তারা।

সড়কের নির্মাণকাজ ও তদারকি নিয়ে প্রশ্ন তুলে স্থানীয়রা উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী সুব্রত রায়ের ভূমিকা নিয়েও তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাদের ভাষ্য, নির্মাণকাজ চলাকালে নিয়মিত ও যথাযথ তদারকি করা হলে নির্মাণের মাত্র দুই মাসের মধ্যে পিচ-পাথর উঠে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার কথা নয়।

স্থানীয় বাসিন্দারা পুরোনো ও নতুন সড়কের প্রস্থ সরেজমিনে মেপে দেখার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি সড়কের পুরুত্ব, ব্যবহৃত নির্মাণসামগ্রীর মান, কাজের পরিমাণ এবং প্রকল্প-সংক্রান্ত নথিপত্র যাচাই করে কারিগরি তদন্তেরও দাবি জানিয়েছেন তারা।

অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী সুব্রত রায় বলেন, বৃষ্টির কারণে সড়কের কয়েকটি স্থানে পানি জমে ক্ষতি হয়েছে। বৃষ্টি কমে গেলে ক্ষতিগ্রস্ত স্থানগুলো মেরামত করা হবে। তিনি অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেন।

তবে স্থানীয়দের দাবি, নির্মাণের মাত্র দুই মাসের মধ্যে পিচ-পাথর উঠে যাওয়ার ঘটনাকে শুধু বৃষ্টির কারণে হয়েছে বলে ধরে না নিয়ে বিষয়টি কারিগরি পরীক্ষার মাধ্যমে খতিয়ে দেখা উচিত। সড়কের প্রস্থ ও পুরুত্ব পরিমাপের পাশাপাশি নির্মাণসামগ্রীর মান এবং প্রকল্পের কাজের পরিমাণ যাচাই করা হলে প্রকৃত কারণ বেরিয়ে আসবে বলে মনে করছেন তারা।

তাদের আরও দাবি, তদন্তে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বা সংশ্লিষ্ট কারও অনিয়ম কিংবা দায়িত্বে গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে নিম্নমানের কাজের প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের নিজস্ব ব্যয়ে সড়কটি মানসম্মতভাবে পুনর্নির্মাণের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।