১০:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬

ত্রাণের বিস্কুট ও জাহাজের জ্বালানি তেল আত্মসাতের অভিযোগ, তদন্ত ছাড়াই গুরুত্বপূর্ণ পদে মিজানুর রহমান

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৫:৫৭:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫০৩

বন্যাদুর্গতদের জন্য বরাদ্দ ত্রাণের বিস্কুট আত্মসাৎ এবং ফায়ার সার্ভিসের বিশেষায়িত জাহাজের বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল নয়ছয়ের মতো গুরুতর অভিযোগ ওঠার পরও কোনো দৃশ্যমান বিভাগীয় তদন্ত ছাড়াই মো. মিজানুর রহমান (বিএফএম)কে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ উপ-পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) পদে পদায়ন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

বরিশালে উপ-পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় তার বিরুদ্ধে এসব অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগকারীদের দাবি, অভিযোগগুলোর যথাযথ তদন্ত ও নিষ্পত্তি না করেই তাকে বরিশাল থেকে ঢাকার সদর দপ্তরে এনে অধিদপ্তরের প্রশাসন ও অর্থ বিভাগের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় সংস্থাটির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ ও নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

জাহাজের জ্বালানি তেল নিয়ে অভিযোগ

বরিশালে দায়িত্ব পালনের সময় ফায়ার সার্ভিসের বিশেষায়িত জাহাজ ‘অগ্নি যোদ্ধা’-এর জন্য বরাদ্দ করা হাজার হাজার লিটার জ্বালানি তেল নয়ছয় ও কালোবাজারে বিক্রির অভিযোগ ওঠে মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, জাহাজটির জন্য বরাদ্দকৃত জ্বালানি তেলের ব্যবহার ও সংরক্ষণে অনিয়ম করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সুনির্দিষ্ট সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট নথি, জ্বালানি ব্যবহারের হিসাব, সরবরাহ রেজিস্টার ও অন্যান্য আর্থিক কাগজপত্র যাচাই করে তদন্ত করা প্রয়োজন।

বন্যার ত্রাণের বিস্কুট আত্মসাতের অভিযোগ

সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগটি ওঠে ভয়াবহ বন্যার সময়। বন্যাদুর্গত মানুষের জন্য বরাদ্দ করা ত্রাণের বিস্কুট আত্মসাতের অভিযোগ করা হয় মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে।

অভিযোগকারীদের দাবি, অন্তর্বর্তী সরকারের শুরুর দিকে বন্যাকবলিত মানুষের জন্য বরাদ্দ ত্রাণের বিস্কুটের একটি অংশ আত্মসাতের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় তৎকালীন সময়ে পরিচালিত সেনাবাহিনীর একটি অভিযানে বিস্কুট চুরির প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গিয়েছিল বলেও দাবি করা হয়েছে।

তবে ওই অভিযানের প্রতিবেদন, জব্দ তালিকা বা সংশ্লিষ্ট নথি প্রকাশ্যে এসেছে কি না এবং সেখানে মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে সরাসরি কোনো দায় নির্ধারণ করা হয়েছিল কি না—তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

তদন্ত ছাড়াই গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়নের প্রশ্ন

অভিযোগকারীদের ভাষ্য, কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গুরুতর অনিয়ম বা দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা উচিত। কিন্তু মিজানুর রহমানের ক্ষেত্রে অভিযোগগুলোর পরও তাকে কোনো দৃশ্যমান বিভাগীয় তদন্তের মুখোমুখি না করে ঢাকার সদর দপ্তরে গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন করা হয়েছে।

বিশেষ করে প্রশাসন ও অর্থ শাখার দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় এমন অভিযোগ থাকা অবস্থায় তাকে এই পদে দায়িত্ব দেওয়ার যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা।

কর্মকর্তাদের মধ্যে অসন্তোষ

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ফায়ার সার্ভিসের একাধিক কর্মকর্তা দাবি করেন, গুরুতর অভিযোগের মুখে থাকা কোনো কর্মকর্তাকে গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন করা হলে প্রতিষ্ঠানের সৎ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে হতাশা তৈরি হতে পারে।

তাদের অভিযোগ, এ ধরনের পদায়ন দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানের অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তৈরি করছে। তবে এসব বক্তব্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ব্যক্তিগত অভিযোগ; এর সত্যতা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।

প্রভাব খাটানোর অভিযোগ

অভিযোগ রয়েছে, বর্তমান মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জায়েদ কামালকে প্রভাবিত করে মিজানুর রহমান গুরুত্বপূর্ণ পদটি পেয়েছেন। তবে এই দাবির পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।

এ ধরনের অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে পদায়নের নথি, প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের কারণ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানা প্রয়োজন।

বক্তব্য পাওয়া যায়নি

অভিযোগের বিষয়ে মো. মিজানুর রহমানের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়; তবে এ বিষয়ে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

সংশ্লিষ্টদের দাবি, ত্রাণের বিস্কুট ও জ্বালানি তেল নিয়ে ওঠা অভিযোগের পাশাপাশি মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে থাকা অন্যান্য অভিযোগও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা উচিত। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন ও বিভাগীয় বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

তবে প্রতিবেদনে উল্লিখিত অভিযোগগুলো এখনো অভিযোগের পর্যায়েই রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও প্রমাণের ভিত্তিতেই এসব অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা নির্ধারিত হবে।

