০১:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬

ওয়াটার এটিএম প্রকল্পে ড্রিঙ্কওয়েলকে ফের কাজ দেওয়ার তোড়জোড়, উঠছে অনিয়মের অভিযোগ

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৯:৪০:১০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫০৮

ঢাকা ওয়াসার ‘ওয়াটার এটিএম’ প্রকল্প পরিচালনায় ড্রিঙ্কওয়েল (উইস্ট বাংলাদেশ লিমিটেড)কে পুনরায় কাজ দেওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে নানা প্রশ্ন ও অভিযোগ উঠেছে। উন্মুক্ত দরপত্র কিংবা প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে আগের প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গেই চুক্তি নবায়নের উদ্যোগ চলছে বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

অভিযোগ রয়েছে, ড্রিঙ্কওয়েলের কো-ফাউন্ডার ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মিনহাজ চৌধুরী এবং প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক ইমতিয়াজ মোহাম্মদ মোহসিনের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা ও প্রভাবের কারণে অতীতে প্রতিষ্ঠানটি ওয়াটার এটিএম প্রকল্পের কাজ পেয়েছিল। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সরকারি প্রকল্প ও চুক্তিতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে উন্মুক্ত দরপত্র ও প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়া অনুসরণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। এর পরও ঢাকা ওয়াসার ওয়াটার এটিএম প্রকল্পে ড্রিঙ্কওয়েলকে আবারও দায়িত্ব দেওয়ার জন্য পর্দার আড়ালে তৎপরতা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

ঢাকা ওয়াসার আওতায় নগরীর বিভিন্ন এলাকায় স্থাপিত ওয়াটার এটিএম বুথের অবকাঠামো নির্মাণে ওয়াসার বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রায় ২৯৪টি বুথের অবকাঠামো নির্মাণ ও সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগের বড় অংশ ঢাকা ওয়াসা বহন করলেও পানি বিক্রির আয় নিয়ে ড্রিঙ্কওয়েলের সঙ্গে করা চুক্তির কাঠামো নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের দাবি, গত প্রায় নয় বছরে ওয়াটার এটিএম থেকে ড্রিঙ্কওয়েল প্রায় ১৪০ কোটি টাকা আয় করেছে। একই সময়ে বুথের অবকাঠামো নির্মাণে ঢাকা ওয়াসার ব্যয় হয়েছে প্রায় ১৫০ কোটি টাকা। তবে এসব অর্থের হিসাব, আয়-ব্যয়ের প্রকৃত কাঠামো এবং ওয়াসার আর্থিক লাভ-ক্ষতির পরিমাণ স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য, প্রকল্পটির মাধ্যমে ঢাকা ওয়াসার আর্থিক সুবিধা প্রত্যাশিত মাত্রায় নিশ্চিত হয়নি। এমনকি ওয়াসার নিজস্ব অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নেও প্রকল্পটির রাজস্ব আদায় ও আর্থিক সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন ছিল বলে দাবি করা হচ্ছে।

নাগরিকদের কম মূল্যে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের লক্ষ্যে ঢাকা ওয়াসা ও ড্রিঙ্কওয়েলের যৌথ উদ্যোগে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) মডেলে ওয়াটার এটিএম প্রকল্প শুরু হয়।

চুক্তির কাঠামো অনুযায়ী, ওয়াসার পক্ষ থেকে বুথের সিভিল অবকাঠামো নির্মাণ এবং ড্রিঙ্কওয়েলের পক্ষ থেকে অটোমেশন, ফিল্ট্রেশন প্রযুক্তি, স্মার্ট কার্ড ও সার্বিক পরিচালনার দায়িত্ব থাকার কথা। পানি বিক্রি থেকে অর্জিত আয় নির্ধারিত কাঠামো অনুযায়ী ভাগাভাগির ব্যবস্থাও ছিল।

তবে প্রকল্পের বাস্তবায়ন, বিনিয়োগের অনুপাত, আয় ভাগাভাগি এবং ওয়াসার প্রাপ্ত সুবিধা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্ন রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, বর্তমান চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ড্রিঙ্কওয়েলকে আরও পাঁচ বছরের জন্য দায়িত্ব দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানটির সিইও মিনহাজ চৌধুরী ঢাকা ওয়াসাসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ ও তদবির করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, এবারও উন্মুক্ত দরপত্র বা প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে ড্রিঙ্কওয়েলের সঙ্গেই চুক্তি নবায়নের চেষ্টা চলছে।

নতুন একটি ওয়াটার এটিএম মডেল প্রস্তাবের কথাও জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। তাদের দাবি, প্রস্তাবিত মডেলে বুথ নির্মাণের শতভাগ ব্যয় ঢাকা ওয়াসাকে বহন করতে হবে। ফলে আগের অভিজ্ঞতার পরও কেন একই ধরনের আর্থিক কাঠামোয় প্রকল্প এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

