১১:০২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

৩,৫০০ ফায়ার ফাইটার নিয়োগে কোটি টাকার বাণিজ্যের অভিযোগ

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১২:২৭:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫২৭

 

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের সাময়িক বরখাস্তকৃত ওয়ারহাউজ ইন্সপেক্টর মহিউদ্দিনের বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্য, বদলি সিন্ডিকেট, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন, ব্ল্যাকমেইল ও চাঁদাবাজির মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন-পরবর্তী পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক পরিচয় বদলে তিনি আবারও অধিদপ্তরের সদর দপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ পদে ফেরার চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী।

সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন মহিউদ্দিন। ২০১৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (প্রশাসন) পদে দায়িত্ব পালনকারী কয়েকজন কর্মকর্তার স্টাফ অফিসার হিসেবে কাজ করার সময় তিনি প্রভাবশালী একটি নেটওয়ার্ক গড়ে তোলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

বিশেষ করে রংপুর বিভাগের সাবেক বিভাগীয় কমিশনার ও তৎকালীন পরিচালক হাবিবুর রহমানের সময় প্রায় ৩ হাজার ৫০০ ফায়ার ফাইটার ও ড্রাইভার নিয়োগকে কেন্দ্র করে কোটি কোটি টাকার বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, ওই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় মহিউদ্দিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। তবে এ অভিযোগের স্বাধীন ও নিরপেক্ষ প্রমাণ এই প্রতিবেদকের হাতে পাওয়া যায়নি।

নারী-সংক্রান্ত একটি ঘটনার পর মহিউদ্দিন সাময়িক বরখাস্ত হন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এরপরও তিনি বিভিন্নভাবে অধিদপ্তরের কার্যক্রম ও কর্মকর্তাদের ওপর প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটি অংশের অভিযোগ, বর্তমানে ফায়ার সার্ভিসে নিয়োগ ও প্রশাসনিক কার্যক্রম তুলনামূলকভাবে স্বচ্ছ ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে পরিচালিত হওয়ায় আগের মতো প্রভাব বিস্তারের সুযোগ না পেয়ে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের মাধ্যমে অধিদপ্তরের বর্তমান মহাপরিচালক ও কয়েকজন পরিচালকের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এই চক্রের সঙ্গে মহিউদ্দিনের সম্পৃক্ততার অভিযোগও করেছেন তারা।

সংশ্লিষ্টদের আরও অভিযোগ, মহিউদ্দিন বর্তমানে বগুড়ার সাবেক এক প্রতিমন্ত্রীর নাম ব্যবহার করে অধিদপ্তরের বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে ভয়ভীতি দেখানো, ব্ল্যাকমেইল ও চাঁদা দাবির চেষ্টা করছেন।

এ ছাড়া অবৈধভাবে অর্জিত অর্থ দিয়ে তাঁর বাবা মোজাম্মেল হককে চেয়ারম্যান করে ‘ডিলিজেন্স অ্যাপিয়ারেন্স লিমিটেড’ নামে একটি তৈরি পোশাক প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে কোম্পানিটির মালিকানা, অর্থের উৎস এবং মহিউদ্দিনের সঙ্গে এর সরাসরি সম্পৃক্ততার বিষয়টি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মতো জরুরি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ও শৃঙ্খলা রক্ষায় এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটি অংশ।

তাদের দাবি, মহিউদ্দিনের বিরুদ্ধে অতীতের নিয়োগ প্রক্রিয়া, বদলি ও পদায়ন সংক্রান্ত কার্যক্রম, আর্থিক লেনদেন, চাঁদাবাজির অভিযোগ এবং বর্তমান সময়ে বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারীর ওপর প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ তদন্ত করা হোক। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী চাকরিচ্যুতি ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে সাময়িক বরখাস্তকৃত ওয়ারহাউজ ইন্সপেক্টর মহিউদ্দিনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে সংযুক্ত করা হবে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ে নিয়োগ-সংক্রান্ত নথি, বদলি ও পদায়নের রেকর্ড, আর্থিক লেনদেন এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মালিকানা ও অর্থের উৎস খতিয়ে দেখে একটি স্বাধীন তদন্ত করা প্রয়োজন। এতে অভিযোগগুলোর প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনের পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিসে জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