সর্বাধিক পঠিত

বেনাপোলে মেয়রপ্রার্থী ইমদাদুল হকের গণসংযোগ ও দোয়া প্রার্থনা

ত্রাণের বিস্কুট ও জাহাজের জ্বালানি তেল আত্মসাতের অভিযোগ, তদন্ত ছাড়াই গুরুত্বপূর্ণ পদে মিজানুর রহমান

আপডেট: ০৫:৫৭:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬

বন্যাদুর্গতদের জন্য বরাদ্দ ত্রাণের বিস্কুট আত্মসাৎ এবং ফায়ার সার্ভিসের বিশেষায়িত জাহাজের বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল নয়ছয়ের মতো গুরুতর অভিযোগ ওঠার পরও কোনো দৃশ্যমান বিভাগীয় তদন্ত ছাড়াই মো. মিজানুর রহমান (বিএফএম)কে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ উপ-পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) পদে পদায়ন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

বরিশালে উপ-পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় তার বিরুদ্ধে এসব অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগকারীদের দাবি, অভিযোগগুলোর যথাযথ তদন্ত ও নিষ্পত্তি না করেই তাকে বরিশাল থেকে ঢাকার সদর দপ্তরে এনে অধিদপ্তরের প্রশাসন ও অর্থ বিভাগের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় সংস্থাটির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ ও নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

জাহাজের জ্বালানি তেল নিয়ে অভিযোগ

বরিশালে দায়িত্ব পালনের সময় ফায়ার সার্ভিসের বিশেষায়িত জাহাজ ‘অগ্নি যোদ্ধা’-এর জন্য বরাদ্দ করা হাজার হাজার লিটার জ্বালানি তেল নয়ছয় ও কালোবাজারে বিক্রির অভিযোগ ওঠে মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, জাহাজটির জন্য বরাদ্দকৃত জ্বালানি তেলের ব্যবহার ও সংরক্ষণে অনিয়ম করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সুনির্দিষ্ট সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট নথি, জ্বালানি ব্যবহারের হিসাব, সরবরাহ রেজিস্টার ও অন্যান্য আর্থিক কাগজপত্র যাচাই করে তদন্ত করা প্রয়োজন।

বন্যার ত্রাণের বিস্কুট আত্মসাতের অভিযোগ

সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগটি ওঠে ভয়াবহ বন্যার সময়। বন্যাদুর্গত মানুষের জন্য বরাদ্দ করা ত্রাণের বিস্কুট আত্মসাতের অভিযোগ করা হয় মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে।

অভিযোগকারীদের দাবি, অন্তর্বর্তী সরকারের শুরুর দিকে বন্যাকবলিত মানুষের জন্য বরাদ্দ ত্রাণের বিস্কুটের একটি অংশ আত্মসাতের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় তৎকালীন সময়ে পরিচালিত সেনাবাহিনীর একটি অভিযানে বিস্কুট চুরির প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গিয়েছিল বলেও দাবি করা হয়েছে।

তবে ওই অভিযানের প্রতিবেদন, জব্দ তালিকা বা সংশ্লিষ্ট নথি প্রকাশ্যে এসেছে কি না এবং সেখানে মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে সরাসরি কোনো দায় নির্ধারণ করা হয়েছিল কি না—তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

তদন্ত ছাড়াই গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়নের প্রশ্ন

অভিযোগকারীদের ভাষ্য, কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গুরুতর অনিয়ম বা দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা উচিত। কিন্তু মিজানুর রহমানের ক্ষেত্রে অভিযোগগুলোর পরও তাকে কোনো দৃশ্যমান বিভাগীয় তদন্তের মুখোমুখি না করে ঢাকার সদর দপ্তরে গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন করা হয়েছে।

বিশেষ করে প্রশাসন ও অর্থ শাখার দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় এমন অভিযোগ থাকা অবস্থায় তাকে এই পদে দায়িত্ব দেওয়ার যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা।

কর্মকর্তাদের মধ্যে অসন্তোষ

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ফায়ার সার্ভিসের একাধিক কর্মকর্তা দাবি করেন, গুরুতর অভিযোগের মুখে থাকা কোনো কর্মকর্তাকে গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন করা হলে প্রতিষ্ঠানের সৎ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে হতাশা তৈরি হতে পারে।

তাদের অভিযোগ, এ ধরনের পদায়ন দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানের অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তৈরি করছে। তবে এসব বক্তব্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ব্যক্তিগত অভিযোগ; এর সত্যতা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।

প্রভাব খাটানোর অভিযোগ

অভিযোগ রয়েছে, বর্তমান মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জায়েদ কামালকে প্রভাবিত করে মিজানুর রহমান গুরুত্বপূর্ণ পদটি পেয়েছেন। তবে এই দাবির পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।

এ ধরনের অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে পদায়নের নথি, প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের কারণ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানা প্রয়োজন।

বক্তব্য পাওয়া যায়নি

অভিযোগের বিষয়ে মো. মিজানুর রহমানের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়; তবে এ বিষয়ে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

সংশ্লিষ্টদের দাবি, ত্রাণের বিস্কুট ও জ্বালানি তেল নিয়ে ওঠা অভিযোগের পাশাপাশি মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে থাকা অন্যান্য অভিযোগও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা উচিত। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন ও বিভাগীয় বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

তবে প্রতিবেদনে উল্লিখিত অভিযোগগুলো এখনো অভিযোগের পর্যায়েই রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও প্রমাণের ভিত্তিতেই এসব অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা নির্ধারিত হবে।