১০:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬

অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে গণপূর্তের আলমগীর খানের বিরুদ্ধে

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৫:৫১:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫১০

গণপূর্ত অধিদপ্তরের ই/এম পি অ্যান্ড ডি জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. আলমগীর খানের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, সরকারি প্রকল্পে অনিয়ম, আর্থিক দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রীর কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন ধানমন্ডির বাসিন্দা এলাহী নেওয়াজ খান।

অভিযোগপত্রের অনুলিপি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), বাংলাদেশ ফিনান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) এবং আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিটে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, মো. আলমগীর খান দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতার প্রভাব কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পে অনিয়ম করেছেন এবং এর মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ সম্পদের মালিক হয়েছেন। ঢাকায় তার একাধিক প্লট ও ফ্ল্যাট, ব্যক্তিগত গাড়ি এবং গ্রামের বাড়িতে বিলাসবহুল বাংলো ও খামারবাড়ি রয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি তার ও পরিবারের সদস্যদের নামে বিভিন্ন ব্যাংকে বিপুল পরিমাণ এফডিআর রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

অভিযোগকারী আরও দাবি করেছেন, আলমগীর খান ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা সম্পদের পরিমাণ তাদের বৈধ আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা জাতীয় পরিচয়পত্রের বিপরীতে ব্যাংক হিসাব ও সম্পদের তথ্য যাচাই করলে বিষয়টি স্পষ্ট হবে।

সিসি ক্যামেরা স্থাপনে অনিয়মের অভিযোগ

অভিযোগপত্রে গণপূর্ত অধিদপ্তরের ই/এম বিভাগ-৬-এর একটি প্রকল্পের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধ এলাকায় সিসি ক্যামেরা ও সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম সরবরাহ ও স্থাপনের জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে প্রায় ১ কোটি ১৮ লাখ ৮১ হাজার টাকা বিল পরিশোধের অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, ২০১৬ সালের জুন মাসে মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে তিনটি কার্যাদেশ দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে চূড়ান্ত বিল পরিশোধ করা হলেও কাজ পুরোপুরি সম্পন্ন হয়নি বলে দাবি করা হয়েছে। একই বছরের অক্টোবরে অডিট বিভাগের কর্মকর্তারা জাতীয় স্মৃতিসৌধ এলাকায় সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে ক্যামেরাগুলোর ব্যবহারযোগ্যতা নিয়ে আপত্তি তোলেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার হয়েছে কি না এবং কার্যাদেশ অনুযায়ী কাজ সম্পন্ন হয়েছিল কি না—তা তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।

দুই গাড়ির বিপরীতে ৩১ চালকের বেতন-ভাতার অভিযোগ

অভিযোগে গণপূর্ত অধিদপ্তরের ই/এম বিভাগ-৮-এর আরেকটি আর্থিক অনিয়মের বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে সরকারি মালিকানাধীন মাত্র দুটি গাড়ির বিপরীতে ৩১ জন চালকের বেতন-ভাতা বাবদ বছরে প্রায় ৮৭ লাখ টাকা ব্যয়ের অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগকারীর দাবি, মাঠপর্যায়ে অনুসন্ধান করলে এসব চালকের বাস্তব উপস্থিতি ও নিয়োগের বিষয়টি যাচাই করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে অনুমোদিত জনবল কাঠামো থাকার পরও দৈনিক মজুরি, চুক্তিভিত্তিক ও অস্থায়ী জনবল দেখিয়ে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ের অভিযোগও করা হয়েছে।

তবে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট নথি, নিয়োগসংক্রান্ত কাগজপত্র, বেতন-ভাতা সংক্রান্ত রেকর্ড এবং অডিট প্রতিবেদন পর্যালোচনা করা প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

বিদেশে অর্থ পাচারেরও অভিযোগ

অভিযোগপত্রে মো. আলমগীর খান অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থের একটি অংশ মানিলন্ডারিংয়ের মাধ্যমে কানাডায় পাচার এবং সেখানে সম্পদ ও ব্যবসায় বিনিয়োগ করেছেন বলেও দাবি করা হয়েছে। তবে এ অভিযোগের পক্ষে কোনো নির্দিষ্ট নথি বা প্রমাণ প্রকাশ্যে উপস্থাপন করা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এ ছাড়া আয়কর নথিতে সম্পদের প্রকৃত তথ্য গোপন করে কর ফাঁকির অভিযোগও করা হয়েছে। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর তদন্ত প্রয়োজন বলে অভিযোগকারী দাবি করেছেন।

বক্তব্য পাওয়া যায়নি

অভিযোগের বিষয়ে মো. আলমগীর খানের বক্তব্য জানতে হোয়াটসঅ্যাপে অভিযোগপত্রসহ বার্তা পাঠানো হলেও তিনি কোনো মন্তব্য করেননি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী খালেকুজ্জামান চৌধুরীর কাছেও অভিযোগপত্র পাঠিয়ে মতামত জানতে চাওয়া হয়। তিনিও কোনো মন্তব্য করেননি বলে অভিযোগপত্রভিত্তিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

উল্লেখিত অভিযোগগুলো বর্তমানে অভিযোগের পর্যায়ে রয়েছে। এগুলোর সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট সরকারি নথি, অডিট প্রতিবেদন, আর্থিক লেনদেন ও সম্পদের তথ্য যাচাইসহ নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।