ড্রিঙ্কওয়েলের কার্যক্রমের সঙ্গে ঢাকা ওয়াসার সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাকসিম এ. খানের ঘনিষ্ঠতা ও ব্যবসায়িক স্বার্থের সম্পর্ক ছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে তাকসিম এ. খানের সরাসরি বা পরোক্ষ অংশীদারত্বের বিষয়ে প্রতিবেদকের হাতে স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো নথি পাওয়া যায়নি।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তাকসিম এ. খান ঢাকা ওয়াসার এমডি পদ থেকে পদত্যাগ করেন। এরপর প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনায় একাধিক পরিবর্তন এলেও ড্রিঙ্কওয়েলের সঙ্গে ওয়াটার এটিএম প্রকল্পের চুক্তি বহাল রয়েছে বলে জানা গেছে।

এদিকে ওয়াসার কিছু কর্মকর্তা ড্রিঙ্কওয়েলের কাছ থেকে নিয়মিত সুবিধা বা উপঢৌকন নিচ্ছেন—এমন অভিযোগও করেছে একটি সূত্র। তবে এ অভিযোগের পক্ষে নির্ভরযোগ্য নথি বা স্বাধীন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

ড্রিঙ্কওয়েলের কর্মীদের বেতন-ভাতা নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, নির্ধারিত সময়ে বেতন ও বোনাস না পাওয়ার প্রতিবাদে প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা এর আগে ঢাকা ওয়াসা ভবনের সামনে মানববন্ধন করেছিলেন।

তবে এ বিষয়ে ড্রিঙ্কওয়েল কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সরকারি অর্থে নির্মিত অবকাঠামো ব্যবহার করে পরিচালিত একটি প্রকল্পে আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা, চুক্তির শর্ত, রাজস্ব ভাগাভাগি এবং ভবিষ্যতে প্রতিষ্ঠান নির্বাচন—সবকিছুতেই উন্মুক্ত ও প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

বিশেষ করে পাঁচ বছরের জন্য চুক্তি নবায়নের উদ্যোগ সত্য হলে, তা কোন আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় হচ্ছে এবং উন্মুক্ত দরপত্রের সুযোগ রাখা হয়েছে কি না—এ বিষয়ে ঢাকা ওয়াসার স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অভিযোগগুলোর বিষয়ে বক্তব্য জানতে ড্রিঙ্কওয়েলের সিইও মিনহাজ চৌধুরীর মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে সংযুক্ত করা হবে।

সর্বাধিক পঠিত

শেরপুরে নারীসহ পাসপোর্ট অফিসের সহকারী পরিচালক আটক

ওয়াটার এটিএম প্রকল্পে ড্রিঙ্কওয়েলকে ফের কাজ দেওয়ার তোড়জোড়, উঠছে অনিয়মের অভিযোগ

আপডেট: ০৯:৪০:১০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬

ঢাকা ওয়াসার ‘ওয়াটার এটিএম’ প্রকল্প পরিচালনায় ড্রিঙ্কওয়েল (উইস্ট বাংলাদেশ লিমিটেড)কে পুনরায় কাজ দেওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে নানা প্রশ্ন ও অভিযোগ উঠেছে। উন্মুক্ত দরপত্র কিংবা প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে আগের প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গেই চুক্তি নবায়নের উদ্যোগ চলছে বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

অভিযোগ রয়েছে, ড্রিঙ্কওয়েলের কো-ফাউন্ডার ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মিনহাজ চৌধুরী এবং প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক ইমতিয়াজ মোহাম্মদ মোহসিনের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা ও প্রভাবের কারণে অতীতে প্রতিষ্ঠানটি ওয়াটার এটিএম প্রকল্পের কাজ পেয়েছিল। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সরকারি প্রকল্প ও চুক্তিতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে উন্মুক্ত দরপত্র ও প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়া অনুসরণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। এর পরও ঢাকা ওয়াসার ওয়াটার এটিএম প্রকল্পে ড্রিঙ্কওয়েলকে আবারও দায়িত্ব দেওয়ার জন্য পর্দার আড়ালে তৎপরতা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

ঢাকা ওয়াসার আওতায় নগরীর বিভিন্ন এলাকায় স্থাপিত ওয়াটার এটিএম বুথের অবকাঠামো নির্মাণে ওয়াসার বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রায় ২৯৪টি বুথের অবকাঠামো নির্মাণ ও সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগের বড় অংশ ঢাকা ওয়াসা বহন করলেও পানি বিক্রির আয় নিয়ে ড্রিঙ্কওয়েলের সঙ্গে করা চুক্তির কাঠামো নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের দাবি, গত প্রায় নয় বছরে ওয়াটার এটিএম থেকে ড্রিঙ্কওয়েল প্রায় ১৪০ কোটি টাকা আয় করেছে। একই সময়ে বুথের অবকাঠামো নির্মাণে ঢাকা ওয়াসার ব্যয় হয়েছে প্রায় ১৫০ কোটি টাকা। তবে এসব অর্থের হিসাব, আয়-ব্যয়ের প্রকৃত কাঠামো এবং ওয়াসার আর্থিক লাভ-ক্ষতির পরিমাণ স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য, প্রকল্পটির মাধ্যমে ঢাকা ওয়াসার আর্থিক সুবিধা প্রত্যাশিত মাত্রায় নিশ্চিত হয়নি। এমনকি ওয়াসার নিজস্ব অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নেও প্রকল্পটির রাজস্ব আদায় ও আর্থিক সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন ছিল বলে দাবি করা হচ্ছে।