সর্বাধিক পঠিত

বেনাপোলে চেকপোস্টে পুলিশের অভিযান, ভারতীয় মাদক সিরাপসহ গ্রেপ্তার ১

৩,৫০০ ফায়ার ফাইটার নিয়োগে কোটি টাকার বাণিজ্যের অভিযোগ

আপডেট: ১২:২৭:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬

 

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের সাময়িক বরখাস্তকৃত ওয়ারহাউজ ইন্সপেক্টর মহিউদ্দিনের বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্য, বদলি সিন্ডিকেট, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন, ব্ল্যাকমেইল ও চাঁদাবাজির মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন-পরবর্তী পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক পরিচয় বদলে তিনি আবারও অধিদপ্তরের সদর দপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ পদে ফেরার চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী।

সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন মহিউদ্দিন। ২০১৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (প্রশাসন) পদে দায়িত্ব পালনকারী কয়েকজন কর্মকর্তার স্টাফ অফিসার হিসেবে কাজ করার সময় তিনি প্রভাবশালী একটি নেটওয়ার্ক গড়ে তোলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

বিশেষ করে রংপুর বিভাগের সাবেক বিভাগীয় কমিশনার ও তৎকালীন পরিচালক হাবিবুর রহমানের সময় প্রায় ৩ হাজার ৫০০ ফায়ার ফাইটার ও ড্রাইভার নিয়োগকে কেন্দ্র করে কোটি কোটি টাকার বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, ওই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় মহিউদ্দিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। তবে এ অভিযোগের স্বাধীন ও নিরপেক্ষ প্রমাণ এই প্রতিবেদকের হাতে পাওয়া যায়নি।

নারী-সংক্রান্ত একটি ঘটনার পর মহিউদ্দিন সাময়িক বরখাস্ত হন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এরপরও তিনি বিভিন্নভাবে অধিদপ্তরের কার্যক্রম ও কর্মকর্তাদের ওপর প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটি অংশের অভিযোগ, বর্তমানে ফায়ার সার্ভিসে নিয়োগ ও প্রশাসনিক কার্যক্রম তুলনামূলকভাবে স্বচ্ছ ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে পরিচালিত হওয়ায় আগের মতো প্রভাব বিস্তারের সুযোগ না পেয়ে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের মাধ্যমে অধিদপ্তরের বর্তমান মহাপরিচালক ও কয়েকজন পরিচালকের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এই চক্রের সঙ্গে মহিউদ্দিনের সম্পৃক্ততার অভিযোগও করেছেন তারা।

সংশ্লিষ্টদের আরও অভিযোগ, মহিউদ্দিন বর্তমানে বগুড়ার সাবেক এক প্রতিমন্ত্রীর নাম ব্যবহার করে অধিদপ্তরের বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে ভয়ভীতি দেখানো, ব্ল্যাকমেইল ও চাঁদা দাবির চেষ্টা করছেন।

এ ছাড়া অবৈধভাবে অর্জিত অর্থ দিয়ে তাঁর বাবা মোজাম্মেল হককে চেয়ারম্যান করে ‘ডিলিজেন্স অ্যাপিয়ারেন্স লিমিটেড’ নামে একটি তৈরি পোশাক প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে কোম্পানিটির মালিকানা, অর্থের উৎস এবং মহিউদ্দিনের সঙ্গে এর সরাসরি সম্পৃক্ততার বিষয়টি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মতো জরুরি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ও শৃঙ্খলা রক্ষায় এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটি অংশ।

তাদের দাবি, মহিউদ্দিনের বিরুদ্ধে অতীতের নিয়োগ প্রক্রিয়া, বদলি ও পদায়ন সংক্রান্ত কার্যক্রম, আর্থিক লেনদেন, চাঁদাবাজির অভিযোগ এবং বর্তমান সময়ে বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারীর ওপর প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ তদন্ত করা হোক। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী চাকরিচ্যুতি ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে সাময়িক বরখাস্তকৃত ওয়ারহাউজ ইন্সপেক্টর মহিউদ্দিনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে সংযুক্ত করা হবে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ে নিয়োগ-সংক্রান্ত নথি, বদলি ও পদায়নের রেকর্ড, আর্থিক লেনদেন এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মালিকানা ও অর্থের উৎস খতিয়ে দেখে একটি স্বাধীন তদন্ত করা প্রয়োজন। এতে অভিযোগগুলোর প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনের পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিসে জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।