০১:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬

জ্যেষ্ঠতা ডিঙিয়ে গণপূর্তের প্রধান প্রকৌশলী, খালেকুজ্জামানের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১২:৫০:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫০৮

গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরীর বিরুদ্ধে জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন, রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে পদোন্নতি, টেন্ডার ও বদলি বাণিজ্যসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের গ্রিন সিটি প্রকল্পে ঠিকাদারি কাজ বণ্টনেও তার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, ২০১৪ সালের শেষ দিক থেকে ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পাবনা গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের গ্রিন সিটি প্রকল্পের বহুতল ভবন নির্মাণের একাধিক কার্যাদেশ দেওয়া হয়। ওই সময় মজিদ সন্স কনস্ট্রাকশন লিমিটেডের নেতৃত্বে সাজিন ও তমা কনস্ট্রাকশনকে নিয়ে একটি সিন্ডিকেটকে বেশিরভাগ কাজ পাইয়ে দেওয়ার নেপথ্যে খালেকুজ্জামান চৌধুরীর ভূমিকা ছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এমনকি রূপপুরের আলোচিত ‘বালিশ কেলেঙ্কারি’ প্রকাশের সময়ও তিনি রাজশাহী গণপূর্ত জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর দায়িত্বে ছিলেন। ওই ঘটনায় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দায় এড়িয়ে অপেক্ষাকৃত নিচের সারির কর্মকর্তাদের দায়ী করার ব্যবস্থা করা হয়েছিল বলেও অভিযোগে দাবি করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

সংযুক্ত নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৫ সালের ২৮ অক্টোবর মোহাম্মদ শামীম আখতারকে প্রধান প্রকৌশলীর চলতি দায়িত্ব থেকে সরিয়ে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (রিজার্ভ) পদে দেওয়া হয় এবং একই প্রজ্ঞাপনে খালেকুজ্জামান চৌধুরীকে প্রধান প্রকৌশলীর রুটিন দায়িত্ব দেওয়া হয়। পরদিন তাকে চলতি দায়িত্বে প্রধান প্রকৌশলী করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, সে সময় তার চেয়ে জ্যেষ্ঠ কয়েকজন প্রকৌশলীকে ডিঙিয়ে তাকে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়।

এ নিয়ে পূর্ত প্রকৌশলীদের মধ্যে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে বলেও নথিতে দাবি করা হয়েছে। তবে এ ধরনের অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।

প্রধান প্রকৌশলীর নেতৃত্বে বদলি, পদোন্নতি ও টেন্ডারসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ন্ত্রণে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট কাজ করছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। নথিতে এ সিন্ডিকেটে কয়েকজন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, একজন নারী স্টাফ অফিসার এবং একজন নির্বাহী প্রকৌশলীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া প্রধান প্রকৌশলীর আত্মীয়স্বজন ও ঘনিষ্ঠদের মাধ্যমে গণপূর্তের বিভিন্ন কাজ নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

খালেকুজ্জামান চৌধুরীর বিরুদ্ধে ভুয়া পিএইচডি সনদ ব্যবহার করে উচ্চশিক্ষা ছুটিতে প্রেষণ ভোগের অভিযোগে বিভাগীয় মামলা হয়েছিল বলে নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্তে জালিয়াতি ও অসদাচরণের বিষয় প্রমাণিত হওয়ার পর তিনি দোষ স্বীকার করেন এবং তাকে এক বছরের জন্য বেতন বৃদ্ধি স্থগিতের লঘুদণ্ড দেওয়া হয় বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

পরবর্তীতে রাজনৈতিক সুপারিশে তার দ্রুত পদোন্নতি হয়েছিল বলেও নথিতে অভিযোগ করা হয়েছে।

নথিতে আরও দাবি করা হয়েছে, বিভিন্ন সরকারের সময় খালেকুজ্জামান চৌধুরী রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরি করে পদোন্নতি ও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেয়েছেন। আওয়ামী লীগ আমলে এক রাজনৈতিক নেত্রীর সঙ্গে আত্মীয়তার সম্পর্ক ব্যবহার করে সুবিধা নেওয়ার অভিযোগের পাশাপাশি পরবর্তী সময়ে জামায়াতঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের সুপারিশে প্রধান প্রকৌশলীর দায়িত্ব পাওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

বর্তমানে প্রধান প্রকৌশলীর পদ স্থায়ী বা নিয়মিত করার প্রক্রিয়াতেও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের বাদ দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ক্ষেত্রে কয়েকজন জ্যেষ্ঠ প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে মামলার তথ্য ব্যবহার করে তাদের অবস্থান দুর্বল করার চেষ্টা করা হয়েছে বলে নথিতে দাবি করা হয়েছে।

সব মিলিয়ে, গণপূর্ত অধিদপ্তরের সর্বোচ্চ পদে খালেকুজ্জামান চৌধুরীর অবস্থান এবং তাকে নিয়মিত প্রধান প্রকৌশলী করার উদ্যোগ নিয়ে অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা প্রয়োজন।