নাগরিকদের কম মূল্যে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের লক্ষ্যে ঢাকা ওয়াসা ও ড্রিঙ্কওয়েলের যৌথ উদ্যোগে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) মডেলে ওয়াটার এটিএম প্রকল্প শুরু হয়।

চুক্তির কাঠামো অনুযায়ী, ওয়াসার পক্ষ থেকে বুথের সিভিল অবকাঠামো নির্মাণ এবং ড্রিঙ্কওয়েলের পক্ষ থেকে অটোমেশন, ফিল্ট্রেশন প্রযুক্তি, স্মার্ট কার্ড ও সার্বিক পরিচালনার দায়িত্ব থাকার কথা। পানি বিক্রি থেকে অর্জিত আয় নির্ধারিত কাঠামো অনুযায়ী ভাগাভাগির ব্যবস্থাও ছিল।

তবে প্রকল্পের বাস্তবায়ন, বিনিয়োগের অনুপাত, আয় ভাগাভাগি এবং ওয়াসার প্রাপ্ত সুবিধা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্ন রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, বর্তমান চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ড্রিঙ্কওয়েলকে আরও পাঁচ বছরের জন্য দায়িত্ব দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানটির সিইও মিনহাজ চৌধুরী ঢাকা ওয়াসাসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ ও তদবির করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, এবারও উন্মুক্ত দরপত্র বা প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে ড্রিঙ্কওয়েলের সঙ্গেই চুক্তি নবায়নের চেষ্টা চলছে।

নতুন একটি ওয়াটার এটিএম মডেল প্রস্তাবের কথাও জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। তাদের দাবি, প্রস্তাবিত মডেলে বুথ নির্মাণের শতভাগ ব্যয় ঢাকা ওয়াসাকে বহন করতে হবে। ফলে আগের অভিজ্ঞতার পরও কেন একই ধরনের আর্থিক কাঠামোয় প্রকল্প এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

ড্রিঙ্কওয়েলের কার্যক্রমের সঙ্গে ঢাকা ওয়াসার সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাকসিম এ. খানের ঘনিষ্ঠতা ও ব্যবসায়িক স্বার্থের সম্পর্ক ছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে তাকসিম এ. খানের সরাসরি বা পরোক্ষ অংশীদারত্বের বিষয়ে প্রতিবেদকের হাতে স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো নথি পাওয়া যায়নি।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তাকসিম এ. খান ঢাকা ওয়াসার এমডি পদ থেকে পদত্যাগ করেন। এরপর প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনায় একাধিক পরিবর্তন এলেও ড্রিঙ্কওয়েলের সঙ্গে ওয়াটার এটিএম প্রকল্পের চুক্তি বহাল রয়েছে বলে জানা গেছে।

এদিকে ওয়াসার কিছু কর্মকর্তা ড্রিঙ্কওয়েলের কাছ থেকে নিয়মিত সুবিধা বা উপঢৌকন নিচ্ছেন—এমন অভিযোগও করেছে একটি সূত্র। তবে এ অভিযোগের পক্ষে নির্ভরযোগ্য নথি বা স্বাধীন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

ড্রিঙ্কওয়েলের কর্মীদের বেতন-ভাতা নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, নির্ধারিত সময়ে বেতন ও বোনাস না পাওয়ার প্রতিবাদে প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা এর আগে ঢাকা ওয়াসা ভবনের সামনে মানববন্ধন করেছিলেন।

তবে এ বিষয়ে ড্রিঙ্কওয়েল কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সরকারি অর্থে নির্মিত অবকাঠামো ব্যবহার করে পরিচালিত একটি প্রকল্পে আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা, চুক্তির শর্ত, রাজস্ব ভাগাভাগি এবং ভবিষ্যতে প্রতিষ্ঠান নির্বাচন—সবকিছুতেই উন্মুক্ত ও প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

বিশেষ করে পাঁচ বছরের জন্য চুক্তি নবায়নের উদ্যোগ সত্য হলে, তা কোন আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় হচ্ছে এবং উন্মুক্ত দরপত্রের সুযোগ রাখা হয়েছে কি না—এ বিষয়ে ঢাকা ওয়াসার স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অভিযোগগুলোর বিষয়ে বক্তব্য জানতে ড্রিঙ্কওয়েলের সিইও মিনহাজ চৌধুরীর মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে সংযুক্ত করা হবে।