যশোর প্রতিনিধি: যশোরে ‘হানি ট্র্যাপ’ চক্রের তিন সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার রাতে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল থেকে তাদের আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিরা হলেন—শংকরপুর এলাকার আলোচিত রাজা এবং তার দুই সহযোগী বৃষ্টি ও জারা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি নড়াইলের কালিয়া এলাকার এক যুবক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ল্যাপটপ বিক্রির বিজ্ঞাপন দেন। বিজ্ঞাপনটি দেখে রাজা ওই যুবকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং ল্যাপটপটি বিক্রির জন্য তাকে যশোরে আসতে বলেন।
পরে ওই যুবক ল্যাপটপ নিয়ে যশোরে এলে রাজা তাকে একটি ঘরে নিয়ে আটকে রাখেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সেখানে বৃষ্টি ও জারাকে ব্যবহার করে ওই যুবকের সঙ্গে আপত্তিকর ছবি তোলা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, পরবর্তীতে এসব ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ওই যুবকের কাছ থেকে একটি মোটরসাইকেল ও ল্যাপটপ নিয়ে নেওয়া হয়। একই সঙ্গে তার পরিবারের সদস্যদের ফোন করে ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা আদায় করা হয়। একপর্যায়ে ওই যুবককে ছেড়ে দেওয়া হয়।
বিষয়টি পরিবারের সদস্যরা জানতে পেরে ওই যুবককে উদ্ধার করেন। পরে তিনি থানায় অভিযোগ করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে কোতোয়ালি থানার এসআই আল আমিন ঘটনাটি তদন্ত শুরু করেন।
তদন্তের একপর্যায়ে শনিবার রাতে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় প্রথমে রাজাকে আটক করা হয়। পরে একই স্থান থেকে তার দুই সহযোগী বৃষ্টি ও জারাকেও আটক করা হয়।
কোতোয়ালি থানার এসআই আল আমিন জানান, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী যুবক থানায় মামলা করবেন। মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। পাশাপাশি চক্রটির সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশের ভাষ্য, চক্রটি নারীদের ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের প্রলোভন দেখিয়ে ব্যক্তিদের ফাঁদে ফেলত। পরে আপত্তিকর ছবি বা ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে টাকা, মূল্যবান সামগ্রীসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র হাতিয়ে নেওয়া হতো।
পুলিশ আরও জানায়, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে। এর আগেও তারা বিভিন্ন ঘটনায় আটক হয়েছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে।
তবে পুলিশের এসব অভিযোগ তদন্তাধীন এবং আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত আটক ব্যক্তিদের নির্দোষ হিসেবে গণ্য করার আইনি অধিকার রয়েছে।




