সর্বাধিক পঠিত

শেরপুরে নারীসহ পাসপোর্ট অফিসের সহকারী পরিচালক আটক

জ্যেষ্ঠতা ডিঙিয়ে গণপূর্তের প্রধান প্রকৌশলী, খালেকুজ্জামানের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ

আপডেট: ১২:৫০:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬

গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরীর বিরুদ্ধে জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন, রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে পদোন্নতি, টেন্ডার ও বদলি বাণিজ্যসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের গ্রিন সিটি প্রকল্পে ঠিকাদারি কাজ বণ্টনেও তার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, ২০১৪ সালের শেষ দিক থেকে ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পাবনা গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের গ্রিন সিটি প্রকল্পের বহুতল ভবন নির্মাণের একাধিক কার্যাদেশ দেওয়া হয়। ওই সময় মজিদ সন্স কনস্ট্রাকশন লিমিটেডের নেতৃত্বে সাজিন ও তমা কনস্ট্রাকশনকে নিয়ে একটি সিন্ডিকেটকে বেশিরভাগ কাজ পাইয়ে দেওয়ার নেপথ্যে খালেকুজ্জামান চৌধুরীর ভূমিকা ছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এমনকি রূপপুরের আলোচিত ‘বালিশ কেলেঙ্কারি’ প্রকাশের সময়ও তিনি রাজশাহী গণপূর্ত জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর দায়িত্বে ছিলেন। ওই ঘটনায় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দায় এড়িয়ে অপেক্ষাকৃত নিচের সারির কর্মকর্তাদের দায়ী করার ব্যবস্থা করা হয়েছিল বলেও অভিযোগে দাবি করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

সংযুক্ত নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৫ সালের ২৮ অক্টোবর মোহাম্মদ শামীম আখতারকে প্রধান প্রকৌশলীর চলতি দায়িত্ব থেকে সরিয়ে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (রিজার্ভ) পদে দেওয়া হয় এবং একই প্রজ্ঞাপনে খালেকুজ্জামান চৌধুরীকে প্রধান প্রকৌশলীর রুটিন দায়িত্ব দেওয়া হয়। পরদিন তাকে চলতি দায়িত্বে প্রধান প্রকৌশলী করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, সে সময় তার চেয়ে জ্যেষ্ঠ কয়েকজন প্রকৌশলীকে ডিঙিয়ে তাকে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়।

এ নিয়ে পূর্ত প্রকৌশলীদের মধ্যে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে বলেও নথিতে দাবি করা হয়েছে। তবে এ ধরনের অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।

প্রধান প্রকৌশলীর নেতৃত্বে বদলি, পদোন্নতি ও টেন্ডারসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ন্ত্রণে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট কাজ করছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। নথিতে এ সিন্ডিকেটে কয়েকজন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, একজন নারী স্টাফ অফিসার এবং একজন নির্বাহী প্রকৌশলীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া প্রধান প্রকৌশলীর আত্মীয়স্বজন ও ঘনিষ্ঠদের মাধ্যমে গণপূর্তের বিভিন্ন কাজ নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

খালেকুজ্জামান চৌধুরীর বিরুদ্ধে ভুয়া পিএইচডি সনদ ব্যবহার করে উচ্চশিক্ষা ছুটিতে প্রেষণ ভোগের অভিযোগে বিভাগীয় মামলা হয়েছিল বলে নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্তে জালিয়াতি ও অসদাচরণের বিষয় প্রমাণিত হওয়ার পর তিনি দোষ স্বীকার করেন এবং তাকে এক বছরের জন্য বেতন বৃদ্ধি স্থগিতের লঘুদণ্ড দেওয়া হয় বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

পরবর্তীতে রাজনৈতিক সুপারিশে তার দ্রুত পদোন্নতি হয়েছিল বলেও নথিতে অভিযোগ করা হয়েছে।

নথিতে আরও দাবি করা হয়েছে, বিভিন্ন সরকারের সময় খালেকুজ্জামান চৌধুরী রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরি করে পদোন্নতি ও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেয়েছেন। আওয়ামী লীগ আমলে এক রাজনৈতিক নেত্রীর সঙ্গে আত্মীয়তার সম্পর্ক ব্যবহার করে সুবিধা নেওয়ার অভিযোগের পাশাপাশি পরবর্তী সময়ে জামায়াতঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের সুপারিশে প্রধান প্রকৌশলীর দায়িত্ব পাওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

বর্তমানে প্রধান প্রকৌশলীর পদ স্থায়ী বা নিয়মিত করার প্রক্রিয়াতেও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের বাদ দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ক্ষেত্রে কয়েকজন জ্যেষ্ঠ প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে মামলার তথ্য ব্যবহার করে তাদের অবস্থান দুর্বল করার চেষ্টা করা হয়েছে বলে নথিতে দাবি করা হয়েছে।

সব মিলিয়ে, গণপূর্ত অধিদপ্তরের সর্বোচ্চ পদে খালেকুজ্জামান চৌধুরীর অবস্থান এবং তাকে নিয়মিত প্রধান প্রকৌশলী করার উদ্যোগ নিয়ে অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা প্রয়োজন।