সর্বাধিক পঠিত

বেনাপোলে মেয়রপ্রার্থী ইমদাদুল হকের গণসংযোগ ও দোয়া প্রার্থনা

অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে গণপূর্তের আলমগীর খানের বিরুদ্ধে

আপডেট: ০৫:৫১:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬

গণপূর্ত অধিদপ্তরের ই/এম পি অ্যান্ড ডি জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. আলমগীর খানের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, সরকারি প্রকল্পে অনিয়ম, আর্থিক দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রীর কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন ধানমন্ডির বাসিন্দা এলাহী নেওয়াজ খান।

অভিযোগপত্রের অনুলিপি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), বাংলাদেশ ফিনান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) এবং আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিটে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, মো. আলমগীর খান দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতার প্রভাব কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পে অনিয়ম করেছেন এবং এর মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ সম্পদের মালিক হয়েছেন। ঢাকায় তার একাধিক প্লট ও ফ্ল্যাট, ব্যক্তিগত গাড়ি এবং গ্রামের বাড়িতে বিলাসবহুল বাংলো ও খামারবাড়ি রয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি তার ও পরিবারের সদস্যদের নামে বিভিন্ন ব্যাংকে বিপুল পরিমাণ এফডিআর রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

অভিযোগকারী আরও দাবি করেছেন, আলমগীর খান ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা সম্পদের পরিমাণ তাদের বৈধ আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা জাতীয় পরিচয়পত্রের বিপরীতে ব্যাংক হিসাব ও সম্পদের তথ্য যাচাই করলে বিষয়টি স্পষ্ট হবে।

সিসি ক্যামেরা স্থাপনে অনিয়মের অভিযোগ

অভিযোগপত্রে গণপূর্ত অধিদপ্তরের ই/এম বিভাগ-৬-এর একটি প্রকল্পের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধ এলাকায় সিসি ক্যামেরা ও সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম সরবরাহ ও স্থাপনের জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে প্রায় ১ কোটি ১৮ লাখ ৮১ হাজার টাকা বিল পরিশোধের অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, ২০১৬ সালের জুন মাসে মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে তিনটি কার্যাদেশ দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে চূড়ান্ত বিল পরিশোধ করা হলেও কাজ পুরোপুরি সম্পন্ন হয়নি বলে দাবি করা হয়েছে। একই বছরের অক্টোবরে অডিট বিভাগের কর্মকর্তারা জাতীয় স্মৃতিসৌধ এলাকায় সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে ক্যামেরাগুলোর ব্যবহারযোগ্যতা নিয়ে আপত্তি তোলেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার হয়েছে কি না এবং কার্যাদেশ অনুযায়ী কাজ সম্পন্ন হয়েছিল কি না—তা তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।

দুই গাড়ির বিপরীতে ৩১ চালকের বেতন-ভাতার অভিযোগ

অভিযোগে গণপূর্ত অধিদপ্তরের ই/এম বিভাগ-৮-এর আরেকটি আর্থিক অনিয়মের বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে সরকারি মালিকানাধীন মাত্র দুটি গাড়ির বিপরীতে ৩১ জন চালকের বেতন-ভাতা বাবদ বছরে প্রায় ৮৭ লাখ টাকা ব্যয়ের অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগকারীর দাবি, মাঠপর্যায়ে অনুসন্ধান করলে এসব চালকের বাস্তব উপস্থিতি ও নিয়োগের বিষয়টি যাচাই করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে অনুমোদিত জনবল কাঠামো থাকার পরও দৈনিক মজুরি, চুক্তিভিত্তিক ও অস্থায়ী জনবল দেখিয়ে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ের অভিযোগও করা হয়েছে।

তবে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট নথি, নিয়োগসংক্রান্ত কাগজপত্র, বেতন-ভাতা সংক্রান্ত রেকর্ড এবং অডিট প্রতিবেদন পর্যালোচনা করা প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

বিদেশে অর্থ পাচারেরও অভিযোগ

অভিযোগপত্রে মো. আলমগীর খান অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থের একটি অংশ মানিলন্ডারিংয়ের মাধ্যমে কানাডায় পাচার এবং সেখানে সম্পদ ও ব্যবসায় বিনিয়োগ করেছেন বলেও দাবি করা হয়েছে। তবে এ অভিযোগের পক্ষে কোনো নির্দিষ্ট নথি বা প্রমাণ প্রকাশ্যে উপস্থাপন করা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এ ছাড়া আয়কর নথিতে সম্পদের প্রকৃত তথ্য গোপন করে কর ফাঁকির অভিযোগও করা হয়েছে। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর তদন্ত প্রয়োজন বলে অভিযোগকারী দাবি করেছেন।

বক্তব্য পাওয়া যায়নি

অভিযোগের বিষয়ে মো. আলমগীর খানের বক্তব্য জানতে হোয়াটসঅ্যাপে অভিযোগপত্রসহ বার্তা পাঠানো হলেও তিনি কোনো মন্তব্য করেননি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী খালেকুজ্জামান চৌধুরীর কাছেও অভিযোগপত্র পাঠিয়ে মতামত জানতে চাওয়া হয়। তিনিও কোনো মন্তব্য করেননি বলে অভিযোগপত্রভিত্তিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

উল্লেখিত অভিযোগগুলো বর্তমানে অভিযোগের পর্যায়ে রয়েছে। এগুলোর সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট সরকারি নথি, অডিট প্রতিবেদন, আর্থিক লেনদেন ও সম্পদের তথ্য যাচাইসহ নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।